×

ঢাকা, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম-দুর্নীতি পেলে দ্রুত ব্যবস্থা: কৃষিমন্ত্রী

২০২৬ নভেম্বর ০১ ১৭:৫৮:১৭

সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম-দুর্নীতি পেলে দ্রুত ব্যবস্থা: কৃষিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, কৃষকদের সময়মতো ন্যায্যমূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সার ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।

রোববার রাজধানীর গাবতলীতে ৬ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন সার গুদাম উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, কৃষক সময়মতো প্রয়োজনীয় সার না পেলে উৎপাদন ব্যাহত হবে, উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। এ কারণে সার সংগ্রহ, মজুদ, পরিবহন ও বিতরণের প্রতিটি পর্যায়ে কার্যকর সমন্বয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, শুধু গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুদ রাখলেই চলবে না, তা যথাসময়ে কৃষকের হাতে পৌঁছে দিতে হবে। সার মজুদ ও বিতরণের হিসাব নিয়মিত যাচাই করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি, অপচয় কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ দেওয়া যাবে না। সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা গ্রহণযোগ্য নয়। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

সার ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, বিএডিসির প্রায় ২০০টি গুদামে প্রতিদিন কতটুকু সার প্রবেশ করছে এবং কতটুকু সরবরাহ করা হচ্ছে, সেই তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে এসব তথ্য পৌঁছানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। এতে মজুদ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী বলেন, দেশে ফসলের বৈচিত্র্য ও উৎপাদনের মৌসুম বাড়ার কারণে সারের চাহিদাও বাড়ছে। বাংলাদেশে সার একটি অত্যন্ত ভর্তুকিনির্ভর কৃষি উপকরণ। তাই সরকারি ভর্তুকির যথাযথ ব্যবহার এবং কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে।

মাটির স্বাস্থ্য ও সুষম সার ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত মাটি পরীক্ষা না করে এবং মাটির উর্বরতা বিবেচনায় না নিয়ে সার ব্যবহারের ফলে মাটির অম্লতার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। মাটির অম্লতা স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরিয়ে আনতে সরকার দেশব্যাপী মাটি উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে গবেষণা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কাজ চলছে।

মাটির গুণাগুণ বিবেচনা করে সার ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে সারের চাহিদা কমবে। একই সঙ্গে কম সার প্রয়োগ করেও অধিক ফলন পাওয়া সম্ভব হবে বলে জানান মন্ত্রী।

বিএডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কৃষকের কাছে সঠিক সময়ে মানসম্মত বীজ ও সার পৌঁছে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে। সততা, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কৃষকের স্বার্থ, দেশের প্রয়োজন ও আগামী প্রজন্মের কল্যাণে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কৃষি সচিব মো. সেলিম খান ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম।

এর আগে মন্ত্রী সার গুদামের উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরিতে কত?

ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরিতে কত?

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দরে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম... বিস্তারিত