ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২
ভাগে কোরবানির ক্ষেত্রে মানতে হবে যেসব নিয়ম
কোরবানি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও নিদর্শন। কোরবানি প্রদানের মাধ্যমে মুসলিমরা হজরত ইবরাহিম (আ.) এবং নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ বাস্তবায়ন করেন। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু জবাই করে কোরবানি দাতা আল্লাহর নৈকট্য লাভে আশাবাদী হন।
যার সামর্থ্য আছে তার জন্য একাই একটি পশু কোরবানি করা উত্তম। তবে কোরবানির জন্য নির্ধারিত পশুগুলোর মধ্যে গরু, মহিষ ও উটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত ভাগ করে কোরবানি করা বৈধ। অর্থাৎ সাতজন ব্যক্তি একটি গরু বা উটে অংশীদার হলে সেটিই তাদের সকলের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘গাভি ও উট সাত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানি করা যাবে।’ (আবু দাউদ: ২৭৯৯) সাহাবায়ে কেরামের আমলেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়।
তবে এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—প্রত্যেক শরিকের নিয়ত অবশ্যই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হতে হবে। কেউ যদি শুধুমাত্র মাংস পাওয়ার উদ্দেশ্যে শরিক হয় তাহলে সেই কোরবানি সহিহ হবে না। একইভাবে কোনো অমুসলিম যদি শরিক হয় তাহলেও পুরো কোরবানি অগ্রহণযোগ্য হবে।
ছাগল, ভেড়া বা দুম্বার কোরবানি একজনই দিতে পারে। এ ধরনের পশুতে একাধিক ব্যক্তি মিলে কোরবানি করা শরিয়তসম্মত নয়। আর উট, গরু বা মহিষের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাতজন শরিক হতে পারবে। সাতজনের বেশি হলে কারো কোরবানিই সহিহ হবে না। (বাদায়েউস সানায়ে ৫/৭০, কাযিখান ৩/৩৪৯)
হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে হজ পালন করি তখন আমরা সাতজন মিলে একটি উট ও একটি গরু কোরবানি করি। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৩১৮)
উট, গরু ও মহিষে সাত ভাগে কোরবানি করা বৈধ তবে সাতের কমেও—যেমন দুই, তিন, চার বা পাঁচ ভাগে—কোরবানি করা জায়েজ। (হিন্দিয়া ৫/৩০৪)
শরিকে কোরবানি করলে কারো অংশ যেন এক-সপ্তমাংশের কম না হয়। অংশ কম হলে কোনো শরিকের কোরবানিই গ্রহণযোগ্য হবে না। (বাদায়েউস সানায়ে ৫/৭১)
যদি কেউ গরু, মহিষ বা উট একা কোরবানি করার নিয়তে কিনে আনে এবং তিনি ধনী হন তাহলে ওই পশুতে অন্য কাউকে শরিক করলেও শরিয়তসম্মত। তবে একাই কোরবানি করা উত্তম। শরিক করলে ওই অংশের মূল্য সদকা করে দেওয়া ভালো। কিন্তু যদি তিনি গরিব হন, যার ওপর কোরবানি ফরজ নয় তাহলে যেহেতু পশুটি আল্লাহর উদ্দেশ্যে নির্ধারিত হয়ে গেছে, পরে অন্য কাউকে শরিক করা বৈধ নয়। যদি করেও ফেলেন তাহলে শরিকের অংশের সমপরিমাণ টাকা সদকা করে দেওয়া জরুরি। তবে গরিব ব্যক্তি যদি পশু কেনার সময়ই শরিক রাখার নিয়তে কিনে থাকেন তাহলে শরিকি কোরবানি বৈধ হবে। (হেদায়া ৪/৪৪৩, কাযিখান ৩/৩৫০–৩৫১)
শরিকে কোরবানি করলে মাংস অবশ্যই ওজন করে সমান ভাগে বণ্টন করতে হবে। অনুমান করে ভাগ করা জায়েজ নয়। (আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৭, কাযিখান ৩/৩৫১)
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- চলছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স বনাম সিলেট টাইটান্সের ম্যাচ-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- শেয়ারবাজার স্থিতিশীলতায় বড় পদক্ষেপ নিল বিএসইসি
- রাজশাহী বনাম চট্টগ্রাম: ৯০ রানে নেই ৭ উইকেট-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শ্রদ্ধা
- শেয়ারবাজার আধুনিকীকরণে বিএসইসির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ
- ঢাকা ক্যাপিটালস বনাম রংপুর রাইডার্স: জমজমাট খেলাটি চলছে-দেখুন সরাসরি
- মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের লোকসানের পাল্লা আরও ভারী হলো
- রাজশাহী বনাম সিলেটের জমজমাট ম্যাচটি শেষ-দেখুন ফলাফল
- প্রত্যাশার বাজারে সূচকের উত্থান অব্যাহত
- অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছেশেয়ারবাজার
- স্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতিতে লেনদেন, ডিএসইতে সূচকের শক্ত অবস্থান
- ১০ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা দিলেন কোম্পানির পরিচালক
- ২৫ লাখ শেয়ার হস্তান্তরের ঘোষণা উদ্যোক্তা পরিচালকের
- সূচক কমলেও স্বস্তিতে বাজার, লেনদেন বেড়েছে
- রংপুর রাইডার্স বনাম ঢাকা ক্যাপিটালসের জমজমাট খেলাটি শেষ-জানুন ফলাফল