ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

৪১ লাখ ফ্যামিলি কার্ডের টাকা দেবে কে?

২০২৬ আগস্ট ২৮ ১৩:৫৬:০০

৪১ লাখ ফ্যামিলি কার্ডের টাকা দেবে কে?

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় ৪১ লাখ নারীকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রথম ধাপে ৪১ লাখ পরিবারের জন্য কার্ড তৈরিতে প্রায় ২৪৬ কোটি টাকা ব্যয় হবে। তবে প্রতিটি কার্ড তৈরির ৬০০ টাকা সরকার বহন করবে, নাকি অন্য কোনোভাবে এ অর্থের জোগান হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

কার্ড তৈরির এই ব্যয়ের পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব পরিচালনা, অর্থ স্থানান্তর এবং মোবাইল আর্থিক সেবা ব্যবহারের জন্য আলাদা খরচ ও চার্জ রয়েছে। ফলে ৪১ লাখ পরিবারকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি পুরো ডিজিটাল বিতরণ ব্যবস্থায় সরকারের মোট ব্যয় কত দাঁড়াবে, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির অর্থ বিতরণে টাকাপে ব্যবস্থাকে কাজে লাগানো এবং এর সঙ্গে সরকারি তফসিলি ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করার বিষয়ে মঙ্গলবার সচিবালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থ বিভাগ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও এতে অংশ নেন। তবে কার্ড তৈরির খরচের দায় কে বহন করবে, সে বিষয়ে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

অর্থ বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, প্রতিটি কার্ড তৈরির ৬০০ টাকা সরকার নাকি অন্য কোনো মাধ্যমে নির্বাহ করবে, তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সরকার চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রথম ধাপে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেবে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ কর্মসূচির জন্য প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এরই মধ্যে সামনে এসেছে কার্ড তৈরির খরচের বিষয়টি। শুধু প্রথম ধাপের ৪১ লাখ কার্ড তৈরিতেই প্রায় ২৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রশ্ন রয়েছে। এর সঙ্গে পুরো ব্যবস্থার প্রশাসনিক ও লেনদেন ব্যয় যুক্ত হলে মোট খরচ আরও বাড়বে।

অর্থ বিভাগের আরেক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে সরাসরি সরকারি সহায়তা দেওয়া। তাই কার্ড তৈরির খরচের নামে সুবিধাভোগীদের ওপর নতুন কোনো আর্থিক চাপ তৈরি করা হবে কি না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাশাপাশি সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

এর আগে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছিলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং কার্ড দেওয়ার নামে কোথাও টাকা চাওয়ার সুযোগ নেই। এ ধরনের টাকা দাবি করাকে তিনি প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, আগামী বৈঠকে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ডপ্রাপ্তদের হিসাব পরিচালিত হবে। এসব ব্যাংকের বাইরে টাকাপে কার্ড ব্যবহার করে বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ডের গ্রাহকেরা টাকা তুলতে পারবেন।

ফ্যামিলি কার্ডকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ বৈঠক শেষে বলেছেন, কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাজেট কোনো বাধা হবে না; যত প্রয়োজন তত দেওয়া হবে। এটি শুধু সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নয়, বরং নারীর ক্ষমতায়ন এবং গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার একটি মানবিক উদ্যোগ। অর্থনৈতিক উন্নয়নেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে ২৪৬ কোটি টাকার কার্ড তৈরির ব্যয়ের বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

টাকাপের মাধ্যমে টাকা যাবে

ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ বিতরণে টাকাপে ব্যবহারের পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা তৈরি করা। সংশোধিত সভার নোটিশে টাকাপে ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের আন্তঃসংযোগের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় উপকারভোগীর হাতে নগদ টাকা তুলে দেওয়ার পরিবর্তে নির্ধারিত ব্যাংক হিসাব বা ডিজিটাল আর্থিক সেবার মাধ্যমে অর্থ পাঠানো হবে।

এর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ কমবে এবং সরকারি অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগীর কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বাড়বে। আগামী চার বছরে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। প্রতি কার্ডে ৬০০ টাকা ব্যয় হলে ১ কোটি ৬০ লাখ কার্ড তৈরিতেই খরচ দাঁড়াবে প্রায় ৯৬০ কোটি টাকা।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত