ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া, বিপাকে ক্রেতা
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীতে নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছে। মাছ, মাংস, ডিম, ডাল ও সবজি থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের খাদ্যপণ্যের দাম এখন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে। ক্রেতারা বাজেট মেলাতে পারছেন না, প্রতিদিনের খাদ্য ক্রয়ই হয়ে উঠেছে চ্যালেঞ্জ।
গত দুই মাসে দেশি পেঁয়াজ, ডিম, মাংস, ডাল ও বিভিন্ন সবজির দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। টিসিবি পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ টাকা কেজিতে, ডিম ডজনপ্রতি ১৩৫-১৪৫ টাকা, দেশি মসুর ডাল কেজিপ্রতি ১৬০-১৮০ টাকা, করলা ১০০-১২০ টাকা, বরবটি ১০০-১২০ টাকা, নতুন শিম ২২০-২৪০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ১৮০-২০০ টাকায়। সবচেয়ে সস্তা সবজি পেঁপে ৩৫-৪০ টাকা কেজি। আলুর দাম কেজিপ্রতি ২৫-৩০ টাকা।
ক্রেতারা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। কাউরান বাজারের মানিক মিয়া বলেন, “সরকারের নজরদারি না থাকায় বাজারে অব্যবস্থা চলছে। মাছ-মাংস কিনতে গেলে কয়েক হাজার টাকা লাগছে।” মিরপুর শেওড়াপাড়া বাজারের মেজবা হোসেন বলেন, “ডিম, সবজি, মাছ—সবকিছুই আকাশচুম্বী। ছোট আয়ের মানুষ কোথায় যাবে?”
বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, টানা বৃষ্টির কারণে কৃষকের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ কমেছে। বাড্ডা বাজারের সবজি বিক্রেতা হারুন বলেন, পাইকারি বাজার থেকে দ্বিগুণ দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরায়ও দাম বাড়ছে এবং ক্রেতারা কম কিনছে, যা আমাদের লোকসানের কারণ।
বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ও তদারকির অভাবও দামের ওঠানামার জন্য দায়ী। ভোক্তা অধিকার রক্ষাকারী সংগঠন ‘ভোক্তা’র নির্বাহী পরিচালক খলিলুর রহমান সজল বলেন, “ভোক্তারা এই অস্বাভাবিক দামকে ভাগ্যের ফের মনে করছে। সরকারের নিয়মিত হস্তক্ষেপ থাকলে পরিস্থিতি এত ভয়াবহ হতো না।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, “মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে মানুষের দুর্ভোগ কমবে না। পাইকারি পর্যায়ে মনোপলি ভাঙা, খাদ্য আমদানিতে শুল্ক কমানো ও সরাসরি বিপণন চ্যানেল শক্তিশালী করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, বাজারে স্বচ্ছতা আনা অত্যন্ত জরুরি, না হলে খাদ্যদ্রব্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থাকবে।
এই অবস্থায় সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বাজারে স্বাভাবিক দাম ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি। সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কৃষক, পাইকার ও খুচরো ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয় থাকে এবং অযৌক্তিক দামের ঊর্ধ্বমুখী চাপ বন্ধ হয়। একই সঙ্গে ভোক্তারা যেন স্বচ্ছ এবং নিরাপদ চ্যানেলের মাধ্যমে তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করতে পারে, সেজন্য নীতি-নিয়ম কড়া করতে হবে। শুধুমাত্র বাজারে নিয়মিত হস্তক্ষেপ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর এই ধরনের চাপ কমানো সম্ভব।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ম্যাচ কখন, কোথায় দেখবেন সরাসরি
- বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া ম্যাচ: Live দেখুন এখানে
- আকিজ গ্রুপে চাকরি, আবেদন ৯ অক্টোবর পর্যন্ত
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান শিক্ষার্থীদের
- ঢাবির শহীদুল্লাহ্ হলের শিক্ষার্থী মুরাদের আকস্মিক মৃ/ত্যু
- আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ সেপ্টেম্বর)
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান
- একসঙ্গে ৬৮ এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার করল সরকার, দেখুন তালিকা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ সেপ্টেম্বর)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ সেপ্টেম্বর)
- প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র
- ডিসেম্বরে দেশে ফেরা নিয়ে নতুন ঘোষণা হাসিনার
- মাসিক ১,৪০০ ইউরো স্টাইপেন্ডসহ ইউরোপে মাস্টার্সের সুযোগ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৬ সেপ্টেম্বর)