ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩
স্বামীর অনুমতি ছাড়া তার পকেট থেকে টাকা নেওয়া যাবে? যা বলছে ইসলাম
ডুয়া ডেস্ক: স্বামীর অনুমতি ছাড়া তার পকেট বা সম্পদ থেকে স্ত্রী অর্থ নিতে পারবেন কি না—এ প্রশ্ন বহু পরিবারের মধ্যেই আলোচিত হয়। ইসলামী শরিয়তে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। স্ত্রীর ভরণ-পোষণ, স্বামীর দায়িত্ব এবং উভয়ের অধিকার বিবেচনায় ইসলামি আলেমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, স্ত্রীর ন্যায্য ভরণ-পোষণ এবং মৌলিক প্রয়োজন পূরণ করা স্বামীর ওপর ওয়াজিব। কোনো স্বামী যদি এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করেন, প্রয়োজনীয় খরচ দিতে গড়িমসি করেন বা অতিরিক্ত কৃপণতা করেন, তাহলে স্ত্রী নিজের এবং সন্তানের প্রয়োজন মেটানোর জন্য স্বামীর অজান্তে প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ নিতে পারবেন। শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি বৈধ এবং এ কারণে স্ত্রী গুনাহগার হবেন না।
এ বিষয়ে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, একদিন হজরত হিন্দ বিনতে উতবা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে অভিযোগ করেন যে, তার স্বামী আবু সুফিয়ান অত্যন্ত কৃপণ। তিনি স্ত্রী ও সন্তানের প্রয়োজনীয় খরচ দেন না। তাই তিনি বাধ্য হয়ে স্বামীর অজান্তে কিছু অর্থ নিয়ে থাকেন।
জবাবে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নিজের ও সন্তানের প্রয়োজন যতটুকু, ততটুকু স্বামীর সম্পদ থেকে নেওয়া যেতে পারে। (সহিহ বুখারি: ৩৮২৫, সহিহ মুসলিম: ১৭১৪)
তবে ইসলামি শরিয়তে এ বিধানেরও একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। প্রয়োজনীয় ভরণ-পোষণের বাইরে অলংকার কেনা, বিলাসিতা করা কিংবা ব্যক্তিগত অতিরিক্ত ব্যয়ের জন্য স্বামীর অনুমতি ছাড়া তার অর্থ গ্রহণ বৈধ নয়।
ইসলামি আলেমদের মতে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ গোপনে নেওয়া আমানতের খেয়ানতের শামিল এবং তা চুরির মতো অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
আলেমরা আরও বলেন, একটি সুখী ও সৌহার্দ্যপূর্ণ দাম্পত্য জীবন গড়ে তুলতে শুধু ন্যূনতম ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়। সামর্থ্য অনুযায়ী স্ত্রীকে ব্যক্তিগত খরচের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বা ‘হাতখরচ’ দেওয়া স্বামীর নৈতিক দায়িত্ব। এতে দাম্পত্য সম্পর্কে পারস্পরিক আস্থা, ভালোবাসা ও সম্মান আরও দৃঢ় হয়।
হাকিমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) লিখেছেন, স্ত্রীর অন্যতম অধিকার হলো—স্বামী তাকে এমন কিছু অর্থ দেবেন, যা তিনি নিজের ইচ্ছামতো ব্যয় করতে পারবেন। এর পরিমাণ নির্ধারিত হবে স্বামীর আর্থিক সামর্থ্য এবং স্ত্রীর প্রয়োজন অনুযায়ী। (মুনতাখাব আনমোল মোতি)
অন্য এক আলোচনায় তিনি বলেন, নারীদের দৈনন্দিন জীবনে নানা ধরনের দ্বীনি ও দুনিয়াবি প্রয়োজন দেখা দেয়। কিন্তু অধিকাংশ নারীর নিজস্ব আয় বা সম্পদ থাকে না। তাই মূল ভরণ-পোষণ ও মোহরানার বাইরে স্বামীর উচিত সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতি মাসে স্ত্রীকে কিছু অর্থ দেওয়া, যাতে তিনি নিজের প্রয়োজন ও ইচ্ছা অনুযায়ী তা ব্যয় করতে পারেন। (তোহফায়ে যাওজাইন)
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- শুধু আইফোনের জন্য নয়, অপ্রতীম হ/ত্যার পেছনে ছিল বিরোধও
- পাভেলকে ঘিরে ফের ভাইরাল পাঁচ মিনিটের ভিডিও
- একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ল
- সিগারেট নিয়ে নতুন বিধান জারি
- মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৮ কর্মী আটক
- নতুন পে স্কেলে কোন গ্রেডে কত বেতন, দেখুন এখানে
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১২ অক্টোবর পর্যন্ত
- রাস্তার পাশে গাড়ি পার্কিং না করার আহ্বান পরিবহন মালিক সমিতির
- পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে যা জানা গেল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৫ সেপ্টেম্বর)
- আরও ৯০ দিন মেয়াদ বাড়ল ডাকসুর
- অপ্রতিম হ/ত্যার রহস্যময় তথ্য উন্মোচন করেছে পুলিশ
- ঢাবির ৬৪ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি
- স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বাংলাদেশ পোস্ট বেসিক গ্রাজুয়েট নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি স্টুডেন্ট কাউন্সিলের স্মারকলিপি