ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২
বড় পরিবর্তন আসছে ট্রাভেল এজেন্সি খাতে
ডুয়া ডেস্ক : বাংলাদেশের ট্রাভেল এজেন্সি খাতে আসতে যাচ্ছে বড় ধরনের পরিবর্তন। প্রথমবারের মতো বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় একটি পরিপত্রের খসড়া তৈরি করেছে, যা দেশের এয়ার টিকিট বিক্রির ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে পারে। খসড়া পরিপত্রের প্রস্তাবিত এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এখন থেকে এক ট্রাভেল এজেন্সি অন্য কোনো এজেন্সির মাধ্যমে এয়ার টিকিট বিক্রি করতে পারবে না।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, গ্রাহকদের হয়রানি রোধ এবং ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ জানিয়েছেন দেশের অনেক ট্রাভেল এজেন্সির মালিকরা।
বিশ্বজুড়ে ট্রাভেল এজেন্সি খাতে "এজেন্ট টু এজেন্ট" (বিটুবি) মডেল বহুদিন ধরেই চালু রয়েছে। এই ব্যবস্থায় ছোট ও মাঝারি এজেন্সিগুলো বড় এজেন্সির সহায়তায় টিকিট সংগ্রহ করে ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে। কিন্তু প্রস্তাবিত নিয়ম চালু হলে দেশের বহু ছোট এজেন্সির ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ) সদস্যপদ বাধ্যতামূলক করা হবে। অথচ বর্তমানে দেশে ৫,৭৪৬টি লাইসেন্সধারী এজেন্সির মধ্যে মাত্র ৯৭০টি আইএটিএ অনুমোদিত। সদস্যপদ পেতে প্রয়োজন ৩০ লাখ টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি, যা ছোট এজেন্সির পক্ষে দেওয়া প্রায় অসম্ভব।
ফলে, আইএটিএ অনুমোদন ছাড়া এয়ারলাইন্স টিকিট বিক্রির সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে এবং এতে ছোট এজেন্সিগুলোর অস্তিত্ব সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন মালিকরা।
মঈন ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী মো. গোফরান চৌধুরী বলেন, "নতুন পরিপত্র কার্যকর হলে বড় এজেন্সিগুলো বাজার নিয়ন্ত্রণ করবে, আর ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়বে। এতে একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে, যা বিদেশি এজেন্টরা কাজে লাগাবে।"
তিনি আরও জানান, দেশের অনেক শহরে আইএটিএ অনুমোদিত এজেন্সি নেই। ফলে ওইসব এলাকার যাত্রীরা টিকিট সংগ্রহে ভোগান্তির মুখে পড়বেন, বাড়বে খরচও।
অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) মহাসচিব আফসিয়া জান্নাত সালেহ বলেন, “পাঁচ হাজারের বেশি ট্রাভেল এজেন্সির মধ্যে মাত্র কয়েকটি আইএটিএ সদস্য। তাহলে বাকিরা কীভাবে ব্যবসা করবে?” তার মতে, প্রস্তাবিত এই নীতিমালা পুরো ট্রাভেল খাতের জন্য ক্ষতিকর হবে এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অসুবিধায় ফেলবে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, খসড়া পরিপত্র নিয়ে একাধিক সভা হয়েছে, তবে এখনও এটি চূড়ান্ত করা হয়নি। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পর্যটন) ফাতেমা রহিম ভীনা।
সব মিলিয়ে, প্রস্তাবিত নতুন পরিপত্র নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এটি কার্যকর হলে দেশে হাজার হাজার ছোট ট্রাভেল এজেন্সি ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং বাজারে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, মন্ত্রণালয় শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেটি দেশের ট্রাভেল খাতকে কীভাবে প্রভাবিত করে।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিডি থাই ফুড
- কী আছে এপস্টেইন ফাইলে? কেন এত হইচই বিশ্বজুড়ে?
- ইপিএস প্রকাশ করেছে কনফিডেন্স সিমেন্ট
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সোনালী পেপার
- ইপিএস প্রকাশ করেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইজেনারেশন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সিলকো ফার্মা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সাফকো স্পিনিং
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইন্দো-বাংলা ফার্মা
- নতুন জাতীয় দৈনিকে ক্যারিয়ার গড়ার বড় সুযোগ
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এসিআই
- এক লাফে ভরিতে ১৪ হাজার টাকা কমলো সোনার দাম
- ইপিএস প্রকাশ করেছে গোল্ডেন সন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বার্জার পেইন্টস