×

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ১০:৩৫:৩৭

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের পথে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাংলাদেশের কনটেইনার জাহাজগুলো নিরাপদে বের করে দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা, রেমিট্যান্স, সমুদ্রপথে বাংলাদেশের পণ্য পরিবহন এবং সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ গুরুত্ব পায়।

তারেক রহমান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তাদের নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। এসব প্রবাসী কর্মীর পাঠানো রেমিট্যান্স তাদের পরিবার ও বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি বাংলাদেশের বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের কয়েকটি কনটেইনার জাহাজ আটকে রয়েছে। ফলে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হয়ে কূটনৈতিক সমাধানের দিকে গেলে এসব জাহাজ যাতে নিরাপদে ও সহজভাবে বের হতে পারে, সে বিষয়ে ইরানের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তেল-গ্যাস সরবরাহে যে চাপ তৈরি হতে পারে, তাতে বাংলাদেশ যেন বড় ধরনের জ্বালানি সংকটে না পড়ে সে বিষয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ জানানো হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের এসব উদ্বেগ ইরানের প্রেসিডেন্ট মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং বিষয়গুলো সংশ্লিষ্টরা গুরুত্বের সঙ্গে নোট করেছেন বলে জানানো হয়েছে।

বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে বাংলাদেশের অবস্থান। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতিসংঘ একটি ‘নিউট্রাল স্পেস’। সেই নিরপেক্ষ পরিসরে সংঘাতের পক্ষগুলোর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অংশীদারও বাংলাদেশকে এই নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে শান্তির পক্ষে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছে বলে বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য বাংলাদেশ তার নিরপেক্ষ অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে একটি ‘সফট মিডিয়াম ইনফ্লুয়েন্স’ তৈরি করতে চায়। এর লক্ষ্য কোনো পক্ষ নেওয়া নয়; বরং কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ তৈরি করা।

বৈঠকের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে এবং প্রয়োজনে বন্ধুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সংলাপের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার রয়েছে। সংঘাতের কারণে জ্বালানি, বাণিজ্য ও বাংলাদেশি প্রবাসীদের ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তা বিবেচনায় নিয়ে আলোচনায় শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত