×

ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

তাজমীনের সোয়াব-পোশাক যাচ্ছে সিআইডির ডিএনএ ল্যাবে

২০২৬ অক্টোবর ১২ ১৮:০৬:০৮

তাজমীনের সোয়াব-পোশাক যাচ্ছে সিআইডির ডিএনএ ল্যাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লার স্কুলছাত্রী জান্নাতুন তাজমীন হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল। হত্যার আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হতে তার সোয়াব ও ব্যবহৃত পোশাক সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ফরেনসিক পরীক্ষার আওতায় আনা হবে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লালমাই থানার এসআই আব্দুল্লাহ আল ফারুক জানান, এসব আলামত পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, তদন্তে কোনো বিষয়ই বাদ রাখা হবে না। ইতোমধ্যে আসামিকে আদালতে হাজির করাসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ভুক্তভোগীর সোয়াব, পোশাক, মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য আলামত সিআইডির ল্যাবে পাঠানোর কাজ চলছে।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, নিহত কিশোরীর সঙ্গে কয়েক সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হয় রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু নামে এক তরুণের। নিখোঁজ হওয়ার আগে কিশোরী কক্সবাজারে গিয়ে রিয়াজের সঙ্গে অবস্থান করেছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে এবং রিয়াজের স্বীকারোক্তিতে তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে রিয়াজকে আটক করে পুলিশ। জেলা পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, কক্সবাজারের একটি হোটেলে কিশোরীকে ডেকে নেওয়া ওই তরুণকে আইনের আওতায় আনা হবে।

নিজেকে নির্দোষ দাবি করে নিখোঁজ হওয়ার রাতের কিছু বিবরণ দিয়েছেন রাজু। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত বুধবার রাতে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লা শহরের বাসায় ফেরার পর কিশোরী প্রধান ফটক বন্ধ দেখতে পায়। মা-বাবার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে সে এক ‘আঙ্কেলের’ সঙ্গে কথা বলে তার বাসায় যাওয়ার কথা জানায়। পরে রিয়াজ ভিডিও কল করলে কিশোরীকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় দেখতে পান তিনি এবং তাকে বকাঝকা করেন। এরপর কিশোরী ফোন কেটে দেয়। পরে মেসেজ পাঠিয়ে জানায়, সকালে বাসায় ফিরবে।

রিয়াজের ধারণা, কিশোরী যাকে ‘আঙ্কেল’ বলে উল্লেখ করছিল, তিনি আসলে অটোরিকশাচালকও হতে পারেন।

পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার রাতে কক্সবাজার থেকে ফিরে কিশোরী কুমিল্লা নগরের পাদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে নামে। সেখান থেকে ৩০০ টাকা ভাড়ায় তাকে রেসকোর্স এলাকার বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া। তবে বাসায় না নিয়ে সে কিশোরীকে লালমাই উপজেলার একটি নির্জন কৃষিজমিতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

পুলিশ জানায়, হত্যার পর কিশোরীর ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি দামি আইফোন নিয়ে অন্য একটি অটোরিকশায় করে পালিয়ে যায় সুমন। গত বৃহস্পতিবার লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি কৃষিজমি থেকে কিশোরীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে চট্টগ্রাম থেকে অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার সুমন মিয়া গত শনিবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে কিশোরীকে প্রথমে ধর্ষণ এবং পরে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

একই দিন জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, কিশোরী কক্সবাজারে কার সঙ্গে গিয়েছিল এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কারও ইন্ধন বা সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কক্সবাজার যাত্রা থেকে শুরু করে নির্জন কৃষিজমিতে হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত পুরো ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ ও আইনি সংস্থাগুলোর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। লালমাই থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীর সোয়াব ও পোশাক ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিআইডির ফরেনসিক বিভাগে পাঠানোর কাজ চলছে। মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত