ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
চীন–ভারতের অর্ডার ধরছে বাংলাদেশ,পোশাক রপ্তানিতে নতুন দিগন্ত
হাসান মাহমুদ ফারাবী
রিপোর্টার
হাসান মাহমুদ ফারাবী: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত আবারও বিশ্ববাজারে তার প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপে শুরুতে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হলেও, এখন সেটি বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগে রূপ নিয়েছে। প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় শুল্ক তুলনামূলক কম থাকায় মার্কিন উদ্যোক্তারা বাংলাদেশকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ইতোমধ্যেই চীন ও ভারতের হারানো অর্ডারের একটি বড় অংশ বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হয়েছে।
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির উজ্জ্বল চিত্র
ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের অধীনস্থ অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ থেকে ৪৯৮ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এ প্রবৃদ্ধি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২১.৬৬ শতাংশ বেশি। শুধু জুলাই মাসেই বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ৭০ কোটি ডলারের পোশাক।
এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৪ হাজার ৫৮০ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় মাত্র ৪.৯৬ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ, বৈশ্বিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি যেখানে সীমিত, সেখানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত দ্বিগুণেরও বেশি গতিতে এগিয়ে চলেছে।
দীর্ঘমেয়াদে আরও ইতিবাচক সম্ভাবনা
অটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৩৫.৮৭ শতাংশ। শুধু ২০২৪ সালেই রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭,৩৪২.৮৫ মিলিয়ন ডলার। এ ধারাবাহিকতা দেখিয়ে দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি দিন দিন আরও দৃঢ় হচ্ছে।
পোশাক রপ্তানিকারকরা জানান, পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশে অর্ডার প্রবাহ বাড়ছে। আগামী মৌসুমগুলোতে এই প্রবাহ আরও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৬ থেকে ৮ মাস ধরে তার প্রতিফলনও দেখা যাচ্ছে।
প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা ও ভবিষ্যৎ কৌশল
বাংলাদেশের শুল্কহার ২০ শতাংশের মধ্যে সীমিত থাকায় প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় এটি ক্রেতাদের কাছে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। বিশেষ করে চীন ও ভারতের অর্ডার স্থানান্তরিত হওয়ার প্রবণতা বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে যদি রপ্তানি পণ্যে ২০ শতাংশ মার্কিন কাঁচামাল থাকে, তাহলে পাল্টা শুল্ক আরও কমানোর সুযোগ তৈরি হবে—এ বিষয়েও আলোচনা চলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে ভিয়েতনাম ও মিয়ানমারের অর্ডারেরও একটি অংশ বাংলাদেশে আসতে পারে। এতে করে দেশের রপ্তানি আয় আরও বাড়বে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
ব্যবসায়ী নেতাদের আশাবাদ
পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান অনেক ভালো। ভারত ও চীনের অর্ডার বাংলাদেশে আসছে। স্বল্পমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো কম কিনবে, তবে দীর্ঘমেয়াদে আমাদের প্রবৃদ্ধি বাড়বেই। এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাজারে আরও শক্ত অবস্থান গড়ে তুলবে।”
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় একক বাজার। পাল্টা শুল্ক সত্ত্বেও যে বাংলাদেশ এই বাজারে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারছে—তা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। এখন সঠিক নীতি, প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা ও মানসম্মত উৎপাদন বজায় রাখলে, আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারবে।
এএসএম/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বিআইডব্লিউটিসির নতুন চেয়ারম্যান এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি হলেন অধ্যাপক ড. সালমা বেগম
- ইউজিসির তিন সদস্যকে অব্যাহতি দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে ১১ দফা দাবি বিনিয়োগকারীদের
- অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের ৫০ হাজার টাকা অনুদান, আবেদন যেভাবে
- বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক
- বিআইডব্লিউটিসি'র চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করলেন এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- ঢাবির লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ২৪ শিক্ষার্থী পেলেন ডিরেক্টরস অ্যাওয়ার্ড
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ জুলাই)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ জুলাই)
- সিন্ডিকেট সভা ঘেরাও করলেন ডাকসু নেতারা
- ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানালেন নবনিযুক্ত ১২ কর্মকর্তা
- গাজী নজরুলকে বিয়েতে অনড় ছিল মেয়েটি
- আজকের খেলার সময়সূচি (২৫ জুলাই)