ঢাকা, রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২

শ্রম আইন সংশোধন নিয়ে ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা

২০২৫ আগস্ট ৩০ ২০:২৯:১৪

শ্রম আইন সংশোধন নিয়ে ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা

শ্রম আইন সংশোধনের প্রস্তাব নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, মাত্র ২০ জন শ্রমিকের মাধ্যমে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের সুযোগ, বাধ্যতামূলকভাবে ভবিষ্যৎ তহবিল চালুর মতো বেশ কিছু প্রস্তাব শিল্পখাতে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। এর ফলে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে, উৎপাদনশীলতা কমবে এবং রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শনিবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) কার্যালয়ে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ) এর নতুন কমিটির সঙ্গে সাংবাদিকদের আলাপকালে ব্যবসায়ীরা এসব আশঙ্কার কথা জানান। তারা বলেন, সরকারের প্রস্তাবিত ১০১টি সংশোধনীর মধ্যে ৯টি বিষয়ে একমত হতে পারেননি মালিকপক্ষ। আলোচনা ছাড়াই সরকার আইন সংশোধনে এগোতে চাইছে বলেও অভিযোগ তাদের।

বিইএফ সভাপতি ফজলে শামীম এহসান জানান, গত ২৬ আগস্ট ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) ৮৯তম সভায় শ্রম আইন সংশোধনের খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে মালিকপক্ষ সমঝোতার অবস্থান নিলেও কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে গুরুতর আপত্তি জানায়। বিশেষ করে মাত্র ২০ জন শ্রমিক দিয়ে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের সুযোগ থাকলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে একাধিক নামমাত্র ইউনিয়ন তৈরি হবে, যা বিভাজন, বিরোধ ও উৎপাদনশীলতা হ্রাস করবে।

তিনি আরও বলেন, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়া অতিরিক্ত সহজ করে দিলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও নিরুৎসাহিত হবেন। কারণ তারা স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। এ ধরনের পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানকেও বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

এ বিষয়ে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ভিয়েতনামে মাত্র একটি ট্রেড ইউনিয়ন আছে, যা সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে নিয়ন্ত্রিত। তারপরও শ্রমিকদের অধিকার রক্ষিত হচ্ছে। তাহলে বাংলাদেশকে কম্বোডিয়ার মতো পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়ার প্রয়োজন কী? এ প্রস্তাব বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ভবিষ্যৎ তহবিলের প্রস্তাব নিয়েও আপত্তি তুলেছেন মালিকপক্ষ। তাদের দাবি, আইনে বর্তমানে বলা আছে—৭০ শতাংশ শ্রমিক লিখিতভাবে চাইলে ওই শিল্পে ভবিষ্যৎ তহবিল চালু করতে হবে। কিন্তু নতুন সংশোধনীতে বলা হচ্ছে, ১০০ জন শ্রমিক থাকলেই তহবিল চালু হবে। ব্যবসায়ীদের মতে, শ্রমিকরাই অতীতে এ ধরনের তহবিল চায়নি। কারণ এতে মালিকদের পাশাপাশি শ্রমিকদেরও অর্থ প্রদান করতে হয়। তাই এ ক্ষেত্রে সীমা কমিয়ে ৭০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ করা যেতে পারে।

বিইএফের সেক্রেটারি জেনারেল ফারুক আহমেদ বলেন, “আমরা সরকার বা শ্রমিকদের বিপক্ষে নই। আমাদের লক্ষ্য সুষ্ঠু শ্রমবাজার গড়ে তোলা। শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশও বজায় রাখতে হবে।”

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত