ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

কালেমা খচিত পতাকার রাজনৈতিক অপব্যবহার কাম্য নয়: ধর্মমন্ত্রী

২০২৬ জুলাই ০২ ২০:৩১:০৬

কালেমা খচিত পতাকার রাজনৈতিক অপব্যবহার কাম্য নয়: ধর্মমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেছেন, ইসলামের পবিত্র নিদর্শন ও ধর্মীয় প্রতীকসমূহের মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের ইমানি দায়িত্ব। তিনি বলেন, পবিত্র কালেমা খচিত পতাকা কিংবা ইসলামের অন্যান্য ধর্মীয় প্রতীককে ঘিরে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি, অবমাননা বা রাজনৈতিক অপব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলার সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘পবিত্র কালেমা খচিত পতাকার সম্মান রক্ষায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক উলামায়ে কেরামের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অপচেষ্টা সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং জাতীয় ঐক্য বিনষ্টের কারণ হতে পারে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে আলেম-ওলামা, শিক্ষাবিদ, তরুণ সমাজ এবং সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মানুষকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। মহান আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর প্রিয় রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রদর্শিত জীবনাদর্শের বাইরে ইসলামে নতুন কোনো মতবাদ, বিশ্বাস কিংবা অনুশীলনের স্থান নেই।

মন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় সব বিষয়ে পবিত্র কোরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর আদর্শের বাইরে নতুন কোনো মতবাদ প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা দেশের মুসলিম উম্মাহ কখনো মেনে নেবে না; বরং ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কওমি মাদ্রাসা, ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মুহতামিম, শায়খুল হাদিস, খতিব, মুফতি এবং বিশিষ্ট আলেম-ওলামাগণ অংশ নেন।

সভায় পবিত্র কালেমা খচিত পতাকার মর্যাদা সংরক্ষণ, জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ়করণ, ইসলামের সঠিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মীয় বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়।

আলোচনায় অংশ নেওয়া বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন ও মুফাসসিররা বলেন, ধর্মপ্রাণ যুবসমাজ আন্তরিক ধর্মীয় অনুভূতি থেকে কালেমা খচিত পতাকা বহন করলেও পরবর্তীকালে একটি বিশেষ মহল বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও অপব্যাখ্যার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তারা আরও বলেন, কোথাও কোথাও কালেমা খচিত পতাকাকে অনুপযুক্তভাবে ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানোর ঘটনাও দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে ধর্মপ্রাণ যুবসমাজকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি ইসলামের পবিত্র প্রতীকসমূহের যথাযথ মর্যাদা রক্ষায় সচেতন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা বলেন, দেশের শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টের উদ্দেশ্যে কোনো মহল ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করলে আলেম সমাজ ও সচেতন মুসলিম জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে তা মোকাবিলা করবে। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ইসলামের সুমহান আদর্শ সমুন্নত রাখতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

ড. ওয়ালীয়ুর রহমান খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মাওলানা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব, মধুপুর), মাওলানা মিজানুর রহমান সাঈদ, অধ্যাপক মিজানুর রহমান (পীর সাহেব, দেওনা), মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মনির হোসাইন কাসেমী, মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী, মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরাম, মুফতি হারুন ইজহার, মুফতি আজহারুল ইসলাম, মাওলানা মীর ইদ্রিস, মুফতি শরিফ উল্লাহ, মুফতি ইমাদুদ্দিন, মুফতি মোহাম্মদ আলী, মাওলানা এজহারুল হক, মাওলানা মাহমুদুল হাসান গুণবী, মাওলানা আহমদ রফিকসহ দেশের বিশিষ্ট আলেম-ওলামাবৃন্দ।

সভায় ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা, সামাজিক সম্প্রীতি, শান্তি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি আলেম সমাজ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মধ্যে নিয়মিত মতবিনিময়, সমন্বয় এবং যৌথ উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়, যাতে ইসলামের সঠিক শিক্ষা ও মানবকল্যাণের বার্তা সমাজের সর্বস্তরে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়।

অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে এবং সব ধরনের ষড়যন্ত্র, বিভেদ ও অস্থিতিশীলতা থেকে দেশকে হেফাজতের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে ধর্মমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত