×

ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

১২ দিন পর আবারও টমেটো আমদানির অনুমতি দিল সরকার

২০২৬ অক্টোবর ১২ ২১:৫৫:০৩

১২ দিন পর আবারও টমেটো আমদানির অনুমতি দিল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: টমেটো আমদানির অনুমতি স্থগিতের ১২ দিন পর আবারও আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। আপাতত আগামী ৫ নভেম্বর পর্যন্ত আমদানির ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, আমদানি পুনরায় চালু হলে বাজারে টমেটোর সরবরাহ বাড়বে, দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং অবৈধ চোরাচালান কমবে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে DUAA NEWS-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী উপপরিচালক (আমদানি) শওকত ওসমান মজুমদার।

তিনি জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশে টমেটোর বাড়তি চাহিদা পূরণ এবং বাজার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে সরকার পুনরায় আমদানির আইপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে সোমবার রাতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ভারত থেকে টমেটো আমদানির আইপি স্থগিত করা হয়েছিল। এরপর দেশের বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হয় এবং দাম বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বৈধ পথে আমদানি বন্ধ থাকায় বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে টমেটো দেশে প্রবেশ করতে থাকে। এতে সরকার রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি বেশি দামে টমেটো কিনতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের।

ব্যবসায়ীদের দাবি, আমদানি বন্ধের আগে বাজারে প্রতি কেজি টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হতো। পরে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।

সবজি আমদানিকারক ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আরাফাত তালুকদার বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও অন্তত ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত টমেটো আমদানির আইপি দেওয়া উচিত। এতে দেশে উৎপাদিত টমেটো বাজারে আসার আগপর্যন্ত এ খাতের সঙ্গে যুক্ত কয়েক হাজার শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান বজায় থাকবে।

তিনি জানান, সাধারণত ডিসেম্বর থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশের উৎপাদিত টমেটো দিয়েই অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ হয়। তবে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর এই তিন মাস প্রতিবেশী দেশ থেকে টমেটো আমদানি করে বাড়তি চাহিদা মেটাতে হয়।

শওকত ওসমান মজুমদার জানান, আগাম টমেটো উৎপাদনকারী কৃষকদের সুবিধা দিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর আমদানির আইপি স্থগিত করা হয়েছিল। তবে বাজারের চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার আবারও আমদানির অনুমতি দিয়েছে। আপাতত আগামী ৫ নভেম্বর পর্যন্ত এ অনুমতি কার্যকর থাকবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও আমদানিকারকদের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি কেজি টমেটো আমদানিতে ১৩ টাকা ৩৮ পয়সা শুল্ক ধরে প্রতিদিন সরকার প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ থেকে ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা রাজস্ব পেয়েছে। ওই ২৬ দিনে রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৩৬ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৩৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এরপর ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতি কেজিতে ৩৮ টাকা ৪০ পয়সা হারে শুল্ক ধরে আরও প্রায় ৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

তাদের হিসাব অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত টমেটো আমদানি বন্ধ থাকায় সরকার প্রায় ৪১ কোটি থেকে ৪৫ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে।

ব্যবসায়ীরা চলতি অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে টমেটো আমদানির অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাঁদের মতে, বৈধ পথে আমদানি চালু থাকলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে, দাম সহনীয় পর্যায়ে আসবে এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে টমেটো প্রবেশের প্রবণতা কমবে।

এদিকে, আমদানি শুরুর পর কোনো অসাধু চক্র যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দাম আদায় করতে না পারে, সে জন্য বাজারে নিয়মিত তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ