ঢাকা, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এনআইডি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা ইসির

২০২৬ জুলাই ২২ ১১:১০:৪৪

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এনআইডি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা ইসির

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবস্থাকে আরও নির্ভুল ও দীর্ঘমেয়াদি করতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৬ বছর বয়সী বা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিশুদের নিবন্ধনের আওতায় এনে এনআইডি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের ছোটবেলা থেকেই জাতীয় পরিচয় নিবন্ধনের আওতায় আনা গেলে বয়স বা পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য গোপন করে ভোটার হওয়ার প্রবণতা কমবে। পাশাপাশি এনআইডি সংশোধনের সংখ্যাও হ্রাস পাবে। কারণ, একজন নাগরিকের জীবনের শুরু থেকেই একই পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার হলে তথ্যগত অসঙ্গতির সম্ভাবনা কম থাকবে।

শিশুদের শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ইসি জানিয়েছে, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী প্রতি ১৫ বছর পরপর জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি ও বায়োমেট্রিক তথ্য হালনাগাদের বিধান রয়েছে। শিশুদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম অনুসরণ করা হবে। এছাড়া ১৮ বছর পূর্ণ হলে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এইচ এম আনোয়ার পাশা বলেন, বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও দেশের সব নাগরিককে একটি একক পরিচয় ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নিয়ে ভাবা হচ্ছে।

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ও নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তার মতে, জন্মের পর থেকেই একজন নাগরিকের জন্য একটি স্থায়ী পরিচয় নিশ্চিত করা গেলে বিভিন্ন ধরনের নাগরিক সেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের এনআইডি ব্যবস্থার মূল ধারণাও ছিল জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একই পরিচয় বহাল রাখা।

জেসমিন টুলীর মতে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বা ৬ বছর বয়সী শিশুদের এ ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করতে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও তা মোকাবিলা করা সম্ভব। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষার্থীভিত্তিক তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে স্কুলভিত্তিক নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনার পরামর্শ দেন তিনি।

তবে তিনি উল্লেখ করেন, ছোট শিশুদের পূর্ণাঙ্গ বায়োমেট্রিক তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। তার ভাষ্য, সাধারণত একজন মানুষের বায়োমেট্রিক বৈশিষ্ট্য ১৫ থেকে ১৬ বছর বয়সে পূর্ণতা পায়। তাই শুরুতে মৌলিক তথ্য সংরক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। ধাপে ধাপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে পরিকল্পিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা গেলে এটি কার্যকর উদ্যোগে পরিণত হতে পারে।

এর আগে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি ১৬ বছর বয়স থেকেই জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার লক্ষ্যে পরিপত্র জারি করে নির্বাচন কমিশন। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন অনুযায়ী, ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিকদের নিবন্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে। তারা এনআইডি পেলেও ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় যুক্ত হবেন।

তৎকালীন ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছিলেন, ১৬ বছর থেকেই নিবন্ধন সম্পন্ন হলে বিদেশে উচ্চশিক্ষা, ব্যাংক হিসাব খোলা, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবায় এনআইডি ব্যবহার সহজ হবে।

নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ ভোটার তালিকা হালনাগাদ অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন।

জাতীয় পরিচয় ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত ও নির্ভুল করার লক্ষ্যেই শিশুদের এনআইডির আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত