ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
"বাংলাদেশি" আখ্যা দিয়ে অপমান: মমতার ক্ষোভ
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন যে বাংলাভাষী মানুষকে "বাংলাদেশি" আখ্যা দিয়ে রাজ্য থেকে বিতাড়িত করার কোনও প্রচেষ্টা সফল হতে দেবেন না। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছেন, "আমরা প্রত্যেক বাংলাভাষীকে ‘বাংলাদেশি’ বলে হেনস্তা ও দেশছাড়া করতে দেব না। এই ধরনের কোনও চেষ্টা হলে আমরা তার জবাব দেব।"
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার এই হুঁশিয়ারি আসে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে কড়া আক্রমণ করেন। তিনি রাজ্যের বাসিন্দাদের উদ্দেশে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র 'দ্য গডফাদার'-এর সংলাপের অনুকরণে বলেছেন, "অন্য নথি ছুড়ে ফেলুন, আধার তুলে নিন।"
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের সম্ভাব্য পদক্ষেপকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিতর্কিত জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) আইন কার্যকর করার বিজেপির কৌশল বলে অভিহিত করেছেন। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন, "কেউ যদি জরিপ করতে আসে, কখনোই আপনার তথ্য দেবেন না। তারা আপনার বিস্তারিত তথ্য নেবে এবং নাম কেটে দেবে। আপনার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখুন, সেখানে নাম আছে কি না। আধার কার্ড রাখুন... এটা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।"
মমতা অভিযোগ করেছেন যে কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ৫০০টি দল মোতায়েন করেছে, যাদের উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, "আমরা প্রত্যেক বাংলাভাষীকে ‘বাংলাদেশি’ বলে হেনস্তা কিংবা দেশছাড়া করতে দেব না।"
তিনি বিজেপিকে "ললিপপ সরকার" আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন যে তারা বিডিও (ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার) এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের চাকরি কেড়ে নেওয়া বা কারাগারে পাঠানোর হুমকি দিচ্ছে। তিনি বলেন, "নির্বাচন কমিশন আসে এবং যায়... কিন্তু রাজ্য সরকার থেকে যায়।" মমতা আরও বলেন, "আমি নির্বাচন কমিশনকে সম্মান করি। কিন্তু আপনারা জানেন, ললিপপ খাওয়া শিশুদের জন্য ঠিক আছে। কিন্তু বড়রা যদি কোনও রাজনৈতিক দলের ললিপপ খায়, সেটা ঠিক নয়। আমি শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত কারও ভোটাধিকার কেড়ে নিতে দেব না।"
তিনি দেশের গরিব মানুষের অধিকার রক্ষার অঙ্গীকার করে বলেন, "আপনি মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছেন। গরিব মানুষকে ‘বাংলাদেশি’ বলে নির্যাতন করছেন। কিন্তু গরিবরা আমার হৃদয়ে আছেন। আমি জাতপাত মানি না, আমি মানবতা মানি।"
এর আগে, মমতার ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও নির্বাচন কমিশনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, "একজন মানুষেরও যদি ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে ১০ লাখ বাঙালি দিল্লি অভিমুখে পদযাত্রা করবে, রাজপথ ঘেরাও করবে।"
বাংলা ভাষাকে অপমান করার জন্য বিজেপিকে তীব্র সমালোচনা করে মমতা বলেন, "তারা বাংলা ভাষাকে অপমান করছে।" সম্প্রতি দিল্লি পুলিশের এক চিঠিতে বাংলাকে ‘বাংলাদেশের জাতীয় ভাষা’ বলা হয়েছিল, যা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, "যদি বাংলা না থাকে, তাহলে জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গান কোন ভাষায় লেখা হয়েছে? স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার অবদান ভুলিয়ে দিতে চায় তারা। আমরা এই ভাষাগত সন্ত্রাস সহ্য করব না।"
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের ১ম টি-টোয়েন্টি-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা: দেখুন সবগুলো প্রশ্নের সঠিক সমাধান
- স্কুলছাত্রী থেকে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধার সাথে অন্তরঙ্গের পর ভিডিও কুয়েট ছাত্রের
- বিকালে আসছে ১৯ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস
- বুলগেরিয়ার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হলো ঢাবি শিক্ষার্থীর প্রামাণ্যচিত্র
- বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সিনেট সদস্য হলেন ৫ সংসদ সদস্য
- বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১০০ ধাপ এগিয়েছে ঢাবি, যৌথভাবে দেশসেরা
- এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে যা জানাল শিক্ষাবোর্ড
- বদলে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম
- ঢাবি ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
- নবনিযুক্ত সিন্ডিকেট সদস্য মোর্শেদ হাসান খানকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শুভেচ্ছা
- ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ বাসা থেকে উদ্ধার
- স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন
- প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে ভাইভার সময়সূচি নিয়ে যা জানা গেল
- বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রে