ঢাকা, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
ভোট জালিয়াতির অভিযোগে উত্তাল ভারতের রাজনীতি
গত বছর টানা তৃতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মাত্র ১৫ মাসের মধ্যেই নরেন্দ্র মোদী তার প্রধান বিরোধী দলগুলোর কাছ থেকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও শরিকদের সমর্থনে সরকার গঠন করা বিজেপি এখন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং তৃণমূলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা অভিষেক ব্যানার্জীর মতো শীর্ষস্থানীয় নেতাদের তোলা 'ভোট জালিয়াতি'র অভিযোগের কারণে বেশ অস্বস্তিতে রয়েছে।
রাহুল গান্ধী লাগাতার অভিযোগ করে আসছেন যে, ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচন একটি ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকার ভিত্তিতে হয়েছে। বুধবার বিহারের মুজফফরপুরে এক নির্বাচনি সভায় তিনি অভিযোগ করেন, বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে এবং জাল ভোটারদের নাম যুক্ত করে মোদী ভোটে জিতেছেন। তিনি এই কাজে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করার জন্য অভিযুক্ত করেন।
কংগ্রেসের সঙ্গে মতভেদ থাকা সত্ত্বেও তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে এবং আরজেডির মতো প্রধান বিরোধী দলগুলো এই ইস্যুতে রাহুল গান্ধীর পাশে দাঁড়িয়েছে। তৃণমূলের অভিষেক ব্যানার্জী সরাসরি বলেছেন, যেহেতু বর্তমান সরকার একটি ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকার ভিত্তিতে ক্ষমতায় এসেছে, তাই তাদের কোনো বৈধতা থাকতে পারে না। তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং তার মন্ত্রিসভার পদত্যাগ দাবি করে লোকসভা অবিলম্বে ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিরোধীদের এই অভিযোগ ক্রমশই জোরদার হচ্ছে। বিজেপি যদিও এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে, তবে তারা বিহারসহ বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকায় ব্যাপক সংশোধনের (এসআইআর) প্রয়োজনীয়তার দাবিকে সমর্থন জানাচ্ছে। জাতীয় নির্বাচন কমিশনও স্বীকার করেছে যে কিছু রাজ্যে ভুয়া নাম রয়েছে এবং সেগুলোর জন্য বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা (এসআইআর) দরকার।
রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, এই ভোট চুরির প্রক্রিয়া গুজরাট থেকে শুরু হয়েছে এবং ২০১৪ সালে তা জাতীয় স্তরে আনা হয়। তার দাবি, মোদী গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন এই 'ভোট চুরির মডেল' তৈরি করেছেন, যা তিনি ২০১৪, ২০১৯ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে ব্যবহার করেছেন।
বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছেন, বিহারের ভোটার তালিকা যদি ভুল হয়, তাহলে মহারাষ্ট্র বা গুজরাটের তালিকা নিখুঁত কীভাবে হতে পারে? যেহেতু ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচন একটি ত্রুটিপূর্ণ তালিকার ভিত্তিতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তাই মোদীর পদত্যাগ এবং লোকসভা ভেঙে দেওয়ার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।
রাহুল গান্ধী বলেন, এতদিন তিনি চুপ ছিলেন কারণ তাদের হাতে প্রমাণ ছিল না। তবে মহারাষ্ট্রে তারা প্রমাণ পেয়েছেন, যেখানে লোকসভা নির্বাচনের পর প্রায় এক কোটি অতিরিক্ত নাম যোগ করা হয়েছে, যা বিজেপির পক্ষে গেছে। তিনি শিগগিরই এই প্রমাণ সবার সামনে পেশ করবেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে, বিজেপি এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। বিজেপির মুখপাত্র শাহনাজ পুনেওয়ালা পাল্টা প্রশ্ন করেছেন যে, নরেন্দ্র মোদী গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় যখন কেন্দ্রে কংগ্রেস সরকার ছিল, তখন কি কংগ্রেসই তাদের নিযুক্ত নির্বাচন কমিশনারদের দিয়ে মোদীকে ভোট চুরি করিয়েছিল?
যদিও নির্বাচন কমিশন রাহুল গান্ধীর অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো হলফনামা না পাওয়ায় তার অভিযোগ নিয়ে কোনো তদন্ত হবে না বলে জানিয়েছে, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে এটি মোদী সরকারের জন্য এক শক্ত চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সরকার কীভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ‘ছয় মাসে জুলাই সনদের একটি অক্ষরও বাস্তবায়ন করেনি বিএনপি’
- মেসির ১০ নম্বর জার্সি কি অবসর নিতে পারবে?
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ
- বক্তৃতায় দায় সারছে কমিশন, ধসের মুখে পড়েছে বাজার
- মেঘনা গ্রুপে বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ
- সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ডিজিটাল ঋণ চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক