ঢাকা, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

নীতিগতভাবে সম্মতি ইউএই সরকারের, বেনজিরকে ফেরাতে কত দিন লাগবে?

২০২৬ জুলাই ৩১ ১১:০২:২২

নীতিগতভাবে সম্মতি ইউএই সরকারের, বেনজিরকে ফেরাতে কত দিন লাগবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটক সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি হয়েছে। দুদকের দাবি, নীতিগতভাবে প্রত্যর্পণে সম্মতি জানিয়েছে ইউএই সরকার। তবে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দুবাই পুলিশ আরও কিছু নথি ও তথ্য চেয়েছে, যা প্রস্তুতের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

দেড় মাসের বেশি সময় ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটক থাকা সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির মুখপাত্র মো. আকতারুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে নীতিগতভাবে প্রত্যর্পণে সম্মতি দিয়েছে ইউএই।

দুদক জানায়, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর প্রাথমিক নথি পর্যালোচনা শেষে দুবাই পুলিশ অতিরিক্ত তথ্য ও আইনি নথিপত্র চেয়ে ঢাকার সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এএইচএম শাহাদাত হোসাইন জানান, যেহেতু মামলাগুলোর তদন্ত করছে দুদক, তাই সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তারাই প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করছেন। দুদকের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, এসব নথি শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইন্টারপোলের মাধ্যমে সেগুলো দুবাই পুলিশের কাছে পাঠানো হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় চারটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ, দুই দেশের আইনের সামঞ্জস্য, আদালতে তথ্য উপস্থাপন এবং কূটনৈতিক তৎপরতা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালত এসব বিষয় বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

বাংলাদেশের সঙ্গে ইউএইর সরাসরি বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও নিরাপত্তা সহযোগিতা ও দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের স্থানান্তরসংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তির আওতায় অতীতেও কয়েকজন অভিযুক্তকে দেশে ফিরিয়ে আনার নজির রয়েছে।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জন, পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় চার্জশিট দাখিল হয়েছে এবং অন্য একটি মামলার বিচার চলছে। এসব মামলার ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করা হয়। পরে গত ১২ জুন দুবাইয়ের একটি শপিংমল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে স্থানীয় পুলিশ।

দুদক জানায়, প্রথম ধাপে ১৪৪ পৃষ্ঠার নথি আরবি ও ইংরেজি ভাষায় দুবাই পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে দ্বিতীয় ধাপের প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুতের কাজ চলছে।

তবে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া কত সময়ে শেষ হবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের মতে, আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।

বাংলাদেশ সরকার আশা করছে, প্রয়োজনীয় নথিপত্র দ্রুত পাঠানো এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করা গেলে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

দেশের বাজারে ফের বেড়েছে সোনার দাম

দেশের বাজারে ফের বেড়েছে সোনার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে সোনার গহনার দাম। স্থানীয় বাজারে তেজাবী (পিওর) সোনার মূল্য বৃদ্ধির কারণে ২২ ক্যারেট সোনার... বিস্তারিত