×

ঢাকা, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন চায় জামায়াত

২০২৬ অক্টোবর ২৫ ১৯:০০:৫৪

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন চায় জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ নির্বাচন নিয়ে নয়টি অভিযোগ ও তিনটি দাবি নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ধরেছে দলটি। আগামী ২৯ অক্টোবর এ আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

জামায়াতের অভিযোগ, নির্বাচনে প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে না। প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থীও নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন।

রোববার (২৫ অক্টোবর) জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করে। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে বিকেল চারটায় শুরু হওয়া বৈঠকটি চলে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। এতে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসেনসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রশাসন, নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আচরণ নিরপেক্ষ নয়। এ পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না।

তিনি বলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় একটি দল শনিবার ঠাকুরগাঁওয়ে গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে। পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে অভিযোগগুলো জমা দেওয়া হয়। অভিযোগের সমর্থনে ছবি, আহত ব্যক্তিদের ছবি এবং নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণও দেওয়া হয়েছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুল ইসলাম একজন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। ওই কর্মকর্তা রাতে প্রার্থীর বাড়িতে বৈঠক করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার মতো পোস্ট দিয়েছেন। এ ছাড়া নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন, টাকা লেনদেন এবং ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচনি এলাকায় জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা এবং নারী-পুরুষ আহত হওয়ার অভিযোগও তুলে ধরেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর দাবি, এসব ঘটনায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

এ ছাড়া মসজিদের ভেতরে ধানের শীষের প্রার্থীর নির্বাচনি সভা, নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রঙিন প্রতীক ব্যবহার এবং নির্ধারিত সময়ের আগে মাইক বাজানোর অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।

হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে সরকারি চাকরিজীবী ও শিক্ষকদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ভোটারদের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে বিভিন্ন ইউনিয়নে মেডিকেল ক্যাম্প বসিয়ে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসংখ্যা বাড়ালেই হবে না; দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে।

১৯৯৪ সালের মাগুরার উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনকে মাগুরার নির্বাচনের মতো পরিস্থিতিতে নিয়ে যাওয়া হলে এর পরিণতি সম্পর্কে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন তাঁদের আশ্বস্ত করার মতো কোনো দৃঢ় পদক্ষেপের কথা জানাতে পারেনি। তবে জামায়াত এখনো নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি। দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির দাবি জানিয়ে যাচ্ছে।

বৈঠক শেষে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, ‘প্রশাসনে যারা আছেন, তারা নিরপেক্ষ নন। তাদের আচরণ ও ভূমিকার মধ্যে আমরা নিরপেক্ষতা দেখতে পাইনি।’

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

রাজনীতি এর অন্যান্য সংবাদ