ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

অনলাইনে ভুয়া খবর শনাক্ত করবেন যেভাবে

২০২৬ জুলাই ১৭ ১৫:৫৯:০৯

অনলাইনে ভুয়া খবর শনাক্ত করবেন যেভাবে

ডুয়া ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন তথ্য পাওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), ইউটিউব, টিকটক ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মুহূর্তেই কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে নানা ধরনের তথ্য। তবে এর পাশাপাশি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ভুয়া খবর, গুজব ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিস্তার। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকলেই অধিকাংশ ভুয়া খবর সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব।

ভুয়া তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে প্রথমেই নজর দিতে হবে খবরটির উৎসের দিকে। সংবাদটি কোনো স্বীকৃত সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করেছে, নাকি এটি অজানা কোনো ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল কিংবা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়ানো হচ্ছে তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। একই তথ্য নির্ভরযোগ্য একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করে নেওয়া উচিত।

শুধু শিরোনাম দেখে কোনো সংবাদে বিশ্বাস না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক সময় পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে অতিরঞ্জিত বা বিভ্রান্তিকর শিরোনাম ব্যবহার করা হয়। তাই পুরো প্রতিবেদন না পড়ে কোনো তথ্য বিশ্বাস করা বা অন্যের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়।

ছবি ও ভিডিও যাচাই করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি ছবি কিংবা পুরোনো ভিডিও নতুন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে একই ছবি বা ভিডিও আগে অন্য কোথাও প্রকাশিত হয়েছিল কি না, তা যাচাই করা যেতে পারে।

খবরের প্রকাশের তারিখ ও প্রেক্ষাপটও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। অনেক সময় কয়েক বছর আগের কোনো ঘটনা নতুন ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং ভুল তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো পোস্টে যদি অতিরিক্ত আবেগনির্ভর ভাষা, চমকপ্রদ দাবি বা ‘এখনই শেয়ার করুন’ ধরনের আহ্বান থাকে, তাহলে সেটি নিয়ে বাড়তি সতর্ক হওয়া উচিত। কারণ এ ধরনের পোস্টে তথ্যের নির্ভুলতার চেয়ে আবেগকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। তথ্য যাচাইয়ের জন্য সরকারি সংস্থা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কিংবা নির্ভরযোগ্য ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্মের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো তথ্য নিয়ে সন্দেহ থাকলে যাচাই ছাড়া তা শেয়ার না করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

ভুয়া খবর শুধু বিভ্রান্তিই সৃষ্টি করে না; এটি সামাজিক অস্থিরতা, আর্থিক ক্ষতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণও হতে পারে। তাই ডিজিটাল যুগে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে প্রতিটি তথ্য যাচাই করে গ্রহণ ও প্রচার করার কোনো বিকল্প নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং নির্ভরযোগ্য উৎসের ওপর আস্থা রাখার মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া খবরের বিস্তার অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক বাজারে টানা ঊর্ধ্বগতির পর বুধবার স্বর্ণের দাম কমেছে। তেলের দাম বাড়তে থাকায় মূল্যস্ফীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার... বিস্তারিত