ঢাকা, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
জুমার দিনের আমল ও ফজিলত, যে কাজগুলো গুরুত্বপূর্ণ
ডুয়া ডেস্ক: মুসলমানদের কাছে জুমার দিন সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। ইসলামে এ দিনের বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলত রয়েছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে জুমার নামাজ, এ দিনের ইবাদত এবং এর বিভিন্ন আমলের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ, জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য ডাকা হয়, তখন আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও। কেনাবেচা ছেড়ে দাও, এটাই তোমাদের জন্য অতি উত্তম, যদি তোমরা জানতে!’ (সুরা জুমা, আয়াত : ৯)
এই উম্মতের প্রতি বিশেষ দান জুমা
আল্লাহ তাআলা আগের জাতিদের সপ্তাহের শ্রেষ্ঠতম দিনে বিশেষ ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা সেই শ্রেষ্ঠ দিন নির্ধারণে মতবিরোধে জড়ায়। ইহুদিরা শনিবার এবং খ্রিষ্টানরা রোববারকে নির্ধারণ করে। তবে শ্রেষ্ঠ দিন ছিল জুমা। আল্লাহ তাআলা বিশেষ অনুগ্রহে মুহাম্মাদ (সা.)-এর উম্মতকে এ দিন দান করেছেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শ্রেষ্ঠতম এক দিনে সবাই একত্র হয়ে বিশেষ ইবাদত করা তাদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা এতে মতবিরোধ করেছে। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক দিনটির পথ দেখিয়েছেন। সুতরাং এক্ষেত্রে মানুষ আমাদের অনুগামী। ইহুদিদের শ্রেষ্ঠ দিন জুমার পরের দিন শনিবার আর খ্রিষ্টানদের শ্রেষ্ঠ দিন এর পরের দিন রোববার।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৭৬)
জুমার দিন সমস্ত দিনের সরদার
আল্লাহর কাছে সবচেয়ে মহান দিন জুমার দিন। সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্যেও এটি শ্রেষ্ঠ। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দিনসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হলো জুমার দিন। এ দিন আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এ দিন তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে। এ দিনই তাকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে। কিয়ামতও সংঘটিত হবে এ দিনেই।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৮৫৪)
জুমার দিনের বিশেষ পাঁচ বৈশিষ্ট্য
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনের বিশেষ পাঁচটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এ দিন আল্লাহ তাআলা আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন। এ দিন তাঁকে জান্নাত থেকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন, এ দিনেই আল্লাহ তাঁকে মৃত্যু দিয়েছেন। জুমার দিন একটা সময় আছে, এ সময় বান্দা আল্লাহর কাছে যা চাইবে, তিনি তাকে তা দেবেন। যদি না সে হারাম কোনো বিষয়ের প্রার্থনা করে। কিয়ামতও সংঘটিত হবে জুমার দিনেই।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১০৮৪১)
এক সপ্তাহের গোনাহ মাফ
জুমার দিন অবহেলায় কাটানো উচিত নয়। এ দিনে জুমার নামাজ আদায়, দোয়া ও অন্যান্য নেক আমল করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এক জুমা থেকে আরেক জুমা মধ্যবর্তী সময়ের গোনাহ মোচনকারী। যদি কবিরা (বড়) গোনাহ না করা হয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৩৩)
দশ দিনের গোনাহের ক্ষমা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে জুমার দিন মাথা ধুয়ে গোসল করে উত্তম আতর ব্যবহারের পর ভালো জামা পরে নামাজের উদ্দেশে বের হয়। (মসজিদে গিয়ে একসঙ্গে থাকা) দুজনের মাঝে গিয়ে না বসে মনোযোগের সঙ্গে ইমামের খুতবা শোনে। ওই ব্যক্তির এক জুমা থেকে আরেক জুমা এবং অতিরিক্ত আরও তিন দিনের গোনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।’ (সহিহ ইবনে খুজায়মা, হাদিস : ১৪০৩)
এক বছরের নামাজ আদায়ের সওয়াব
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে জুমার দিন ভালো করে গোসল করে সকাল সকাল মসজিদে আসবে। ইমামের নিকটবর্তী হয়ে মনোযোগ সহকারে খুতবা শুনবে ও চুপ থাকবে, তার জুমার নামাজে আসার প্রত্যেক পদক্ষেপে এক বছরের নামাজ ও রোজার পালনের সওয়াব হবে।’ (সুনানে তিরমিজি)
জুমার দিনের আমল
জুমার দিনে নেক আমল ও ইবাদতের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলো হলো-
নখ কাটা ও গায়ের অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার করা।ভালোভাবে গোসল করা।উত্তম পোশাক পরিধান করা।সম্ভব হলে সুগন্ধি ব্যবহার করা।সবার আগে মসজিদে যাওয়া।জুমার নামাজ আদায় করা।দোয়া করা।রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ পড়া।সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করা।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ
- ১১-২০ গ্রেডের চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ছে
- চলতি মাসে টানা চার দিনের ছুটির সুযোগ
- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের ভাইভার তারিখ প্রকাশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ সেপ্টেম্বর)
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ভাষা বিষয়ক `NAT-Test`সেবা চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
- নারী এশিয়া কাপ সেমিফাইনাল: কবে, কখন কোন দলের ম্যাচ
- আজকের নামাজের সময়সূচি (৮ সেপ্টেম্বর)
- বুটেক্সে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা
- ফের ব্যালন ডি’অরের তালিকায় মেসি
- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে মাহমুদা মিতু