ঢাকা, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩
চীন–ভারতের অর্ডার ধরছে বাংলাদেশ,পোশাক রপ্তানিতে নতুন দিগন্ত
হাসান মাহমুদ ফারাবী
রিপোর্টার
হাসান মাহমুদ ফারাবী: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত আবারও বিশ্ববাজারে তার প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপে শুরুতে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হলেও, এখন সেটি বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগে রূপ নিয়েছে। প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় শুল্ক তুলনামূলক কম থাকায় মার্কিন উদ্যোক্তারা বাংলাদেশকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ইতোমধ্যেই চীন ও ভারতের হারানো অর্ডারের একটি বড় অংশ বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হয়েছে।
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির উজ্জ্বল চিত্র
ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের অধীনস্থ অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ থেকে ৪৯৮ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এ প্রবৃদ্ধি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২১.৬৬ শতাংশ বেশি। শুধু জুলাই মাসেই বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ৭০ কোটি ডলারের পোশাক।
এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৪ হাজার ৫৮০ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় মাত্র ৪.৯৬ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ, বৈশ্বিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি যেখানে সীমিত, সেখানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত দ্বিগুণেরও বেশি গতিতে এগিয়ে চলেছে।
দীর্ঘমেয়াদে আরও ইতিবাচক সম্ভাবনা
অটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৩৫.৮৭ শতাংশ। শুধু ২০২৪ সালেই রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭,৩৪২.৮৫ মিলিয়ন ডলার। এ ধারাবাহিকতা দেখিয়ে দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি দিন দিন আরও দৃঢ় হচ্ছে।
পোশাক রপ্তানিকারকরা জানান, পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশে অর্ডার প্রবাহ বাড়ছে। আগামী মৌসুমগুলোতে এই প্রবাহ আরও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৬ থেকে ৮ মাস ধরে তার প্রতিফলনও দেখা যাচ্ছে।
প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা ও ভবিষ্যৎ কৌশল
বাংলাদেশের শুল্কহার ২০ শতাংশের মধ্যে সীমিত থাকায় প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় এটি ক্রেতাদের কাছে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। বিশেষ করে চীন ও ভারতের অর্ডার স্থানান্তরিত হওয়ার প্রবণতা বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে যদি রপ্তানি পণ্যে ২০ শতাংশ মার্কিন কাঁচামাল থাকে, তাহলে পাল্টা শুল্ক আরও কমানোর সুযোগ তৈরি হবে—এ বিষয়েও আলোচনা চলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে ভিয়েতনাম ও মিয়ানমারের অর্ডারেরও একটি অংশ বাংলাদেশে আসতে পারে। এতে করে দেশের রপ্তানি আয় আরও বাড়বে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
ব্যবসায়ী নেতাদের আশাবাদ
পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান অনেক ভালো। ভারত ও চীনের অর্ডার বাংলাদেশে আসছে। স্বল্পমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো কম কিনবে, তবে দীর্ঘমেয়াদে আমাদের প্রবৃদ্ধি বাড়বেই। এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাজারে আরও শক্ত অবস্থান গড়ে তুলবে।”
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় একক বাজার। পাল্টা শুল্ক সত্ত্বেও যে বাংলাদেশ এই বাজারে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারছে—তা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। এখন সঠিক নীতি, প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা ও মানসম্মত উৎপাদন বজায় রাখলে, আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারবে।
এএসএম/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা: দেখুন সবগুলো প্রশ্নের সঠিক সমাধান
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ, আবেদন শুরু
- বিকালে আসছে ১৯ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস
- ফের ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ
- সকালে না রাতে, কখন গোসল করা স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ভালো?
- দর্শন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার রায়ের মৃ’ত্যু
- ৪৭তম বিসিএস ভাইভার সময়সূচি প্রকাশ
- স্কলারশিপ দিচ্ছে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়, জেনে নিন আবেদন পদ্ধতি
- বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঢাবি অ্যালামনাই ইউকের বর্ষবরণ ও বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত
- বিনিয়োগকারীদের অর্থ সুরক্ষায় কড়াকড়ি, সিএমএসএফে নতুন সিদ্ধান্ত
- স্কুল-কলেজের প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ পরীক্ষার ফল আজই
- দেশে সোনার দামে বড় পতন
- বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১০০ ধাপ এগিয়েছে ঢাবি, যৌথভাবে দেশসেরা
- লন্ডনে বৈশাখী উৎসব ঘিরে ঢাবি অ্যালামনাই ইউকে’র নতুন যাত্রা
- এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে যা জানাল শিক্ষাবোর্ড