ঢাকা, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২
ন্যাশনাল টি’র রাইট ইস্যুতে স্বতন্ত্র পরিচালকের সুবিধা নিয়ে বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি)-এর স্বতন্ত্র পরিচালক মামুন রশিদ-এর ২ লাখ ৫০ হাজার অবিক্রিত রাইট শেয়ার কেনার সিদ্ধান্তের কারণে সাধারণ শেয়ারহোল্ডার এবং বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) এই ঘোষণার পর এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইন অনুযায়ী শুধুমাত্র রেকর্ড ডেটে যাদের নাম আছে, তারাই রাইট শেয়ার পাওয়ার যোগ্য।
এনটিসির একজন শেয়ারহোল্ডার ডুয়া নিউজকে জানান, বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এনটিসি'র শেয়ারের দাম ছিল ১৯৫ টাকা। তিনি অভিযোগ করেন, "যদি মামুন রশিদ এই রাইট শেয়ারগুলো কেনেন, তাহলে তিনি প্রতিটি শেয়ারে প্রায় ৭৫ টাকা তাৎক্ষণিক লাভ করবেন, যার মোট পরিমাণ হবে ১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। অথচ তিনি এই শেয়ারগুলোর জন্য যোগ্য নন।"
এ বিষয়ে কথা বললে সাবেক ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদ মামুন রশিদ সংবাদ মাধ্যমকে জানান, "২০২২ সালে কোম্পানি রাইট শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করে। কিন্তু সাধারণ বিনিয়োগকারীদের থেকে পর্যাপ্ত আবেদন না আসায় এটি সম্পন্ন করা যায়নি।" তিনি আরও বলেন, "অনেক চেষ্টার পরেও আমরা সাবস্ক্রিপশন প্রক্রিয়া শেষ করতে পারিনি। তাই শেষ উপায় হিসেবে, বিএসইসি ও অন্যান্য অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে আমি সহ কয়েকজন পরিচালক অবিক্রিত শেয়ারের একটি বড় অংশ কেনার সিদ্ধান্ত নিই। এর অংশ হিসেবে আমি শেয়ার কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছি। যদি নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনুমোদন দেয়, তবেই আমি কিনব। যদি না দেয়, তাহলে কিনব না। আমি শুধু আইন অনুযায়ী শেয়ার কেনার আমার আগ্রহ প্রকাশ করেছি, এর বেশি কিছু নয়।"এ বিষয়ে বিএসইসি'র পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, "রাইট শেয়ারের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র তারাই শেয়ার পাওয়ার যোগ্য, যাদের নাম রেকর্ড ডেটে তালিকাভুক্ত আছে। তবে যদি কোনো পরিচালক তাদের অধিকার ত্যাগ করেন, তবে অন্য কেউ তা নিতে পারেন, কিন্তু এই বিষয়টি অবশ্যই প্রস্তাবপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। এনটিসি’র ক্ষেত্রে ঠিক কী ঘটেছে, তা আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে।"
বিষয়টি নিয়ে কোম্পানি সচিব এ কে আজাদ চৌধুরী সংবাদ মাধ্যমকে অবশ্য ভিন্ন কথা বলেছেন। তিনি বলেন, "আমরা একটি বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে এই অনুমোদন নিয়েছি যে, যদি কোনো রাইট শেয়ার অবিক্রিত থাকে, তাহলে বিদ্যমান পরিচালকরা তা কিনতে পারবেন। এর ভিত্তিতেই মামুন রশিদকে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। রেকর্ড ডেট কেবল সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য প্রযোজ্য, পরিচালকদের জন্য নয়।"
২০২২ সালের ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ইজিএম-এ সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, যদি কোনো রাইট শেয়ার অবিক্রিত থাকে, তবে বিদ্যমান পরিচালকরা নির্ধারিত মূল্যে আনুপাতিক হারে সেগুলো কিনতে পারবেন। যদি এরপরও শেয়ার অবিক্রিত থাকে, তাহলে আগ্রহী অন্যান্য শেয়ারহোল্ডাররা সেগুলো কিনতে পারবেন। তবে সেই সিদ্ধান্তে স্বতন্ত্র পরিচালকদের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ ছিল না।
রাইট শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ, কার্যনির্বাহী মূলধনের চাহিদা পূরণ এবং চা বাগান ও কারখানার উন্নয়নের পরিকল্পনা ছিল। তবে গত বছরের ১৭ অক্টোবর বিএসইসি নির্দেশ দেয় যে, সরকারের ৫১ শতাংশ শেয়ারহোল্ডিং নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে না। অভিযোগ আছে, এই নির্দেশ উপেক্ষা করে কোম্পানিটি ইতিমধ্যেই ২৯ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করেছে।
২২ সালের বিএসইসি-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, সব তালিকাভুক্ত কোম্পানির ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকা হতে হবে। এই শর্ত পূরণের জন্যই এনটিসি রাইট শেয়ার ইস্যু করার উদ্যোগ নেয়। বেশ কয়েকবার সময়সীমা বাড়ানো সত্ত্বেও শেয়ার বিক্রি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। গত ১৩ আগস্ট চতুর্থ রাউন্ডের আবেদন শেষ হয়, এবং এখনো কয়েক লাখ শেয়ার অবিক্রিত রয়েছে।
গত বছরের এপ্রিলে বিএসইসি এনটিসি’র ২ কোটি ৩৪ লাখ রাইট শেয়ার ১১৯ টাকা ৫৩ পয়সা করে (১০৯ টাকা ৫৩ পয়সা প্রিমিয়ামসহ) ইস্যু করার অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে সরকার, আইসিবি, এবং সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের ১ কোটি ২৪ লাখ শেয়ার, স্পন্সর-পরিচালকদের ১৩ লাখ ৮ হাজার এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের প্রায় ৯৬ লাখ শেয়ার পাওয়ার কথা ছিল।
এএসএম/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে শেয়ারবাজারের খান ব্রাদার্স
- বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে শেয়ারবাজারের ১১ কোম্পানিতে
- মূলধন ঘাটতিতে দুই ব্রোকারেজ হাউজ, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
- চলতি বছর শেয়ারবাজারে আসছে রাষ্ট্রায়াত্ব দুই প্রতিষ্ঠান
- মার্জারের সাফল্যে উজ্জ্বল ফার কেমিক্যাল
- সাকিবের মোনার্কসহ ৮ ব্রোকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
- তালিকাভুক্ত কোম্পানির ১৫ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা
- বিমা আইন সংস্কার: বিনিয়োগ ও আস্থায় নতুন দিগন্ত
- শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর প্রথম ‘নো ডিভিডেন্ড’
- শেয়ারবাজারে রেকর্ড: বছরের সর্বোচ্চ দামে ১৭ কোম্পানি
- তিন শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি, ডিএসইর সতর্কবার্তা
- ডেনিম উৎপাদন বাড়াতে এভিন্স টেক্সটাইলসের বড় পরিকল্পনা
- চলতি সপ্তাহে ঘোষণা আসছে ৫ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস
- ব্যাখ্যা শুনতে ডাকা হচ্ছে শেয়ারবাজারের পাঁচ ব্যাংককে
- ব্যাংকিং খাতে এমডিদের পদত্যাগের ঢেউ: সুশাসনের সংকট স্পষ্ট