ঢাকা, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

ডিবি হারুনকে ঘিরে সামনে এলো নতুন তথ্য

২০২৬ আগস্ট ১৯ ১৪:৫৮:৫২

ডিবি হারুনকে ঘিরে সামনে এলো নতুন তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর একটি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রকে ঘিরে ব্যবসায়ী ও হক গ্রুপের কর্ণধার আদম তমিজী হককে অবৈধভাবে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে তৎকালীন ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গ্রেপ্তারের পর তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে ওই নিরাময়কেন্দ্রে রাখা হয়। একই সঙ্গে তাকে মানসিক রোগী হিসেবে প্রমাণের চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। এ ঘটনায় নিরাময়কেন্দ্রটির ভূমিকা, অর্থ আদায় এবং প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে সেখানে কীভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে নানা তথ্য সামনে এসেছে।

২০২৩ সালের ৯ ডিসেম্বর ফেসবুক লাইভে এসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন আদম তমিজী হক। এর পরপরই তার ওপর নজরদারি শুরু হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। একপর্যায়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও কারাগারে না পাঠিয়ে রাজধানীর একটি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে রাখা হয়। পরে তমিজীর পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, তমিজীকে সেখানে আটকে রাখার বিনিময়ে ‘বীকন পয়েন্ট’ নামের ওই নিরাময়কেন্দ্র কয়েক লাখ টাকা সার্ভিস চার্জ নেয়। তাকে মানসিক রোগী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বাইরে থেকে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককেও সেখানে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের কেউ তাকে মানসিক রোগী হিসেবে সনদ দিতে রাজি হননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চিকিৎসকদলের এক সদস্যের ভাষ্য, তমিজী হককে পরীক্ষা করার পর তাকে মানসিক রোগী বলে মনে হয়নি। এরপরও তাকে সেখানে আটকে রাখার চেষ্টা করা হলে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে আদালতের আদেশ আনার কথা বলা হয়। এতে তৎকালীন ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ ক্ষুব্ধ হন বলে ওই চিকিৎসক দাবি করেন। এ সময় বীকন পয়েন্টের কয়েকজন কর্মকর্তাও চিকিৎসকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রের দাবি, শেষ পর্যন্ত কোনো চিকিৎসা সনদ ছাড়াই তমিজীকে বেশ কিছুদিন ওই কেন্দ্রে রাখা হয়। বিষয়টি গোপন রাখতে নিরাময়কেন্দ্রটির একটি ফ্লোর খালি করে সেখানে তাকে একা রাখা হয়েছিল। তার জন্য আলাদা খাবার, পানীয় ও বিনোদনের ব্যবস্থাও করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

এ বিষয়ে নারকোটিক্সের এক উপপরিচালকের ভাষ্য, বীকন পয়েন্টে তমিজী হককে অবৈধভাবে আটকে রাখার বিষয়টি জানার পরও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। এর পেছনে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হারুন অর রশীদের ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে বলে তিনি জানান। তার দাবি, হারুনের কর্মকাণ্ডে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন রয়েছে এমন ধারণাই তখন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ছিল।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নিরাময়কেন্দ্রগুলোতে শুধু তমিজী হককে আটকে রাখার ঘটনাই নয়, আরও নানা ধরনের অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও স্ত্রী তার পরকীয়া প্রেমিকের সহায়তায় স্বামীকে মাদকাসক্ত সাজিয়ে দীর্ঘদিন আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে। আবার সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এক ভাইকে আরেক ভাইয়ের আটকে রাখার ঘটনাও ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

এ ছাড়া একটি নিরাময়কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন এক তরুণী ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সামাজিক মর্যাদার কথা বিবেচনা করে তার পরিবার বিষয়টি নিয়ে কোনো অভিযোগ করেনি বলে জানা গেছে। অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় মরদেহ গোপন করে রাখার অভিযোগও উঠেছে।

সমাপনী: সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরাময়কেন্দ্র ঘিরে এমন একাধিক অভিযোগ থাকলেও অনেক ঘটনাই প্রকাশ্যে আসে না। ফলে অনিয়ম ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও সীমিত থেকে যায়।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত