ঢাকা, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
তিন দেশে বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ কার্ড ব্যবহার
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে বিদেশে ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রিপেইড কার্ড ব্যবহারের প্রবণতায় ভিন্নতা রয়েছে। জুন মাসে বিদেশে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি খরচ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। অন্যদিকে, ডেবিট কার্ড দিয়ে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে যুক্তরাজ্যে এবং প্রিপেইড কার্ডের ব্যবহার বেশি হয়েছে সৌদি আরবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের “বাংলাদেশে এবং দেশের বাইরে কার্ড ব্যবহারের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র” শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে হওয়া লেনদেনের ১৪ শতাংশ ছিল যুক্তরাষ্ট্রে। এর বিপরীতে, ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে হওয়া খরচের ১৩ শতাংশ ছিল যুক্তরাজ্যে এবং প্রিপেইড কার্ডের ২৪ শতাংশ লেনদেন হয়েছে সৌদি আরবে। এই সময়ে বাংলাদেশে আসা বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে মার্কিন কার্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি, যা মোট লেনদেনের ৩৫ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ড ব্যবহারের ধরনেরও বিস্তারিত চিত্র ফুটে উঠেছে। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীরা সবচেয়ে বেশি খরচ করেছেন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে, যা মোট ব্যয়ের ৩৩.৩০ শতাংশ। অন্যান্য প্রধান খাতগুলো ছিল রিটেইল সার্ভিস, পরিবহন, ফার্মেসি এবং পোশাক। অন্যদিকে, প্রিপেইড কার্ড ব্যবহারকারীদের মধ্যে ভিন্ন প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। তাদের মোট লেনদেনের ২৭.৫০ শতাংশ ছিল নগদ অর্থ উত্তোলন। এর কারণ হিসেবে ভিসা কর্তৃপক্ষ জানায়, সৌদি আরবের মতো দেশে, যেখানে বাংলাদেশি প্রিপেইড কার্ড ব্যবহারকারীরা বেশি লেনদেন করেন, সেখানে ছোট বিক্রেতাদের কাছে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার সীমিত। ফলে সুবিধার জন্য তারা নগদ টাকা তোলাকে বেশি প্রাধান্য দেন।
গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ডেবিট, ক্রেডিট এবং প্রিপেইড কার্ডের ব্যবহার ব্যাপক হারে বেড়েছে। কার্ড ইস্যু হওয়ার সংখ্যা ১৪০ শতাংশ এবং মোট লেনদেনের পরিমাণ ২৭৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জুন ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫-এর মধ্যে দেশের ভেতরে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার নিয়মিতভাবে বেড়েছে। অন্যদিকে, বিদেশে লেনদেন কিছুটা ওঠানামা করলেও জুন ২০২৫-এ তা আগের বছরের তুলনায় ৪.৮০ শতাংশ বেশি ছিল।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জুন মাসে বিদেশি পর্যটকদের চেয়ে বাংলাদেশি নাগরিকরা বিদেশে কার্ড ব্যবহার করে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি খরচ করেছেন। এই মাসে মোট ৯.৫৭ বিলিয়ন টাকা দেশের বাইরে গেছে, যেখানে বিদেশি নাগরিকদের মাধ্যমে দেশে এসেছে মাত্র ১.৯৫ বিলিয়ন টাকা। ভিসা কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘ ঈদের ছুটির কারণে জুন মাসে ব্যবসায়িক ও সাধারণ বিদেশি ভ্রমণকারীদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
এছাড়াও, প্রতিবেদনটিতে দেখা যায় যে, জুন মাস পর্যন্ত ৪৪টি তফসিলি ব্যাংক এবং একটি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান মোট ৩০১.৭ বিলিয়ন টাকার ক্রেডিট কার্ড ঋণ অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ৯৮.৭১ বিলিয়ন টাকা ঋণ হিসেবে বকেয়া রয়েছে।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ সেপ্টেম্বর)
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ‘ছয় মাসে জুলাই সনদের একটি অক্ষরও বাস্তবায়ন করেনি বিএনপি’
- ফের বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল
- ঢাবিতে গ্রিন নেক্সাস কর্মসূচি সমাপ্ত
- মেসির ১০ নম্বর জার্সি কি অবসর নিতে পারবে?
- শুক্রবার ঢাকার যেসব মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ