×

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

২০২৬ অক্টোবর ১৩ ১৩:০৫:১৮

প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রবাসীদের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দিতে ১১টি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর। তিনি জানান, কার্ডটি বর্তমানে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশসহ বিভিন্ন জায়গায় এর কার্যক্রম চলছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বেসরকারি সংস্থা রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জোরপূর্বক ও স্বেচ্ছামূলক অভিবাসন এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুতি নিয়ে কাজের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬’ শীর্ষক এ সম্মেলন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে রামরু।

অনুষ্ঠানে নুরুল হক বলেন, প্রবাসীরা দেশের সোনার মানুষ। তাঁদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা ও মর্যাদা রক্ষায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা চলছে। ২০০৮ সালের ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকার সময় তিনি বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের সঙ্গে গুগল মিট ও জুমের মাধ্যমে কথা বলেছেন। তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় প্রবাসীদের তিনটি সাধারণ সমস্যা উঠে এসেছে।

প্রবাসীদের সমস্যার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথমত, দেশে পাসপোর্ট তৈরি করতেও অনেককে দালালের সহায়তা নিতে হয়। পাসপোর্ট সেবায় দালালচক্র ও দুর্নীতি বন্ধ করা জরুরি। দ্বিতীয়ত, অনেক প্রবাসী বিদেশে কাজের উদ্দেশ্যে গিয়ে প্রতিশ্রুত কাজ পান না। ঋণ করে বিদেশে যাওয়ার পর প্রত্যাশিত কাজ না পেয়ে তাঁদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তৃতীয়ত, বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলো থেকে সেবা নিতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয় তাঁদের। এ ছাড়া বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথাও প্রবাসীরা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ১১টি খাত নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে তাঁদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রবাসী কার্ড চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা বর্তমানে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশসহ বিভিন্ন স্থানে এ কার্যক্রম চলছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রবাসী কার্ড আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি বিভিন্ন সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যাবে। এর মাধ্যমে প্রবাসীদের মৌলিক তথ্য সংরক্ষণ এবং বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও দেশে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা গ্রহণ সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

নুরুল হক আরও বলেন, অনেক প্রবাসী দেশে ফিরে জমিজমা-সংক্রান্ত সমস্যায় পড়েন। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে, বিশেষ করে সাত দিনের মধ্যে, প্রয়োজনীয় সেবা বা প্রতিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহিত করার জন্য প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠালে তিন শতাংশ প্রণোদনার ব্যবস্থা রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের আমলে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ব্যাংকটিকে সাধারণ ব্যাংকিং কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রবাসী কার্ডের সঙ্গেও ব্যাংকটির সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে প্রবাসীদের তিন লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ঋণসুবিধার পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রবাসীরা দেশে ফিরে ব্যবসা শুরু করতে, নতুন উদ্যোগ নিতে কিংবা বাড়ি নির্মাণের জন্য ঋণ চাইলে তাঁদের সহযোগিতা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ঋণপ্রাপ্তি আরও সহজ ও সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো এবং বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও অবৈধ প্রক্রিয়া বন্ধে সরকার কাজ করছে।

তরুণদের ভূমিকা প্রসঙ্গে নুরুল হক বলেন, গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশের উন্নয়নে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। প্রধানমন্ত্রীও বিভিন্ন সময়ে উন্নয়নে এসব প্রতিষ্ঠানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন। অভিবাসন খাতেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদান রয়েছে। গত তিন দশকে এ খাতে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও সাফল্য ভবিষ্যতেও দেশের উন্নয়ন এবং অভিবাসন ব্যবস্থার অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তরুণদের প্রত্যাশিত নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত