ঢাকা, বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২
বিশ্বে তৈরি হচ্ছে প্রথম এইডস টিকা
রাশিয়া প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ, অ্যাকোয়ার্ড ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রোম (এইডস)-এর জন্য একটি টিকা তৈরি করছে। যদি প্রকল্পটি সফল হয় তবে এটি হবে বিশ্বের প্রথম এইডস টিকা।
রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ব বার্তাসংস্থা রিয়া নভোস্তি-এর বরাত দিয়ে রাশিয়া টুডে জানিয়েছে, দেশের চিকিৎসা ও অনুজীববিজ্ঞান গবেষণা সংস্থা গামালিয়া ন্যাশনাল সেন্টার ইতোমধ্যেই টিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যে অথবা তারও কম সময়ের মধ্যে টিকাটি বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
গামালিয়া ন্যাশনাল সেন্টারের মহামারিবিদ্যা বিভাগের প্রধান ভ্লাদিমির গুশচিন বলেন, এই টিকা সর্বাধুনিক ম্যাসেঞ্জার আরএনএ (mRNA) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হবে। mRNA পদ্ধতিতে টিকা তৈরি করতে মৃত বা প্রক্রিয়াজাত জীবাণু ব্যবহার করা হয় না। পরিবর্তে একটি বিশেষ প্রোটিন ব্যবহার করা হয় যা দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশের পর নির্দিষ্ট ভাইরাসের বিরুদ্ধে মানুষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে।
গুশচিন আরও বলেন, “এই টিকার মূল উপাদান হবে একটি প্রতিষেধক তরল বা অ্যান্টিজেন যা মানুষের শরীরে বিস্তৃত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করবে। আমরা ইতোমধ্যেই প্রতিষেধক তরল তৈরির কাজ শুরু করেছি এবং আশা করছি দুই বছরের মধ্যে এইডসের টিকাটি বাজারে আনতে পারব।”
এইডস হলো রোগ এবং তার উপসর্গের সমষ্টি। হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস (এইচআইভি) এইডসের জন্য দায়ী। এই ভাইরাস মানবদেহে প্রবেশ করলে স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস হয় ফলে রোগীরা সহজেই বিভিন্ন সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হন যা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
প্রথমবার ১৯৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এইডসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। একই বছর সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (CDC) ভাইরাসটি শনাক্ত করে। এইচআইভি সাধারণত অনিরাপদ যৌনমিলন, সিরিঞ্জের মাধ্যমে বা প্রসূতী মায়ের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। গর্ভবতী মায়ের দেহে যদি ভাইরাস থাকে তবে সন্তানও আক্রান্ত হতে পারে।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি এইডসের প্রকোপ দেখা যায় সাহারা ও নিম্ন আফ্রিকার অঞ্চলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে প্রায় ১০ লাখ মানুষ এইডসে মারা গিয়েছিলেন। তবে ২০১০ সালের পর থেকে সংক্রমণের হার হ্রাস পাচ্ছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে এইডস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১৩ লাখ যা ২০১০ সালের তুলনায় ৪০% কম।
এর আগে বিভিন্ন দেশ এইডসের টিকা তৈরির প্রচেষ্টা চালিয়েছিল, কিন্তু সফল হয়নি। গামালিয়া ন্যাশনাল সেন্টার বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় জীবাণু গবেষণা প্রতিষ্ঠান। করোনার প্রথম টিকা, স্পুটনিক ৫, এখানে তৈরি হয় এবং তার কার্যকারিতা ৯৭%-এর বেশি। বর্তমানে এই টিকা বিশ্বের ৭০টির বেশি দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে।
তথ্য : আরটি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বিপিএল ২০২৬ ফাইনাল: রাজশাহী বনাম চট্টগ্রাম-খেলাটি সরাসরি দেখুন
- প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ, তালিকা দেখুন এখানে
- ইপিএস প্রকাশ করেছে তিন কোম্পানি
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এপেক্স ট্যানারি
- ইপিএস প্রকাশ করেছে শাহজীবাজার পাওয়ার
- সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শীতবস্ত্র বিতরণ
- ইপিএস-ডিভিডেন্ড প্রকাশ করবে ১৮ কোম্পানি
- ইপিএস প্রকাশ করেছে আনোয়ার গ্যালভানাইজিং
- শেয়ারবাজারে সূচক হ্রাস, বিনিয়োগকারীদের মনোবল অক্ষুণ্ণ
- ইপিএস প্রকাশ করবে ৫৮ কোম্পানি
- নবম পে-স্কেল ২০২৫: ২০টি গ্রেডের পূর্ণাঙ্গ বেতন তালিকা প্রকাশ
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ’ ইউনিটের ফলাফল প্রকাশ
- রাতেই হতে পারে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ফল, যেভাবে দেখবেন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইনটেক
- দর সংশোধনের মাঝেও ফুরফুরে বিনিয়োগকারীরা