×

ঢাকা, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

হ্যান্ডকাফ পরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের

২০২৬ অক্টোবর ০২ ২০:৫৪:৫৩

হ্যান্ডকাফ পরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের

নিজস্ব প্রতিবেদক: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার মামলায় গ্রেপ্তার জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘আমাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে নিয়ে যান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশা পূরণ হতো।’

আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তারের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডিবি পুলিশের সদস্যরা তাঁকে নিয়ে যাওয়ার সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ও ভাই, ডিবি ভাই, একটু হ্যান্ডকাফ পরায়া নিয়ে যান না ভাই? হ্যান্ডকাফ ছাড়া তো মানুষে কী মনে করবে? আমি ইচ্ছা কইরা... হ্যান্ডকাফ পরায়া নিয়ে যান, তাইলে মনে করেন সালাউদ্দিনের মনটা পূর্ণ হইত যে আপনারা অ্যারেস্ট করছেন, বুঝছেন না?। সালাউদ্দিনের কল পেয়ে আইছেন আপনারা? সালাউদ্দিনের মনটা পূর্ণ হোক! একটু হ্যান্ডকাফ পরায়া দেখাইতেন যে— হ্যাঁ, হ্যান্ডকাফ পরায়া নিয়ে যাইতেছি, আসেন! আগে কামাল ভাইয়ের কথা ধরছেন, এখন এর কথা ধরবেন, অধীনের... আমার কথা ধরবেন! সেনাবাহিনীরে ধরবেন! সমস্যা কী ভাই? পালিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না! জনগণের কথা বলার জন্য, জনগণের পাশে থাকার জন্য... সবাই দোয়া রাখবেন, সবাই দোয়া রাখবেন।’

মামলার নথি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের ৩৪ জন প্রতিনিধি সপরিবারে মদিনা থেকে ঢাকায় আসেন। তাঁদের বহনকারী ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে এবং ৯টা ৮ মিনিটে পার্কিং করে। পরে তাঁরা ২১ নম্বর গেট দিয়ে টার্মিনালে প্রবেশ করে ইমিগ্রেশন শেষ করে ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় যান।

সেসময় বিমানবন্দরে আগমনী যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় ট্রলি সংগ্রহে সাময়িক সংকট দেখা দেয় এবং দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। কয়েকজন প্রটোকল সহকারী লাইনের নিয়ম না মেনে ট্রলি নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে লাগেজ আসতে দেরি হওয়া এবং জমজমের পানি না আসার ঘটনায় কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে অশোভন আচরণ করতে থাকেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে ঘটনাস্থলে ডাকেন। ১০টা ৪৬ মিনিটে সেখানে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলার সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তাঁর দিকে আক্রমণাত্মকভাবে এগিয়ে যান এবং রূঢ়, অশালীন ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

এজাহার অনুযায়ী, নির্বাহী পরিচালক অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ ও ট্রলি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করলে আখতারুজ্জামান আরও উত্তেজিত হয়ে তাঁকে বলেন, ‘আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা’, ‘গেট আউট ফ্রম হেয়ার’, ‘ঘাড় ধরে বের করে দিবো’, ‘কাজ জানেন না, তদবির করে পোস্টিংয়ে আসবেন’, ‘মাইর খাইতে চান?’ এ সময় তাঁর আচরণ অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও মারমুখী ছিল। পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে মোহাম্মদ কামাল হোসেন নির্বাহী পরিচালককে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেন।

এরপর আখতারুজ্জামান উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে আবারও হুমকি দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আপনাদের সবাইকে বিমানবন্দরে বেঁধে পিটানো এবং সোশাল মিডিয়ায় দেওয়া দরকার, যাতে তারেক রহমান এটি দেখেন, তখন আপনারা সোজা হবেন। আপনাদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেবো।’ এ ছাড়া বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সম্পর্কে তিনি অশালীন ও অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করেন বলে মামলায় বলা হয়েছে।

এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রটোকল সহকারী ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন এবং সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করার হুমকি দেন। এতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বিমানবন্দরের কেপিআইভুক্ত এলাকায় ভিডিও ধারণ না করতে সংশ্লিষ্টদের নিষেধ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তাঁর কাছে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন।

পরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে এলে তাঁর সঙ্গেও আখতারুজ্জামান অশোভন ও মারমুখী আচরণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ যাত্রীদের সংগ্রহ করা জমজমের পানির বোতল বা পাত্র ট্রলি থেকে ছুড়ে ফেলে তিনি সেগুলোর ক্ষতি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর ০৬। একই দিন বিকেলে এজাহার আদালতে পৌঁছালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর তা গ্রহণ করেন। বিমানবন্দর থানার এসআই মাজেদুল ইসলামকে আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বক্কর ছিদ্দিক। আদালতও আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আখতারুজ্জামান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো কেপিআইভুক্ত ও স্পর্শকাতর স্থাপনায় দায়িত্ব পালনরত সরকারি কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সদস্যদের কাজে বাধা দিয়েছেন, ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়েছেন, প্রকাশ্যে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেছেন এবং মারমুখী আচরণ করেছেন। একই সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন নিরাপত্তা সদস্যকে শারীরিকভাবে আঘাত করার পাশাপাশি তাঁর আচরণে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ইমামুল

ট্যাগ: বিমানবন্দর ডিবি ক্যান্টনমেন্ট আদালতের নির্দেশ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঢাকা-৫ মেজর আখতারুজ্জামান জামায়াত নেতা সরকারি কাজে বাধা গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বিমানবন্দর থানায় মামলা বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব লাগেজ সংকট ট্রলি সংকট বিমানবন্দরের নিরাপত্তা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বিমানবন্দর মামলা মোহাম্মদ কামাল হোসেন জমজমের পানি আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে আঘাত মাজেদুল ইসলাম আলবিরুনী মীর জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ মামলা নম্বর ০৬ দণ্ডবিধি হ্যান্ডকাফ বিমানবন্দরের শৃঙ্খলা

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত