ঢাকা, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
সংক্রমণ ঠেকাতে বেওয়ারিশ লাশ দাফন নেপালে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় উদ্ধার হওয়া পরিচয়হীন ও দাবিদারহীন লাশগুলো দাফন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। মরদেহগুলো দ্রুত পচে দুর্গন্ধ ছড়ানো এবং এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার শঙ্কায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খবর এনডিটিভির।
গত বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ হিমবাহ ধসের ঘটনা ঘটে। এতে পানি, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের ভয়াবহ স্রোতে নেপালের বিভিন্ন গ্রাম ও শহর ভেসে যায়। ভয়াবহ এ দুর্যোগের পঞ্চম দিনে অন্তত ৬৭৫টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের সীমান্তবর্তী দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা চিতওয়ানে সবচেয়ে বেশি—২৩৩টি লাশ পাওয়া গেছে।
চিতওয়ানে মরদেহ সংরক্ষণের জন্য হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত জায়গা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়েছে।
এক কর্মকর্তা জানান, লাশের সংখ্যা বাড়তে থাকায় একটি বাড়িকে অস্থায়ীভাবে লাশ রাখার স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। কিন্তু সেখানেও জায়গা শেষ হয়ে যাওয়ায় দাফন ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অস্থায়ীভাবে রাখা লাশগুলো পচে যাওয়ার সঙ্গে দুর্গন্ধ ও সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে।
তবে স্বজনদের ভবিষ্যতে লাশ শনাক্ত করার সুযোগ রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দাফনের আগে প্রতিটি লাশের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করছে কর্তৃপক্ষ।
প্রতিটি লাশকে একটি স্বতন্ত্র শনাক্তকরণ নম্বর দেওয়া হচ্ছে এবং কোথায় দাফন করা হয়েছে, সেই তথ্যও সংরক্ষণ করা হবে। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় নিশ্চিত হলে স্বজনরা লাশটি কবর থেকে তুলে নিতে পারবেন।
শনিবার বিকেল পর্যন্ত ১০০টির বেশি লাশের ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং সেগুলো দাফনের জন্য প্রস্তুত ছিল।
লাশগুলো প্রায় ১.৫ মিটার গভীর কবরে দাফন করা হচ্ছে, যাতে প্রয়োজন হলে পরে সহজে তুলে আনা যায়। প্রতিটি কবরের মধ্যে প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার দূরত্ব রাখা হচ্ছে, যাতে ডিএনএ মিললে নির্দিষ্ট মরদেহটি সহজে শনাক্ত করে উত্তোলন করা যায়।
এ ছাড়া প্রতিটি মরদেহ নম্বরযুক্ত ব্যাগে রাখা হচ্ছে। কবরের পাশে একটি কংক্রিটের প্ল্যাটফর্ম ও পরিচয়ফলক বসানো হচ্ছে, যেখানে মরদেহের শনাক্তকরণ নম্বর থাকবে।
পুরো দাফন প্রক্রিয়া ছবি ও ভিডিওতে নথিভুক্ত করার পাশাপাশি কবরের অবস্থান জিও-ট্যাগ করে রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ডিএনএ মিললেই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর
নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজছেন এমন ব্যক্তিদের দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ডিএনএ নমুনা দিতে হবে। পরে স্বাস্থ্য বিভাগ স্বজনদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মরদেহের ডিএনএ মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করবে।
পরিচয় নিশ্চিত হলে সংশ্লিষ্ট লাশের নম্বর দেখে পুলিশ তার কবরের সঠিক অবস্থান শনাক্ত করবে। এরপর লাশটি কবর থেকে তুলে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পরিচয়হীন ও দাবিদারহীন লাশগুলোর তথ্য পুলিশ একটি ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করেছে।
এদিকে নেপালে এখনো ২ হাজার ৪২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকশ বিদেশিও রয়েছেন।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- ‘ছয় মাসে জুলাই সনদের একটি অক্ষরও বাস্তবায়ন করেনি বিএনপি’
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ
- বক্তৃতায় দায় সারছে কমিশন, ধসের মুখে পড়েছে বাজার
- মেঘনা গ্রুপে বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ
- সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ডিজিটাল ঋণ চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক
- ছাদখোলা গাড়িতে লংমার্চে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, গাড়িটি কার?