×

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

কলকাতার মুসলিম কলোনিতে ৪৭ দিন ধরে বন্ধ পানির সংযোগ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ১৭:২১:২৮

কলকাতার মুসলিম কলোনিতে ৪৭ দিন ধরে বন্ধ পানির সংযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কলকাতার উত্তরাংশের কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের জ্যোতিনগর কলোনিতে টানা ৪৭ দিন ধরে পানীয়জলের সংকটে রয়েছেন বাসিন্দারা। অভিযোগ, ২৯ জুলাই রাতের পর থেকে কলোনির পাঁচটি সরকারি কলে আর পানি আসছে না। বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। বাসিন্দাদের দাবি, আগে প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এসব কলে পানি পাওয়া যেত।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, ২৬ থেকে ২৮ জুলাই এলাকায় কলকাতা পৌরসভার পাইপলাইনের কাজ হয়েছিল। ২৮ জুলাই রাতের পর থেকেই পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বাসিন্দা মহিনুদ্দিন শেখের দাবি, রাস্তা মেরামতের সময় রাতের অন্ধকারে পাইপলাইনের সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তাদের আরও অভিযোগ, জ্যোতিনগর কলোনির আগে ও পরের এলাকার কলগুলোতে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও মাঝের এই অংশে পানি নেই। বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, কলোনির প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ মুসলিম।

পানি সরবরাহ বন্ধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৈষম্যের অভিযোগও উঠেছে। বাসিন্দাদের দাবি, পানি ও বিদ্যুতের মতো মৌলিক পরিষেবা বন্ধ করে তাদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে। কলোনির প্রধান আলমগীর বিশ্বাসের অভিযোগ, পানি-বিদ্যুৎ বন্ধ করে মানুষকে এমন পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা নিজেরাই জায়গা ছেড়ে চলে যান। তার দাবি, জ্যোতিনগরে দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু-মুসলিম পাশাপাশি বসবাস করছেন এবং এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রয়েছে।

তবে জানা যায়, প্রায় ৩ হাজার ৪৭৮ বর্গমিটার জমির ওপর গড়ে ওঠা এই কলোনির জমির মালিক শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি বন্দরের এস্টেট আধিকারিক কলোনির বাসিন্দাদের উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। ১৯৭১ সালের সরকারি সম্পত্তি থেকে বেআইনি দখলদার উচ্ছেদ আইনের আওতায় ওই নির্দেশ দেওয়া হয়।

উচ্ছেদ নিয়ে আইনি লড়াইও চলছে। ১৮ আগস্ট কলকাতার মুখ্য বিচারকের আদালত উচ্ছেদ থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দেওয়ার আবেদন খারিজ করে। পরদিন বাসিন্দারা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, হাইকোর্ট ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে পানি সংযোগ পুনরুদ্ধারের আবেদনও আদালতে করা হয়েছে, যার নিষ্পত্তি এখনও হয়নি।

এর মধ্যে ৯ সেপ্টেম্বর জ্যোতিনগর কলোনিতে যান সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। তার বক্তব্য, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া অমানবিক। তিনি বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানও জানান। স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি অবশ্য পানি সরবরাহের দায় নিজের ওপর নেননি। তার বক্তব্য, জমিটি বন্দরের এবং পানি সরবরাহের বিষয়টি কলকাতা পৌরসভার আওতাধীন। তিনি বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় রাজনৈতিক নেতাদের মন্তব্য করা উচিত নয়।

একই সময়ে বিদ্যুৎ নিয়েও সমস্যায় পড়েন বাসিন্দারা। তাদের দাবি, ২৯ জুলাই বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ হয়েছিল। পরে প্রায় এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের মধ্যে তা পুনরায় চালু হয়। তবে পানি সরবরাহ এখনও স্বাভাবিক হয়নি। ফলে পাশের এলাকার কল থেকে পানি সংগ্রহ, টাকা দিয়ে পৌরসভার পানির গাড়ি আনা এবং কখনও গঙ্গার পানি ব্যবহারের মতো পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটছে তাদের। কলোনির মনতুজ আলমের দাবি, গঙ্গার পানিতে গোসল করায় শিশুদের চর্মরোগও হচ্ছে।

জমির মালিকানা ও উচ্ছেদ নিয়ে আইনি বিরোধের পাশাপাশি দীর্ঘদিন পানি না থাকায় জ্যোতিনগর কলোনির প্রায় পাঁচ হাজার বাসিন্দার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। কলোনির অধিকাংশ বাসিন্দা মুসলিম হওয়ায় এ ঘটনাকে ঘিরে ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগও সামনে এসেছে। উচ্ছেদ প্রক্রিয়া আদালতে বিচারাধীন থাকলেও পানির মতো মৌলিক পরিষেবা বন্ধ থাকার বিষয়টি নিয়ে বাসিন্দাদের দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত