ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি ঠেকাতে ১২ নির্দেশনা
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থী ঠেকাতে বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণসহ ১২ দফা নির্দেশনা দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের অপব্যবহার রোধে পরীক্ষাকেন্দ্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনার চিঠি সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব/সচিব, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়, সম্প্রতি মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং অধীন দপ্তর ও সংস্থাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কার্যক্রমে কিছু পরীক্ষার্থী নিজের পরিবর্তে নানা ধরনের অসদুপায় অবলম্বন করে চাকরি পাওয়ার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার রয়েছে।
এতে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীর পরিবর্তে অযোগ্য ও ভুয়া প্রার্থীর চাকরি পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা সুষ্ঠু নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থী প্রতিরোধে ১২টি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১. আবেদনপত্রে আবেদন দাখিলের এক মাসের মধ্যে তোলা সাম্প্রতিক রঙিন ছবি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।
২. লিখিত পরীক্ষার আগে প্রার্থীদের আবেদনপত্র ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করতে হবে।
৩. পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের সময় কোনো পরীক্ষার্থীকে ক্ষুদ্রাকৃতির ব্লুটুথ ডিভাইস, মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, ডিজিটাল হাতঘড়িসহ কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ব্যাগ বা বই-পুস্তক নিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সহায়তায় কেন্দ্রের গেটে মেটাল ডিটেকটর দিয়ে পরীক্ষার্থীদের তল্লাশি করা যেতে পারে।
৪. পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর কোনো পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।
৫. পরীক্ষা কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন না।
৬. প্রবেশপত্র ও হাজিরা শিটে সংযুক্ত ছবির সঙ্গে পরীক্ষার্থীর চেহারা এবং রোল নম্বর মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর কক্ষ পরিদর্শকেরা উত্তরপত্রে স্বাক্ষর করবেন। কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানাতে হবে।
৭. মৌখিক পরীক্ষার সময় প্রবেশপত্র এবং লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্রের সঙ্গে প্রার্থীর হাতের লেখার সাদৃশ্য পরীক্ষা করতে হবে। প্রয়োজনে মৌখিক পরীক্ষা বোর্ডে পুনরায় সংক্ষিপ্ত আকারে লেখা নিয়ে তা উত্তরপত্রের লেখার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।
৮. সম্ভব হলে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সব পরীক্ষার্থীর ছবি তুলে রাখতে হবে। পরবর্তী সময়ে ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের সঙ্গে ওই ছবি মিলিয়ে দেখতে হবে।
৯. ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সব পরীক্ষার্থীর ছবি বাধ্যতামূলকভাবে তুলে রাখতে হবে। পরবর্তী সময়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থী চাকরিতে যোগদানের সময় ওই ছবি পরীক্ষা করে যোগদানপত্র গ্রহণ করতে হবে।
১০. পরীক্ষার আগে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা নিতে হবে।
১১. পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল কোর্ট বা সামারি ট্রায়াল পরিচালনার জন্য পূর্বপ্রস্তুতি নিতে হবে। ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থী শনাক্ত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলকভাবে মোবাইল কোর্ট, সামারি ট্রায়াল অথবা নিয়মিত মামলা করতে হবে।
১২. ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থী প্রতিরোধে বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।
চিঠিতে বলা হয়, মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে তাদের অধীন দপ্তর, সংস্থা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি অবহিত করতে হবে। একই সঙ্গে পরীক্ষা চলাকালে প্রয়োজনীয় ভিজিল্যান্স টিমের মাধ্যমে বিষয়টি তদারকের ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষপর্বের ফল প্রকাশ
- মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাইয়ের বেতন ফাইল চূড়ান্ত
- এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণে আবেদন করবেন যেভাবে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৯ আগস্ট)
- দাখিল ও কারিগরি বোর্ডের ফল দেখবেন যেভাবে
- জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে যেতে টিকিট কাটবেন যেভাবে
- মালয়েশিয়াকে ৮৯ রানে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১০ আগস্ট)
- পরীক্ষায় ফেল বা খারাপ করার পর শিক্ষার্থীদের করণীয় কী
- আজকের বাজারে স্বর্ণ-রুপার দাম (৫ আগস্ট)
- পাঁচ দপ্তরে নতুন সচিব নিয়োগ দিল সরকার
- পিএসসিতে আরও চার সদস্য নিয়োগ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ আগস্ট)
- একাদশে ভর্তি: আবেদন ও প্রক্রিয়া জানুন
- ১৯তম নিবন্ধন থেকে শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ করবে না এনটিআরসিএ