ঢাকা, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসায় নতুন বিধিনিষেধ অস্ট্রেলিয়ার
ডুয়া ডেস্ক: অভিবাসন কমানোর লক্ষ্য নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় নতুন ও আরও কঠোর অভিবাসন বিধি চালু করা হচ্ছে। এর আওতায় অধিকাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী এখন থেকে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যেতে পারবেন না।
বৃহস্পতিবার নতুন নিয়মগুলোর ঘোষণা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক। একই সঙ্গে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ কঠোর করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় আরও বেশি সময় অবস্থান করতে চান এমন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একই স্তরের কোর্সের ভিসার মেয়াদ বারবার বাড়ানোর পরিবর্তে সাধারণত উচ্চতর যোগ্যতার কোর্সে যেতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। কয়েক দশকের মধ্যে দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ আবাসনসংকটের জন্য অভিবাসীদের দায়ী করার প্রবণতাও বাড়ছে।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপে উত্থান ঘটানো কট্টর ডানপন্থী ওয়ান নেশন পার্টি চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে, অস্ট্রেলীয়দের ‘স্বস্তির সুযোগ’ দিতে তিন বছরে অস্থায়ী অভিবাসীর সংখ্যা ৭ লাখ ৫০ হাজার কমাবে তারা। দলটির নেতা পলিন হ্যানসন কয়েক দশক ধরে অভিবাসনবিরোধী প্রচার চালিয়ে আসছেন।
টনি বার্ক বলেন, অভিবাসন এখনো অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটি ‘শক্তি’। তবে এ ক্ষেত্রে ‘উচ্চ মাত্রার নিয়ন্ত্রণ’ প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। ওয়ান নেশনের বক্তব্যের কারণে সরকার এসব পরিবর্তন এনেছে এমন ধারণাও তিনি নাকচ করেন।
সাংবাদিকদের বার্ক বলেন, ‘এটি সাম্প্রতিক কোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নেওয়া পদক্ষেপ, এমন ধারণা করা যে ভুল, তা স্পষ্টভাবেই প্রমাণ করা যায়। এটি নয়।’
নতুন বিধিতে সব ধরনের ভিজিটর ভিসার সঙ্গে ‘আর থাকা যাবে না’ এমন শর্ত যুক্ত করা হবে। এর ফলে এসব ভিসাধারী অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করে পার্টনার ভিসাসহ অন্য কোনো ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন না। তবে দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় থাকা ব্যবস্থার কারণে যুক্তরাজ্যের ওয়ার্কিং হলিডেমেকারদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন কার্যকর হবে না।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যেতে পারবেন না। তবে অস্ট্রেলিয়ায় ইতিমধ্যে অবস্থানরত বিদেশি এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য ছাড় থাকবে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্বামী-স্ত্রী ও সঙ্গীরা অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করতে পারেন। তবে শিক্ষার্থীর কোর্সের ধরন অনুযায়ী তাঁদের অনুমোদিত কাজের সময় ভিন্ন হয়ে থাকে।
বার্ক বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসতে পারবে, এমন সংখ্যা আমরা আর বাড়াব না।’
নতুন বিধিগুলো যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সরকার কিছু ব্যবস্থাও চালু করবে। এর মধ্যে ১০০ জন কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়টি রয়েছে। পাশাপাশি মেলবোর্নের একটি সাবেক কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রকে আটককেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে।
বার্ক বলেন, ‘এটি এমন কোনো ধরনের কার্যক্রম নয়, যা কেউ কেউ টেলিভিশনে অন্য দেশে ঘটতে দেখেছেন।’ তাঁর এই মন্তব্যে সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সংস্থার কর্মকাণ্ডের প্রতি ইঙ্গিত ছিল।
সরকারের প্রত্যাশা, এসব কঠোর পদক্ষেপের ফলে ২০২৮ সালের মধ্যে বার্ষিক নিট অভিবাসন প্রায় ৩ লাখ থেকে কমে ২ লাখ ২৫ হাজারে নামবে। অস্ট্রেলীয় ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয়গুলোর মধ্যে অভিবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় এখনো রয়েছে।
যাঁরা মানুষকে বারবার ভিসার ধরন পরিবর্তনে সহায়তা করেন, সেই মাইগ্রেশন এজেন্টদের বিরুদ্ধেও নতুন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বার্ক বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের পর নতুন ভিসার জন্য আবেদনকারীদের প্রায়ই ‘ব্রিজিং ভিসা’ নিয়ে দেশটিতে থেকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি এটিকে ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাত অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতে ৫৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার (২৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন পাউন্ড) অবদান রেখেছে। দেশটির রপ্তানি আয়ের দিক থেকে এটি চতুর্থ বৃহত্তম খাত। অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকা সত্ত্বেও অভিবাসন কমানোর ক্ষেত্রে কেন্দ্র-বাম লেবার সরকারের প্রচেষ্টার অন্যতম কেন্দ্রে রয়েছে বিদেশি শিক্ষার্থীরা।
২০২৫ সালে অস্ট্রেলিয়া ৩ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভিসা দিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৫ হাজার ভিসা দেওয়া হয়েছে নির্ভরশীল ব্যক্তি বা পরিবারের সদস্যদের (স্পাউস)। চার বছরে শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন ফি প্রায় ৩০০ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৫০০ অস্ট্রেলীয় ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ইংরেজি ভাষার যোগ্যতা এবং গ্র্যাজুয়েট ভিসার আবেদনকারীদের ন্যূনতম সঞ্চয়ের সীমাও কঠোর করা হয়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় দুই বছর কোভিড-১৯ বিধিনিষেধের পর অস্ট্রেলিয়া সীমান্ত খুলে দেওয়ার পর দেশটিতে অভিবাসন দ্রুত বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, ব্যাকপ্যাকার এবং অস্থায়ী কর্মীরাই মূলত এই বৃদ্ধির পেছনে ছিলেন।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ অক্টোবর)
- বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন করবেন যেভাবে
- না ফেরার দেশে চলে গেলেন ‘সিআইডি’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা
- আজকের নামাজের সময়সূচি (২৬ অক্টোবর)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৩১ অক্টোবর)
- আনসার-ভিডিপিতে ২২৮ পদে নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৮ অক্টোবর)
- অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৯৫ পদে নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে
- ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তনে আবেদন করবেন যেভাবে, জানুন বিস্তারিত
- ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ
- মালয়েশিয়ায় কাজ করতে ইচ্ছুকদের সুখবর দিল সরকার
- নভেম্বরের শুরুতে টানা তিন দিনের ছুটি পাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
- সেনাবাহিনীতে সফটওয়্যার প্রোগ্রামার পদে নিয়োগ, বেতন ৫০ হাজার টাকা
- ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত এমপির ছেলেকে যুবদল থেকে বহিষ্কার
- জাপানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী