ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩

জেনে নিন জিমেইলের সাতটি কার্যকর ফিচার

২০২৬ জুন ২২ ১৬:৪৭:১৪

জেনে নিন জিমেইলের সাতটি কার্যকর ফিচার

ডুয়া ডেস্ক: বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ই-মেইল সেবা জিমেইল ব্যক্তিগত যোগাযোগ থেকে শুরু করে অফিসের কাজ সব ক্ষেত্রেই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে গুগলের এই সেবাটি। তবে অধিকাংশ ব্যবহারকারী জিমেইলকে কেবল ই-মেইল পাঠানো ও গ্রহণের মাধ্যম হিসেবেই ব্যবহার করেন। অথচ এতে রয়েছে বেশ কিছু কার্যকর সুবিধা, যা কাজে লাগালে ইনবক্স আরও গোছানো রাখা, গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং সময় সাশ্রয় করা সম্ভব। জেনে নেওয়া যাক জিমেইলের এমনই সাতটি সুবিধা সম্পর্কে।

১. গুরুত্বপূর্ণ ই-মেইল পরে দেখার সুযোগ

সব ই-মেইলের উত্তর সঙ্গে সঙ্গে দেওয়া জরুরি নয়। অনেক সময় কোনো বার্তা পরে দেখার প্রয়োজন হলেও সেটি অন্য ই-মেইলের ভিড়ে হারিয়ে যায়। এ সমস্যার সমাধানে জিমেইলে রয়েছে ‘স্নুজ’ সুবিধা। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোনো ই-মেইল নির্ধারিত দিন ও সময় পর্যন্ত আড়ালে রাখা যায়। নির্ধারিত সময় হলে বার্তাটি আবার ইনবক্সের শীর্ষে ফিরে আসে। এতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা রিমাইন্ডার ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা কমে।

২. একাধিক ইনবক্সে বার্তা সাজিয়ে রাখা

প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ই-মেইল এলে প্রয়োজনীয় বার্তা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। জিমেইলের ‘মাল্টিপল ইনবক্স’ সুবিধা ব্যবহার করে আনরিড মেসেজ, স্টার দেওয়া ই-মেইল, ড্রাফট বা নির্দিষ্ট লেবেল অনুযায়ী আলাদা বিভাগ তৈরি করা যায়। এতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলো সহজেই নজরে রাখা সম্ভব হয়।

৩. গোপনীয় তথ্য পাঠাতে কনফিডেনশিয়াল মোড

সংবেদনশীল তথ্য বা গুরুত্বপূর্ণ নথি পাঠানোর ক্ষেত্রে বাড়তি নিরাপত্তার প্রয়োজন হয়। এ জন্য জিমেইলে রয়েছে ‘কনফিডেনশিয়াল মোড’। এই সুবিধায় ই-মেইলের মেয়াদ নির্ধারণ করা যায়। নির্দিষ্ট সময় পর বার্তাটি আর দেখা যায় না। পাশাপাশি প্রাপকের পরিচয় নিশ্চিত করতে খুদে বার্তার মাধ্যমে নিরাপত্তা কোড ব্যবহারের সুযোগও রয়েছে।

৪. ই-মেইল অ্যালিয়াস ব্যবহারের সুবিধা

জিমেইলের কম পরিচিত কিন্তু কার্যকর একটি ফিচার হলো ই-মেইল অ্যালিয়াস। মূল ই-মেইল ঠিকানার সঙ্গে ‘+’ চিহ্ন এবং অতিরিক্ত শব্দ যোগ করে ভিন্ন উদ্দেশ্যে আলাদা ঠিকানা ব্যবহার করা যায়। উদাহরণ হিসেবে [email protected] বা [email protected] ব্যবহার করা সম্ভব। এসব ঠিকানায় পাঠানো সব বার্তাই মূল ইনবক্সে আসে, তবে আলাদা করে শ্রেণিবিন্যাস করা সহজ হয়।

৫. ইন্টারনেট ছাড়াও জিমেইল ব্যবহার

ভ্রমণ, বিমানযাত্রা বা দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে অনেক সময় ইন্টারনেট সংযোগ থাকে না। এমন পরিস্থিতিতেও জিমেইল ব্যবহার করা সম্ভব। সেটিংস থেকে অফলাইন মোড চালু করলে ই-মেইল পড়া, সার্চ করা এবং খসড়া তৈরি করা যায়। পরে সংযোগ পাওয়া গেলে পরিবর্তনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ হয়।

৬. উন্নত অনুসন্ধান সুবিধায় দ্রুত বার্তা খোঁজা

বছরের পর বছর জমে থাকা ই-মেইলের ভিড়ে নির্দিষ্ট বার্তা খুঁজে পাওয়া সময়সাপেক্ষ হতে পারে। জিমেইলের উন্নত অনুসন্ধান সুবিধা এ কাজকে সহজ করে। প্রেরকের নাম, সময়সীমা, সংযুক্ত ফাইলের ধরন, আকার বা নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করে দ্রুত অনুসন্ধান করা যায়। ফলে কয়েক সেকেন্ডেই পুরোনো ই-মেইল খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়।

৭. পাঠানো ই-মেইল ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ

ভুলবশত অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্যসহ ই-মেইল পাঠিয়ে ফেললে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। জিমেইলের ‘আনডু সেন্ড’ সুবিধা এ ধরনের ঝুঁকি কমায়। এই সুবিধা চালু থাকলে ই-মেইল পাঠানোর পর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সেটি বাতিল বা সংশোধন করা যায়। ফলে অনিচ্ছাকৃত ভুলের সম্ভাবনা অনেকটাই হ্রাস পায়।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত