ঢাকা, বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

ঘুস নেওয়ার অভিযোগের ভিডিও ভাইরাল, যা বললেন প্রধান শিক্ষক

২০২৬ আগস্ট ২৬ ১০:৩০:০৭

ঘুস নেওয়ার অভিযোগের ভিডিও ভাইরাল, যা বললেন প্রধান শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের কাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরির চাকরি দেওয়ার নামে দুই লাখ টাকা ঘুস এবং স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য পদ দেওয়ার নামে লাখ টাকা ঘুস নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক নাজমুল হকের বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ওই ভিডিওতে কাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য প্রার্থী মাসুদ রানার সঙ্গে প্রধান শিক্ষক নাজমুল হককে কথা বলতে দেখা যায়।

কথোপকথনের একপর্যায়ে মাসুদ রানা প্রশ্ন করেন, যে লোক তাঁকে ডিম সিদ্ধ করে খাওয়ান, তাঁর কাছ থেকেও দপ্তরির চাকরি দেওয়ার কথা বলে দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে কি না। এভাবে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি প্রশ্ন করেন।

জবাবে প্রধান শিক্ষক নাজমুল হক বলেন, ‘২ লাখ নিছি, সামনে আরও ১০ লাখ নিয়াম। এইবার তো শুরু। তাছাড়া ইউএনওর কাছে যে অভিযোগ দিছে, সেখানে কি ঘুসের কথা লেখতারছে, আমি যে ঘুস নিছি?’

ছেলের দপ্তরির চাকরির জন্য প্রধান শিক্ষককে দুই লাখ টাকা ঘুস দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন ভুক্তভোগী বাবা নুরুল ইসলাম।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ছেলে কাউসারের চাকরির জন্য ঋণ করে দুই লাখ টাকা দিয়েছিলেন। পরে জানতে পারেন, দপ্তরির চাকরি দেওয়ার কোনো ক্ষমতাই প্রধান শিক্ষকের নেই। টাকা ফেরত চাইলে তিনি তালবাহানা করেন। পরে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো টাকা ফেরত পাননি তিনি।

ভিডিওতে স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য পদ দেওয়ার নামেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠে আসে। সদস্য বানানোর কথা বলে ১০ হাজার টাকা করে নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধান শিক্ষক বলেন, এই টাকা নেওয়ার সরকারি চিঠি আছে, যা টিও ও এটিও স্যাররাও জানেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘যিনিই সভাপতি হন, আমার কাছে আইতে হইব।’

প্রধান শিক্ষকের এমন প্রকাশ্য ঘুস লেনদেনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে। একজন শিক্ষকের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির অভিযোগে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক নাজমুল হক বলেন, তাঁর অজান্তে গোপনে ভিডিও করা হয়েছে। তিনি এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ বলেন, এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার কথা তিনি শুনেছেন। এতে দপ্তরের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন নতুন রাষ্ট্রপতি

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন নতুন রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (২২... বিস্তারিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ আগস্ট) r

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ আগস্ট) r

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে ফের স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে।... বিস্তারিত