ঢাকা, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী মারধরে সংঘর্ষ, আহত ২০-এর বেশি

২০২৫ আগস্ট ৩১ ০৭:৫৯:৩৮

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী মারধরে সংঘর্ষ, আহত ২০-এর বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া–পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩০ আগস্ট) গভীর রাতে দর্শন বিভাগের এক ছাত্রী মারধরের শিকার হওয়ার জেরে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এতে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত সোয়া ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী ভাড়া বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করলে ভবনের দারোয়ান তাকে মারধর করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে থাকা শিক্ষার্থীরা দারোয়ানকে ধরতে চাইলে তিনি পালিয়ে যান। শিক্ষার্থীরা ধাওয়া করলে স্থানীয়রা ইট–পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। মুহূর্তেই সংঘর্ষ ও ধাওয়া–পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ছাত্রী দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি জানান, রাত ১২টার মধ্যেই বাসায় ফিরেছিলেন। কিন্তু দারোয়ান দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানান এবং অশালীন ভাষায় কথা বলেন। পরে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তিনি গলায় চড় মারেন। ছাত্রী বলেন, “আমি প্রতিবাদ করলে দারোয়ান আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং লাথি মারতে থাকেন। আমার রুমমেটরা এগিয়ে এলে স্থানীয়রাও জড়ো হন।”

সংঘর্ষে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের নেতা আল মাসনূনসহ অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। মাসনূনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সংগঠনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখ্য সংগঠক সাব্বির হোসেন অভিযোগ করেন, মাসনূনকে কোপানো হয়েছে।

আহতদের মধ্যে আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ হোসেন রয়েছেন। তাকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে চিকিৎসক মোহাম্মদ টিপু সুলতান বলেন, “তার চোখের নিচে গভীর ক্ষত হয়েছে, যা চশমার কারণে আরও বাড়ে। ক্ষতস্থানে তিনটি সেলাই দিতে হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

ঘটনার পর রাত পৌনে ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মো. কোরবান আলী, সহকারী প্রক্টর নাজমুল হোসাইন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তারা ২ নম্বর গেট এলাকায় প্রবেশ করতে পারেননি। পুরো জায়গাটি তখন স্থানীয়দের নিয়ন্ত্রণে ছিল। শেষ পর্যন্ত রাত সাড়ে ৩টার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন।

এর আগে সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ সংবাদ মাধ্যমকে জানান, “আমি ক্যাম্পাসে নেই। তবে জানতে পেরেছি নাজমুল স্যার ও কোরবান স্যার দুজনই আহত হয়েছেন। সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, তারা পথে রয়েছেন।”

এপিএন/

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

বিশ্ববিদ্যালয় এর অন্যান্য সংবাদ