ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

যে কারণে ৬৮৫ কোটি টাকার প্রকল্প বাতিল করলেন প্রধানমন্ত্রী 

২০২৬ জুলাই ২৩ ০৯:১২:৩১

যে কারণে ৬৮৫ কোটি টাকার প্রকল্প বাতিল করলেন প্রধানমন্ত্রী 

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও দুর্নীতির ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি নদীভাঙন রোধ প্রকল্প আপাতত অনুমোদন পায়নি। একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পটি পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেন এবং বাস্তবায়ন পর্যায়ে মান নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিংয়ের জন্য নীতিমালা প্রণয়নের তাগিদ দেন।

দুর্নীতির আশঙ্কা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নদীভাঙন রোধসংক্রান্ত একটি প্রকল্প আপাতত অনুমোদন দেওয়া হয়নি। বুধবার (২২ জুলাই) অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ নির্দেশনা দেন।

একনেক সূত্র জানায়, বৈঠকে নদীভাঙন প্রতিরোধকাজে ব্যবহৃত বোল্ডারের মান, সংখ্যা এবং সেগুলোর কার্যকর তদারকি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বাস্তবায়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে প্রস্তাবিত অতিরিক্ত ব্যয়ও কমিয়ে আনতে বলা হয়েছে।

সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষা’ প্রকল্পসহ মোট ৯টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে নদীভাঙন রোধ প্রকল্পটি ছাড়া বাকি আটটি প্রকল্প অনুমোদন পায়।

পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আকতার জানান, প্রকল্পটি বাতিল নয়, বরং সংশোধনের জন্য ফেরত দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রকল্পটির ব্যয় ২০২২ সালের রেট শিডিউল অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছিল। বর্তমানে ২০২৬ সালের নতুন রেট শিডিউল চূড়ান্ত হওয়ার পর ব্যয় পুনর্নির্ধারণ করে প্রকল্পটি আবার উপস্থাপন করা হবে। তবে দুর্নীতির শঙ্কা বা অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় বোল্ডারের মান ও পরিমাণ কীভাবে নিশ্চিত করা হয়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিস্তারিত জানতে চান। জবাবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) জানায়, বুয়েটের কমিটির মাধ্যমে বোল্ডারের মান পরীক্ষা করা হয়। তবে বৈঠকে বলা হয়, পরীক্ষার বাইরের অংশেও সমানভাবে মান নিশ্চিত করা জরুরি।

এ সময় বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে বোল্ডারের সংখ্যা ঠিক থাকলেও মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার মতে, গুণগত মান নিশ্চিত না হলে প্রকল্পের কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে।

বৈঠকে বিভিন্ন পক্ষ থেকে প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হলেও প্রধানমন্ত্রী তার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। ফলে আপাতত প্রকল্পটি অনুমোদন পায়নি।

প্রকল্পটির প্রস্তাবিত ব্যয় ছিল ৬৮৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ছিল। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা ছিল। এর আওতায় নদীতীর সংরক্ষণ, উপকূলীয় বাঁধ পুনর্বাসন, বাঁধের ঢাল সুরক্ষা, বন্যা ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের পরিকল্পনা ছিল।

অন্যদিকে, একনেক বৈঠকে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি, নতুন ইন্টারসেকশন সংযোজন, ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তর এবং আরও কয়েকটি নতুন উপাদান যুক্ত হওয়ায় ব্যয় ৫৪ শতাংশ বেড়েছে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি জানান, মূলত ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, কর-ভ্যাটের পরিবর্তন এবং নতুন অবকাঠামো সংযোজনের কারণেই ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০১৭ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ছিল ১৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। সংশোধিত প্রস্তাবে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৪৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২২ সালের জুন থেকে বাড়িয়ে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

একনেক বৈঠকে মোট ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে আটটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

নদীভাঙন রোধ প্রকল্পটি সংশোধনের পর পুনরায় একনেকে উপস্থাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত