ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩

যেভাবে তোলা হয়েছিল মেসি-ইয়ামালের ঐতিহাসিক ছবিটি

২০২৬ জুলাই ১৬ ১৯:২১:২৬

যেভাবে তোলা হয়েছিল মেসি-ইয়ামালের ঐতিহাসিক ছবিটি

স্পোর্টস ডেস্ক: ২০০৭ সালের ডিসেম্বরের একটি ছবি। বার্সেলোনার একটি স্টুডিওতে ছোট্ট প্লাস্টিকের বাথটাবে পাঁচ মাস বয়সী এক শিশুকে কোলে নিয়ে বসে আছেন ২০ বছর বয়সী এক লাজুক তরুণ ফুটবলার। সেই তরুণ ছিলেন লিওনেল মেসি, আর শিশুটি আজকের স্পেনের উদীয়মান তারকা লামিনে ইয়ামাল। রোববার (১৯ জুলাই) আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে সেই ঐতিহাসিক ছবি।

ছবিটি তোলা হয়েছিল বার্সেলোনা ফাউন্ডেশন ও কাতালান দৈনিক দিয়ারিও স্পোর্ত-এর যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য। প্রতিবছর বার্সেলোনার ফুটবলারদের সঙ্গে শিশুদের ছবি তুলে ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা হতো এবং এর বিক্রয়লব্ধ অর্থ ইউনিসেফসহ বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হতো।

সে সময় বার্সেলোনার ১২ জন ফুটবলারের সঙ্গে ১২টি শিশুকে জুটি করে ছবি তোলা হয়। অনেক পরিবারের মতো ইয়ামালের পরিবারও সেই উদ্যোগে অংশ নেয়। অধিকাংশ ছবিই সময়ের সঙ্গে হারিয়ে গেলেও মেসি ও ইয়ামালের ছবিটি ব্যক্তিগত স্মৃতির গণ্ডি পেরিয়ে এখন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত মুহূর্তে পরিণত হয়েছে।

সেই দিনের আলোকচিত্রী হুয়ান মনফোর্ত পরে স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘এটি খুব কঠিন একটি ছবি ছিল। বলতে পারেন, ছবিটি তুলতে আমার রক্ত-ঘাম এক হয়ে গিয়েছিল।’

তখনও মেসি বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকা হয়ে ওঠেননি। লা লিগা ও উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতলেও তিনি ছিলেন রোনালদিনিও, স্যামুয়েল ইতো, জাভি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, কার্লেস পুয়োল ও থিয়েরি অঁরিদের ভিড়ে সম্ভাবনাময় এক তরুণ।

মনফোর্ত বলেন, ‘মেসি এখনো লাজুক মানুষ। তবে তখন তিনি আরও বেশি লাজুক ছিলেন। হঠাৎ করেই তাঁকে একটি ছোট্ট শিশুর সঙ্গে পানিভর্তি বাথটাবে দাঁড়াতে হয়েছিল। শুরুতে দুজনের মধ্যে কোনো যোগাযোগই হচ্ছিল না। পরিস্থিতি সবার জন্যই কিছুটা অস্বস্তিকর ছিল। তবে ধীরে ধীরে সব স্বাভাবিক হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত আমরা দারুণ একটি ছবি পাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফুটবলাররা সাধারণত বলেন, “চলুন, তাড়াতাড়ি শেষ করি।” কিন্তু এমন ছবি তুলতে সময় দিতে হয়। বিশেষ করে একজন ২০ বছরের তরুণ এবং পাঁচ মাসের একটি শিশুর মধ্যে স্বাভাবিক মুহূর্ত তৈরি করা মোটেও সহজ নয়।’

মনফোর্তের মতে, পুরো আয়োজন সফল করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন ইয়ামালের মা শেইলা এবানা।

তার ভাষায়, ‘মা পাশে না থাকলে শিশুটি অস্বস্তি বোধ করত। আমরা চেয়েছিলাম ছবিটি যেন কোমল ও আন্তরিক হয়। তিনি অসাধারণভাবে সহযোগিতা করেছিলেন।’

সে সময় ইয়ামালের পরিবার বার্সেলোনা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের মাতারো শহরে বসবাস করত। ছোট্ট শিশুকে নিয়ে ক্যাম্প ন্যুতে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার কষ্টসাধ্য কাজটিও করেছিলেন ইয়ামালের মা। পরে অন্য পরিবারের মতো তাদেরও ছবির একটি কপি উপহার দেন মনফোর্ত।

এর প্রায় সাত বছর পর একই মাতারো থেকে নিয়মিত ক্যাম্প ন্যুতে যাতায়াত শুরু করেন ইয়ামাল। ২০১৪ সালে তিনি যোগ দেন বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে। এরপর শুরু হয় তার দ্রুত উত্থান। ২০২৩ সালের এপ্রিলে মাত্র ১৫ বছর বয়সে লা লিগায় অভিষেক, একই বছরের সেপ্টেম্বরে ১৬ বছর বয়সে স্পেন জাতীয় দলে অভিষেক এবং ২০২৪ ইউরো জয়ী দলের অন্যতম সদস্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। বর্তমানে স্পেন ফুটবলের অন্যতম বড় মুখ ইয়ামাল।

২০২৪ ইউরো চলাকালে ইয়ামালের বাবা মৌনির নাসরাউই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসি-ইয়ামালের সেই পুরোনো ছবি প্রকাশ করলে মুহূর্তেই সেটি ভাইরাল হয়ে যায়।

মনফোর্ত জানান, তখনও তিনি জানতেন না ছবির শিশুটি বর্তমানের লামিনে ইয়ামাল। পরে দিয়ারিও স্পোর্ত-এর এক সাবেক সহকর্মী তাঁকে বিষয়টি জানালে তিনি বিস্মিত হন।

বর্তমানে মাদ্রিদভিত্তিক পত্রিকা দিয়ারিও এএস এবং বার্তা সংস্থা এএফপির হয়ে ফ্রিল্যান্স আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ করা মনফোর্ত বলেন, ‘এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বিখ্যাত ছবি। লামিন যদি এভাবেই এগিয়ে যেতে থাকে, তাহলে ছবিটি আরও ঐতিহাসিক হয়ে উঠবে। এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা ছিল লটারিতে জেতার মতোই ক্ষীণ।’

তিনি এই ঘটনাকে ১৯৮৬ সালের আরেকটি ঐতিহাসিক ছবির সঙ্গে তুলনা করেন, যেখানে লা মাসিয়ার বল বয় হিসেবে থাকা ১৫ বছরের পেপ গার্দিওলাকে দেখা যায় বার্সেলোনার কোচ টেরি ভেনাবলসকে করতালি দিতে।

তবে মনফোর্তের মতে, মেসি ও ইয়ামালের সেই ছবিটি এখন সমকালীন ফুটবলের অন্যতম ‘আইকনিক’ আলোকচিত্রে পরিণত হয়েছে। একসময় বাথটাবে থাকা পাঁচ মাস বয়সী শিশুটি এখন বিশ্বকাপ ট্রফির লড়াইয়ে মাঠে নামছেন সেই মেসিরই প্রতিপক্ষ হয়ে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক বাজারে টানা ঊর্ধ্বগতির পর বুধবার স্বর্ণের দাম কমেছে। তেলের দাম বাড়তে থাকায় মূল্যস্ফীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার... বিস্তারিত