ঢাকা, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
নতুন দিগন্তের সূচনা: প্রথমবারের মতো হাইকোর্টে বিচারপতি নিয়োগে ভাইভা
দেশের উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। ইতিহাসে এই প্রথম হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নিয়োগে মনোনীত আইনজীবীদের মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নেওয়া হয়েছে। বহুদিন ধরে বিতর্কিত ও তদবিরনির্ভর পদ্ধতির পরিবর্তে এবার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এসেছে কাঙ্ক্ষিত স্বচ্ছতা ও কাঠামোগত পরিবর্তন।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা ভাইভা পর্বে অংশ নেন চূড়ান্তভাবে মনোনীত ৫৩ জন আইনজীবী। তাদের ভাইভা গ্রহণ করেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল।
এর আগে বিচারপতি নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যক্তিগত সুপারিশ ছিল নিয়মিত চর্চা। এবারই প্রথমবারের মতো সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে আবেদন আহ্বান করা হয়। গত ২৮ মে প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে ৩০০-এর বেশি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে ৫৩ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করে কাউন্সিল।
বিচারপতি নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ-২০২৫’ অনুযায়ী গঠিত সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিলের মাধ্যমে। ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি গঠিত এই কাউন্সিল এবারই প্রথমবারের মতো বিচারপতি পদের জন্য ভাইভা নিয়েছে।
এই কাউন্সিলের নেতৃত্বে থাকেন প্রধান বিচারপতি, যিনি চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেন। সাত সদস্যবিশিষ্ট এ কাউন্সিলের পাঁচজন পদাধিকারবলে সদস্য। তারা হলেন, প্রধান বিচারপতি (চেয়ারপারসন), আপিল বিভাগের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি, হাইকোর্ট বিভাগের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি (যিনি বিচারকর্ম বিভাগ থেকে নিযুক্ত নন), বিচারকর্ম বিভাগ থেকে নিযুক্ত হাইকোর্ট বিভাগের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এবং বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল।
অবশিষ্ট দুইজন সদস্য হলেন, আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি তারিক উল হাকিম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর বিচার বিভাগে কাঠামোগত সংস্কারের রূপরেখা প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। তখনই তিনি উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগে নতুন আইন ও পদ্ধতির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় সুপ্রিম কোর্ট প্রণীত খসড়া পর্যালোচনা শেষে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় এবং পরে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রণয়ন হয় ২০২৫ সালের ‘বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ’।
যদিও এটি ছিল গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া। তবে এর আগে আপিল বিভাগে নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মো. আছাদুজ্জামানকেও এই কাউন্সিলের সুপারিশে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৩ সেপ্টেম্বর)
- প্রজ্ঞাপনের আগে পে স্কেলের বেতন তালিকা
- পে স্কেল নিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি দিল অর্থ মন্ত্রণালয়
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফল আজ
- জেনে নিন একাদশ-আলিমে ভর্তির আবেদন পদ্ধতি
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ রিলিজ স্লিপের ফল প্রকাশ
- সাত কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফরম পূরণ স্থগিত
- নবম পে-স্কেল অনুমোদন, বেতন বাড়ল কত
- জুলাই থেকেই কার্যকর নতুন পে স্কেল, বকেয়া পাবেন যেভাবে
- হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষে ৪৩ জনের চাকরির সুযোগ
- আগামী ১০ বছরে যেসব চাকরির চাহিদা বাড়বে, জেনে নিন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ সেপ্টেম্বর)
- শিক্ষক নিয়োগ দেবে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
- আজ ঢাকায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং, কোন এলাকায় কত
- ছাত্রের সঙ্গে শিক্ষিকার শারীরিক সম্পর্ক, ৭ বছরের জেল