ঢাকা, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন: রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছাড়া কি সম্ভব?
বাংলাদেশ ব্যাংকে (বিবি) পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে তারা বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় আসার পর যদি এসব সংস্কার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ না হয়, তাহলে এই পরিবর্তনগুলো কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ সভায় ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডিন্যান্স (সংশোধন) ২০২৫-এর খসড়াটি আরও আলোচনার জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সুপারিশ অনুযায়ী প্রণীত খসড়া অর্ডিন্যান্সে বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যাপক সুশাসনমূলক সংস্কারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর প্রধান কিছু দিক হলো, গভর্নরের পদকে মন্ত্রীর সমতুল্য করা, একটি ছয় সদস্যের সার্চ কমিটির মাধ্যমে গভর্নর নিয়োগ এবং পর্ষদে কোনো কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা না থাকা।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, সরকার রাজনৈতিক প্রভাব সীমিত করার চেষ্টা করলেও, রাজনীতিকরা চাইলেই এই সংস্কারকে বাধাগ্রস্ত করতে পারেন। তাই এই সংস্কারকে "স্বার্থপরতার বাইরে গিয়ে" বিবেচনা করার জন্য রাজনীতিকদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "তাদের বুঝতে হবে যে বাংলাদেশ ব্যাংক যদি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তাহলে তা দেশের অর্থনীতি এবং রাজনীতির জন্যও ভালো হবে।"
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)-এর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতার দাবি অনেক পুরোনো, কিন্তু শুধু আইন দিয়ে তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক অঙ্গীকার জরুরি এবং ভবিষ্যৎ সংসদকে এই অর্ডিন্যান্সের অনুমোদন দিতে হবে।
বিষয়টি নিয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, তিনি নীতিগতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে, তবে তা "যোগ্যতা, সততা ও দক্ষতার" মাধ্যমে অর্জন করতে হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "যদি আপনি যোগ্য না হয়ে চেয়ারে বসে থাকেন, তাহলে স্বায়ত্তশাসন দিয়ে কী লাভ?" তিনি বলেন, "পৃথিবীর কোনো দেশেই পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন নেই।"
সালেহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের সংস্কার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলেছে এবং দলগুলো এই সংস্কারকে সমর্থন ও চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। আইএমএফ-এর ঋণ কর্মসূচির শর্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন সংক্রান্ত খসড়াটি সেপ্টেম্বরের মধ্যে উপদেষ্টা কমিটি দ্বারা অনুমোদিত হতে হবে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে এটি অধ্যাদেশ হিসেবে জারি করতে হবে।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ‘ছয় মাসে জুলাই সনদের একটি অক্ষরও বাস্তবায়ন করেনি বিএনপি’
- মেসির ১০ নম্বর জার্সি কি অবসর নিতে পারবে?
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ
- মেঘনা গ্রুপে বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ
- বক্তৃতায় দায় সারছে কমিশন, ধসের মুখে পড়েছে বাজার
- সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ডিজিটাল ঋণ চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক