ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩

কৃষিতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চায় সরকার

২০২৬ আগস্ট ১৮ ১৬:৪৭:২৩

কৃষিতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চায় সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারের প্রথম ছয় মাসে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও অগ্রগতি সন্তোষজনক বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, সংরক্ষণব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে দেশ ধীরে ধীরে কৃষিপণ্য আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসবে।

মঙ্গলবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সারের মজুত পরিস্থিতি তুলে ধরে আমিন উর রশিদ বলেন, দেশে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই। বরং চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত সার মজুত রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার সারের মজুতও বেশি। সারের কৃত্রিম সংকটের কথা বলে যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ।

কৃষি খাতের উন্নয়ন ও সরকারের বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রার অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রতি মাসে সাড়ে তিন লাখ থেকে চার লাখ কৃষকের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করা হবে। ইতিমধ্যে পাইলট পর্যায়ে প্রায় ১৪ লাখ কৃষকের তথ্য নিয়ে ডেটাবেজ প্রস্তুত করা হয়েছে।

তিনি জানান, গত ছয় মাসে ২৫ লাখ গাছের চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২৪ লাখ ১৮ হাজারের বেশি চারা রোপণ করা হয়েছে। একই সময়ে ৪৭৮ দশমিক ৯ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৪৭৫ দশমিক ৬১ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন হয়েছে।

পেঁয়াজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, চলতি বছর এখন পর্যন্ত কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। আগে সংরক্ষণের অভাবে পেঁয়াজ পচে নষ্ট হতো। প্রযুক্তির ব্যবহারে এখন ছয় মাস পর্যন্ত পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। আগামী দিনে তিন লাখ টন পেঁয়াজ সংরক্ষণের অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষিপণ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে আমিন উর রশিদ বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে কোনো কৃষিপণ্য যেন বিদেশ থেকে আমদানি করতে না হয়। এ লক্ষ্যে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সংরক্ষণসুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আশ্বাস দেন, পাটবীজ, পেঁয়াজবীজ ও আদার ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, আগামী বছর থেকে ‘ব্রি ১১৮’ নামের নতুন একটি ধানের জাতের চাষ শুরু হবে। এই জাত হাওর অঞ্চলে প্রচলিত সময়ের ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই রোপণ করা যাবে। ফলে আগাম বন্যার হাত থেকে ফসল রক্ষায় জাতটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানোর উদ্যোগের কথা জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সেচের খরচ কৃষকদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। সেচে ব্যবহৃত দেশের সব পাম্প সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ইতিমধ্যে ৬০ থেকে ৬২ হাজার পাম্প সৌরবিদ্যুতে পরিচালনার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

এ সময় কৃষি সচিব মো. সেলিম খান উপস্থিত ছিলেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৭ আগস্ট)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৭ আগস্ট)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে সর্বশেষ সমন্বয় করা দামেই সোমবার (১৭ আগস্ট) স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে ২... বিস্তারিত