ঢাকা, বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

তারেক রহমানের দিল্লি সফর কেন বারবার আটকে যাচ্ছে

২০২৬ আগস্ট ২৬ ১১:২৫:১৯

তারেক রহমানের দিল্লি সফর কেন বারবার আটকে যাচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি আগস্ট মাসের দ্বিতীয়ার্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের পরিকল্পনা অন্তত দুবার শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়েছে। সফরের দিনক্ষণও প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। এরপরও শেষ পর্যন্ত তাঁর দিল্লি সফর হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ছয় মাস আগেই। গত ফেব্রুয়ারিতে তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা নিজেই সেই আমন্ত্রণপত্র তাঁর হাতে তুলে দিয়েছিলেন।

এরপর সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনেও বিমস্টেক জোটের চেয়ার হিসেবে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে গত মাসে।

ফলে দুটি আমন্ত্রণ থাকা এবং গত ১০ দিনের মধ্যে অন্তত দুবার দিল্লি সফরের দিনক্ষণ নির্ধারিত হওয়ার পরও এখনো ভারতের রাজধানীতে পা রাখেননি তারেক রহমান। একবার তো রাষ্ট্রপতি ভবনে সফররত বিদেশি অতিথিকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানোর মহড়াও প্রায় নজিরবিহীনভাবে বাতিল করতে হয়েছে।

কিন্তু কেন শেষ মুহূর্তে বারবার ভেস্তে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর? কী নিয়ে তৈরি হচ্ছে জটিলতা এবং ভারতই বা বিষয়টিকে কীভাবে দেখছে?

শেখ হাসিনা ফ্যাক্টর

প্রস্তাবিত সফর এখনো বাস্তবায়িত না হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে ঘোষিত ও অঘোষিতভাবে ভারতে শেখ হাসিনার উপস্থিতির বিষয়টি সামনে এসেছে।

বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করেছে, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ বা বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি পূরণ না হলে সফরের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে ভারতের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য হলো, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ বিবেচনাধীন রয়েছে। তবে তিনি বর্তমানে যা বলছেন বা করছেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত বা স্বতন্ত্র অবস্থান থেকে; এর সঙ্গে দিল্লির কোনো সম্পর্ক নেই এবং দিল্লি তাঁর বক্তব্য অনুমোদনও করে না।

তবে বাস্তবতা হলো, দুই দেশের কেউই অন্য পক্ষের বক্তব্য পুরোপুরি বিশ্বাস করছে না।

ঢাকার ধারণা, গত ৫ আগস্ট দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে অনলাইনে যুক্ত হয়ে শেখ হাসিনা যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, তা ভারতের প্রচ্ছন্ন সমর্থন ছাড়া সম্ভব ছিল না। এ বিষয়ে কড়া প্রেস বিবৃতিও দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ভারতের ধারণা, বাংলাদেশ সরকার মুখে প্রত্যর্পণের কথা বললেও বাস্তবে শেখ হাসিনাকে তাদের হাতে তুলে দিতে চায় না। কারণ, এতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং বিএনপি সরকারের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে।

অর্থাৎ, ভারত মনে করছে, প্রত্যর্পণের দাবিকে একটি অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ফলে শেখ হাসিনা ইস্যু সফরের অন্যতম প্রধান অন্তরায় হলেও দুই দেশ যে ভাষায় বিষয়টি তুলে ধরছে, প্রকৃত কারণটি হয়তো তার চেয়ে কিছুটা ভিন্ন।

সমাধানের পথ কী

ভারতের বক্তব্য, শেখ হাসিনাকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রিজমের বাইরে রেখেই ঢাকা ও দিল্লি নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে পারে।

ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীও কয়েক দিন আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে একই বার্তা দিয়েছেন।

তবে বাংলাদেশের বক্তব্য, শেখ হাসিনার শাসনামলকে দেশের একটি বড় অংশ মূর্তিমান স্বৈরাচার হিসেবে দেখে। সেই শেখ হাসিনা যে দেশের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে রয়েছেন, সেখানে তারেক রহমানের সফর দেশের অনেক মানুষ ভালোভাবে নেবেন না।

ফলে ভারতকে অন্তত দেখাতে হবে যে তারা শেখ হাসিনার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখছে।

ভারতের কর্মকর্তারা আভাস দিয়েছেন, বাংলাদেশ যাতে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবিতে অনড় না থাকে, বরং তিনি যে ডিসেম্বরে দেশে ফিরে যাওয়ার কথা বলেছেন, সেই পথ প্রশস্ত করার জন্য চেষ্টা করে-ঢাকাকে সেই অবস্থান বোঝানোর চেষ্টা করছে দিল্লি।

সাউথ ব্লকের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ওনার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়া এবং বিচার প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হওয়া নিয়ে মূল কথা। তো উনি যখন নিজে থেকেই ফিরতে চাইছেন, আমাদের জোর করে ফেরত পাঠানোর চেয়ে তো সেটা অনেক ভালো, তাই না?’

ফলে ওই প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো সমঝোতা হলে তারেক রহমানের ভারত সফরের বাধাও দূর হবে বলে মনে করছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

দিল্লির আগ্রহ

বাধাবিপত্তি থাকলেও ভারত যে তারেক রহমানের দ্রুত দিল্লি সফর চায়, তা স্পষ্ট। দেশটি সর্বোচ্চ পর্যায়ে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী।

কারণ, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে ভারতের অনেক প্রকল্পের কাজ থমকে আছে। গঙ্গা চুক্তি নবায়নের আলোচনা কার্যত বন্ধ। বহু বাণিজ্যিক বিধিনিষেধও এখনো বহাল রয়েছে। এর মধ্যে তারেক রহমান কিছুদিন আগে চীন সফরও করেছেন।

ভারতের ধারণা, বিভিন্ন জরুরি কারণে বাংলাদেশও তারেক রহমানের দিল্লি সফর বাস্তবায়িত হোক—এমনটাই চায়। কিন্তু ‘ডোমেস্টিক অডিয়েন্স’ বা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিজনিত বাধাবিপত্তির কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।

এখন দিল্লি মনে করছে, দ্বিপাক্ষিক সফর এই মুহূর্তে সম্ভব না হলেও বিমস্টেকের চেয়ারপার্সন হিসেবে ব্রিকসের বহুপাক্ষিক ফোরাম তারেক রহমানের ভারত সফরের একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে।

বহুপাক্ষিক ফোরামগুলোর আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ভারত ও পাকিস্তানকেও অনেক ক্ষেত্রে একই টেবিলে বসতে বাধ্য করে। কখনো কখনো এসব ফোরামের সাইডলাইনে আলাদা আলোচনারও সুযোগ তৈরি হয়।

তারেক রহমান ব্রিকসের অনুষ্ঠানে দিল্লি গেলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর আলাদা বৈঠক হবে—এমন সম্ভাবনাও প্রবল।

ফলে দিল্লির ধারণা, শেষ পর্যন্ত তারেক রহমান এই সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন।

দিল্লির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, শেখ হাসিনা ইস্যুতে ভারত তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং সমাধানের একটি ফর্মুলাও দিয়েছে। এখন তারেক রহমান দিল্লিতে আসবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশেরই।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন নতুন রাষ্ট্রপতি

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন নতুন রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (২২... বিস্তারিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ আগস্ট) r

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ আগস্ট) r

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে ফের স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে।... বিস্তারিত