ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলাদেশের জন্য উৎপাদিত বিদ্যুৎ শ্রীলঙ্কায় বেচতে চায় আদানি গ্রুপ
ডুয়া ডেস্ক: ২০১৭ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তি করে। ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ঝাড়খণ্ড রাজ্যের গোড্ডা প্ল্যান্টটি গত বছর উৎপাদনে আসে। সেখান থেকে বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ শতাংশ পূরণ হচ্ছে। তবে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত কয়লার উচ্চ দামের কারণে চুক্তি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশের এক আইনজীবীর আবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্ট সম্প্রতি আদানি গ্রুপের সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তি তদন্তের জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে তদন্ত শেষ হবে এবং তখন আদালত চূড়ান্ত রায় দেবেন।
এদিকে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বকেয়া ও চুক্তি সংক্রান্ত নানা জটিলতায় এই প্ল্যান্টে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে শিল্প গোষ্ঠীটি। এখন গোড্ডা প্ল্যান্টে উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রতিবেশি অন্যান্য দেশগুলোর কাছে বিক্রি করার কথা ভাবছে আদানি। এক্ষেত্রে তাদের প্রথম পছন্দ শ্রীলঙ্কা। এজন্য অবশ্য বাংলাদেশের সম্মতি নিতে হবে আদানিকে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে।
আদানি পাওয়ারের ঝাড়খণ্ড প্ল্যান্ট বাংলাদেশের জন্য একটি বিশেষায়িত প্রকল্প। চুক্তি অনুযায়ী এই প্ল্যান্টে শুধু বাংলাদেশের জন্যই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে।
সম্প্রতি বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হওয়ার চাপে পড়েছে আদানি পাওয়ারের এই প্রকল্পটি। প্রকল্পটি টিকিয়ে রাখতে ভারত সরকার গোড্ডা প্ল্যান্টের বিদ্যুৎ দেশের মধ্যে বিক্রি করার অনুমতি দিয়েছে। এজন্য আদানিকে একটি নতুন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক স্থাপন করতে হবে। কারণ বর্তমান নেটওয়ার্কটি শুধুই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য নির্মিত।
এখন বাংলাদেশ যদি অনুমোদন দেয়, সেক্ষেত্রে আদানি পাওয়ার গোড্ডা প্ল্যান্টের বিদ্যুৎ শ্রীলঙ্কার কাছে বিক্রি করতে পারবে। এক্ষেত্রে ভারতীয় নিয়মকানুনের কোনো বাধা নেই।
অন্তবর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বিজনেসলাইনকে বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য নিবেদিত প্রকল্পটি শ্রীলঙ্কার কাছে বিক্রি করতে হলে, আমার ধারণা, তাদের বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সম্মতির প্রয়োজন হবে।’
দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন এ আদানি গ্রুপের মন্তব্য জানতে মেইল করলেও তারা কোনো উত্তর দেয়নি।
বাংলাদেশের কাছে কাছে আদানির এখনো ৮০ কোটি ডলার বা ১০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। গত মাসে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) তাদেরকে এক কোটি ডলার পরিশোধ করেছে। এরপরও ঝাড়খন্ডে কয়লা সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে বলে আদানির কর্মকর্তারা পিডিবিকে জানিয়েছে।
বিপিডিবি বলেছে, ৭ নভেম্বরের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে সমাধান করা হলেও আদানি বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।
এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বাংলাদেশ আদানির জন্য ১৭০ মিলিয়ন ডলারের ঋণপত্র খুলেছে এবং অর্থ পরিশোধ ত্বরান্বিত করেছে। আদানি পাওয়ার বিদ্যুৎ সরবরাহ হ্রাস এবং ঢাকার পেমেন্টের বিশদ সম্পর্কে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেয়নি।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাস্টারদা সূর্য সেন হল অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক পলাশ
- আফগান যুবাদের কাছে হারল বাংলাদেশের যুবারা
- আজ ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম কত? জেনে নিন
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মাহমুদ আলমের মৃত্যু, উপাচার্যের শোক
- সৌদিতে সুইটির মৃ/ত্যুদণ্ড, এখনো জানে না পরিবার
- বাংলাদেশকে ৩০৫ রানের লক্ষ্য দিল আফগানিস্তান, জবাবে ১৬৯ রান
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারিতে বাংলাদেশিরা কি অংশ নিতে পারবে? জানুন বিস্তারিত
- আজ ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কত? জেনে নিন
- বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ
- জেনে নিন আজকের বাজারে ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম
- নভেম্বরে টানা তিন দিনের ছুটির সুযোগ, যারা পাবেন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২১ অক্টোবর)
- COP31 সামনে রেখে বাংলাদেশের জলবায়ু অগ্রাধিকার নিয়ে সংলাপ
- ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা: ঢাবির সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
- নতুন পে-স্কেলে শিক্ষকদের বেতন কবে, জানাল অর্থ মন্ত্রণালয়