ঢাকা, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
কালবৈশাখির আঘাতে লবণ শিল্পে বিপর্যয়, উৎপাদনে বড় ধাক্কা
নিজস্ব প্রতিবেদক: হঠাৎ করে সৃষ্ট ঝড়ো আবহাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাতে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের লবণ উৎপাদন খাতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপকূলে আঘাত হানা কালবৈশাখি ঝড়ে বিস্তীর্ণ লবণ মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে উৎপাদন কার্যক্রমে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে।
গত দুই দিনের বৈরী আবহাওয়ায় উপকূলের প্রায় ৬৮ হাজার একর লবণ মাঠ লন্ডভন্ড হয়ে গেছে, যার ফলে অন্তত ১ লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা।
চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই আবহাওয়া কিছুটা বৈরী থাকলেও মাঝে তীব্র দাবদাহের কারণে উৎপাদনে বেশ গতি এসেছিল। উপকূলীয় মাঠগুলোতে দৈনিক লবণের উৎপাদন ১২ হাজার মেট্রিক টন থেকে বেড়ে রেকর্ড ৩২ হাজার মেট্রিক টনে পৌঁছেছিল।হঠাৎ আসা কালবৈশাখি সেই স্বাভাবিক গতিকে থামিয়ে দিয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার আঘাতে লবণ মাঠের ‘বেড’ বা ‘কাই’ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে এবং মাঠে জমানো বিপুল পরিমাণ লবণ পানিতে গলে গেছে। অনেক এলাকায় পানি জমে থাকায় উৎপাদন কার্যক্রম বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা বলেন, ঝড়ের পর এখন তারা মাঠে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন এবং ছিঁড়ে যাওয়া ত্রিপল মেরামতের চেষ্টা করছেন। তবে নতুন করে উৎপাদন শুরু করতে হলে তাদের বড় অঙ্কের বাড়তি অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে, যা অনেকের জন্যই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। অনেক চাষির কয়েক একর জমির পুরো লবণই বৃষ্টির পানিতে মিশে গেছে।
কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের তথ্যমতে, এবারের এই দুর্যোগে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে উৎপাদনে। বৃষ্টির কারণে টানা ১২ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকায়, দৈনিক গড়ে ২৫ হাজার মেট্রিক টন হিসেবে মোট ৩ লাখ মেট্রিক টন লবণের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। যদিও হালকা বৃষ্টিতে লবণের খুব বেশি ক্ষতি হয় না, কিন্তু এবারের আকস্মিক ভারী বর্ষণ হারভেস্টের জন্য তৈরি লবণের ব্যাপক ক্ষতি করেছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমান এই বৈরী পরিস্থিতি আরও দুই-তিন দিন স্থায়ী হতে পারে। আগামী ৫ মে থেকে বৃষ্টিপাত কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ৬ মে থেকে চাষিরা পুনরায় লবণ উৎপাদন শুরু করতে পারবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।১৪ মে থেকে পুনরায় তীব্র দাবদাহ শুরু হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। সেই সময় আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, তবে দ্রুত উৎপাদন বাড়িয়ে বর্তমান ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে উপকূলীয় লবণ শিল্পকে এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ৬৪ জেলায় পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন ১৩ অক্টোবর
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৫ অক্টোবর)
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ পদে নিয়োগ, আবেদনের শেষ সময় ৬ অক্টোবর
- ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ
- মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ, বাংলাদেশে দেখবেন যেভাবে
- আজকের নামাজের সময়সূচি (২ অক্টোবর)
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ১০ দিনের ছুটির সুযোগ
- ব্রাজিল বনাম ভারত: সরাসরি দেখুন এখানে
- এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে স্কেল নিয়ে যা জানা গেল
- শিশুশ্রম বন্ধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের
- ৯ গোল খেয়ে দুই ফুটবলারের ‘নারীসঙ্গ’ নিয়ে যা জানা গেল
- যে কারণে স্থগিত বাংলাদেশ-পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন্স ম্যাচ
- এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে সুখবর দিলেন সেলিম ভূঁইয়া
- ‘রইদ’-এর ঝুলিতে তিন পুরস্কার, সেরা অভিনেত্রী নাজিফা তুষি
- ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল