ঢাকা, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
আসামের মুখ্যমন্ত্রী
রংপুর ও চট্টগ্রম বিচ্ছিন্ন হতে পারে
বাংলাদেশের মানচিত্র নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি মানচিত্র প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের দুটি নিজস্ব 'চিকেন নেক' রয়েছে, যা আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
রংপুর ও চট্টগ্রাম অঞ্চল ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার এই মন্তব্য ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
আজ সোমবার (২৬ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা রবিবার বাংলাদেশের উদ্দেশে ‘কড়া প্রতিক্রিয়া’ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “যারা ভারতের ‘চিকেন নেক’ করিডোর নিয়ে বারবার হুমকি দেন, তাদের মনে রাখা উচিত—বাংলাদেশের নিজস্বও দুটি ‘চিকেন নেক’ রয়েছে, যেগুলো আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।”
হিমন্ত দাবি করেন, “আমি শুধু ভৌগোলিক বাস্তবতা তুলে ধরছি, যেগুলো অনেকে ভুলে যেতে পারেন।”
রবিবার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে-এ মানচিত্র প্রকাশ করে জানান, “বাংলাদেশে রয়েছে দুইটি সংকীর্ণ করিডোর, যেগুলোও নিরাপত্তার দিক থেকে স্পর্শকাতর। যার প্রথমটি উত্তর বাংলাদেশ করিডোর (প্রথম ‘চিকেন নেক’)। এই করিডোরটি ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ। ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা থেকে শুরু হয়ে বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের সাথে সংযুক্ত দক্ষিণ-পশ্চিম গারো হিলস পর্যন্ত বিস্তৃত।”
হিমন্ত বিশ্ব শর্মার দাবি, “এই পথ বাধাগ্রস্ত হলে বাংলাদেশের রংপুর বিভাগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।”
দ্বিতীয় করিডোর (চট্টগ্রাম করিডোর বা দ্বিতীয় 'চিকেন নেক') আরও সংকীর্ণ—মাত্র ২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ। এই করিডোর বাংলাদেশের বাণিজ্যিক কেন্দ্র চট্টগ্রামকে রাজধানী ঢাকা সঙ্গে সংযুক্ত করে রেখেছে। হিমন্ত বলেছে, “এই করিডোর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রাণকেন্দ্রকে সংযুক্ত রাখে।”
তিনি আরও বলেন, “ভারতের শিলিগুড়ি করিডোরকে যেমন ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়, ঠিক তেমনই, প্রতিবেশী দেশের ভেতরেও রয়েছে এমন সংকীর্ণ করিডোর, যা সহজেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।”
মূলত 'চিকেনস নেক' নামে পরিচিত ভারতের শিলিগুড়ি করিডোরটি পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি এলাকায় অবস্থিত এবং মাত্র ২০ কিলোমিটার প্রশস্ত। এই সংকীর্ণ করিডোর দিয়েই ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যের রেল ও সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়। করিডোরটির উত্তরে রয়েছে নেপাল ও ভুটান, আর দক্ষিণে বাংলাদেশ।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “এই করিডোর এতটাই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ যে এটি বিচ্ছিন্ন হলে গোটা উত্তর-পূর্ব অঞ্চল ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা হয়ে যাবে। তাই তিনি চান এই করিডোর ঘিরে আরও শক্তিশালী রেল ও সড়ক অবকাঠামো গড়ে তোলা হোক এবং বিকল্প পথগুলোর সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়া হোক—যদিও তা প্রকৌশলগতভাবে চ্যালেঞ্জিং হয়।”
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ সেপ্টেম্বর)
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ‘ছয় মাসে জুলাই সনদের একটি অক্ষরও বাস্তবায়ন করেনি বিএনপি’
- ফের বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল
- ঢাবিতে গ্রিন নেক্সাস কর্মসূচি সমাপ্ত
- মেসির ১০ নম্বর জার্সি কি অবসর নিতে পারবে?
- শুক্রবার ঢাকার যেসব মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ