×

ঢাকা, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

র‍্যাবের বিলুপ্তি, নতুন এসআরবি গঠনের গেজেট প্রকাশ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ১৪:০৭:৪৬

র‍্যাবের বিলুপ্তি, নতুন এসআরবি গঠনের গেজেট প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রণীত নতুন আইনের গেজেট মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশ করেছে সরকার।

গেজেটে বলা হয়েছে, দেশের জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে পুলিশ বাহিনীকে সহায়তার জন্য একটি আধুনিক, পেশাদার, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক বিশেষায়িত ইউনিট প্রয়োজন। পাশাপাশি এ ধরনের ইউনিটের ক্ষমতা প্রয়োগে স্বচ্ছতা, তদারকি ও কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যমান র‍্যাব বিলুপ্ত করে নতুন এসআরবি গঠনের জন্য আইন করা হয়েছে বলে গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে বিরোধী দলের আপত্তির মধ্যেই ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে বিল পাস হয়। বৃহস্পতিবার র‍্যাব বিলুপ্তির বিধান রেখে বিলটি সংসদে পাস করা হয়।

বিলটি পাসের সময় বিরোধী দল অভিযোগ করে, এর মাধ্যমে মূলত র‍্যাবের শুধু ‘সাইনবোর্ড’ পরিবর্তন করা হচ্ছে। তাদের ভাষ্য ছিল, এটি ‘নতুন বোতলে পুরোনো মদ’ এবং র‍্যাবই এসআরবির মোড়কে ফিরে আসছে।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই আইন পাসের মধ্য দিয়ে র‍্যাব বিলুপ্ত হচ্ছে। র‍্যাবের সঙ্গে এসআরবির কোনো সংস্পর্শ নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

এসআরবি আইনে র‍্যাবের জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, নগদ ও ব্যাংকে থাকা অর্থ, দায়, চুক্তি, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্রসহ সব ধরনের দলিল এসআরবির কাছে স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে।

গেজেট অনুযায়ী, পুলিশ বাহিনীর আওতাধীন এসআরবি নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট থাকবে। সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ, শৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্ধারিত সংখ্যক কর্মকর্তা, আর্মড পারসোনেল বা কর্মচারী পদায়ন কিংবা প্রেষণে নিয়োগের মাধ্যমে ইউনিটটি গঠন করা হবে। কর্মকর্তা, আর্মড পারসোনেল ও কর্মচারীদের পদবিন্যাস, নিয়োগ পদ্ধতি এবং চাকরির শর্ত বিধির মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

ইউনিটটির জন্য বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত পতাকা, প্রতীক ও সুনির্দিষ্ট পোশাক থাকবে। এসআরবির মহাপরিচালক হিসেবে পুলিশে কর্মরত অন্যূন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

র‍্যাবের কাঠামো নিয়ে সমালোচনার অন্যতম বিষয় ছিল নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ব্যবহার। গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন ও মানবাধিকারকর্মীরা নতুন বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের ক্ষেত্রে শুধু প্রশিক্ষিত পুলিশ সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

তবে নতুন আইনে পুলিশের বাইরে অন্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকেও কর্মকর্তা ও সদস্যদের প্রেষণে বা অস্থায়ীভাবে এসআরবিতে সংযুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। ‘শৃঙ্খলা বাহিনী’র সংজ্ঞায় সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদের উল্লেখ থাকায় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদেরও এসআরবিতে নেওয়ার সুযোগ থাকছে।

নতুন আইনের বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত ২০০৫ সালের বিদ্যমান বিধিমালায় র‍্যাব-সংক্রান্ত বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা বা আদালতের কার্যধারা বহাল থাকবে। একই সঙ্গে এসআরবিকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও জব্দের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার বিধানও আইনে রাখা হয়েছে। ফলে র‍্যাবের পরিবর্তে পুলিশের অধীনে নতুন কাঠামোয় এসআরবির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত কাঠামো গেজেটের মাধ্যমে কার্যকর করা হলো।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত