ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
দেশের ১০ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ তিন লাখ কোটি টাকা
বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি দেশের ব্যাংক খাতের লুকিয়ে রাখা খেলাপি ঋণের আসল চিত্র প্রকাশ করেছে, যা উদ্বেগজনকভাবে মন্দ ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে। গত মার্চ মাস শেষে ব্যাংক খাতের মোট ঋণের ৪ লাখ ২০ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা বা ২৪.১৩ শতাংশ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, মাত্র দশটি ব্যাংকেই প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ পুঞ্জীভূত হয়েছে।
খেলাপি ঋণ উর্ধ্বগতির কারণ
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিগত সরকারের সময়ে অনিয়ম-জালিয়াতির শীর্ষে থাকা ব্যাংকগুলোই এই বিশাল খেলাপি ঋণের পেছনে দায়ী। সরকার-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা বিভিন্ন ব্যাংকে একক আধিপত্য বিস্তার করে নামে-বেনামে নানা উপায়ে আমানতকারীদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়াও, গত ৫ আগস্টের আগে টাকা ফেরত না দিয়েও ঋণ নিয়মিত দেখানোর যে ব্যবস্থা ছিল, তা বন্ধ করে দেওয়ায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ হঠাৎ করে লাফিয়ে বাড়ছে। এই নীতিগত পরিবর্তনগুলোই লুকিয়ে রাখা খেলাপি ঋণের চিত্রকে স্পষ্ট করে তুলেছে।
খেলাপি ঋণের শীর্ষে যেসব ব্যাংক
পরিমাণের দিক থেকে খেলাপি ঋণে বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জনতা ব্যাংক। ব্যাংকটির মোট ৯৪ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে ৭০ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা এখন খেলাপি, যা মোট ঋণের ৭৪.৭৮ শতাংশ। জনতা ব্যাংকে বেক্সিমকো গ্রুপ ও এস আলমের বিশাল ঋণ রয়েছে, এছাড়াও ক্রিসেন্ট লেদার, অ্যানটেক্স, বিসমিল্লাহসহ বিভিন্ন বড় জালিয়াতির ঘটনা এই ব্যাংকেই ঘটেছে।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ এখন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের, যেখানে এস আলম গ্রুপের জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত মার্চ শেষে ইসলামী ব্যাংকের ৪৭ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা বা ২৭.৩৮ শতাংশ ঋণ খেলাপি দেখানো হয়েছে।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক, যার ২৯ হাজার ৭২১ কোটি টাকা বা ৪১.৪১ শতাংশ ঋণ খেলাপি। এছাড়া, ন্যাশনাল ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক এবং সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকও শীর্ষ ১০ খেলাপি ঋণের তালিকায় রয়েছে।
এছাড়াও, পদ্মা ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকও উচ্চ আনুপাতিক হারে খেলাপি ঋণের সম্মুখীন।
প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। সেখান থেকে ঋণের পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে পেতে বর্তমানে তা ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছে।
সংকটের মূল কারণ হিসেবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, খেলাপি ঋণ আদায়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে দীর্ঘদিন ধরে নীতিগত সুবিধা ও তথ্য গোপনের সুযোগ দেওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে ‘বিশেষ বিবেচনায়’ অনেক প্রতিষ্ঠানকে ঋণ পুনঃতপশিল, ঋণ পুনর্গঠন এবং এমনকি ঋণ ফেরত না দিয়েও নিয়মিত দেখানোর সুবিধা দেওয়া হয়।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাস্টারদা সূর্য সেন হল অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক পলাশ
- আফগান যুবাদের কাছে হারল বাংলাদেশের যুবারা
- আজ ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম কত? জেনে নিন
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মাহমুদ আলমের মৃত্যু, উপাচার্যের শোক
- সৌদিতে সুইটির মৃ/ত্যুদণ্ড, এখনো জানে না পরিবার
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারিতে বাংলাদেশিরা কি অংশ নিতে পারবে? জানুন বিস্তারিত
- আজ ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কত? জেনে নিন
- জেনে নিন আজকের বাজারে ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম
- বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ
- নভেম্বরে টানা তিন দিনের ছুটির সুযোগ, যারা পাবেন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২১ অক্টোবর)
- আজ ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম কত? জেনে নিন
- ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা: ঢাবির সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
- নতুন পে-স্কেলে শিক্ষকদের বেতন কবে, জানাল অর্থ মন্ত্রণালয়
- বুধবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ