ঢাকা, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩
কালবৈশাখির আঘাতে লবণ শিল্পে বিপর্যয়, উৎপাদনে বড় ধাক্কা
নিজস্ব প্রতিবেদক: হঠাৎ করে সৃষ্ট ঝড়ো আবহাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাতে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের লবণ উৎপাদন খাতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপকূলে আঘাত হানা কালবৈশাখি ঝড়ে বিস্তীর্ণ লবণ মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে উৎপাদন কার্যক্রমে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে।
গত দুই দিনের বৈরী আবহাওয়ায় উপকূলের প্রায় ৬৮ হাজার একর লবণ মাঠ লন্ডভন্ড হয়ে গেছে, যার ফলে অন্তত ১ লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা।
চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই আবহাওয়া কিছুটা বৈরী থাকলেও মাঝে তীব্র দাবদাহের কারণে উৎপাদনে বেশ গতি এসেছিল। উপকূলীয় মাঠগুলোতে দৈনিক লবণের উৎপাদন ১২ হাজার মেট্রিক টন থেকে বেড়ে রেকর্ড ৩২ হাজার মেট্রিক টনে পৌঁছেছিল।হঠাৎ আসা কালবৈশাখি সেই স্বাভাবিক গতিকে থামিয়ে দিয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার আঘাতে লবণ মাঠের ‘বেড’ বা ‘কাই’ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে এবং মাঠে জমানো বিপুল পরিমাণ লবণ পানিতে গলে গেছে। অনেক এলাকায় পানি জমে থাকায় উৎপাদন কার্যক্রম বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা বলেন, ঝড়ের পর এখন তারা মাঠে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন এবং ছিঁড়ে যাওয়া ত্রিপল মেরামতের চেষ্টা করছেন। তবে নতুন করে উৎপাদন শুরু করতে হলে তাদের বড় অঙ্কের বাড়তি অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে, যা অনেকের জন্যই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। অনেক চাষির কয়েক একর জমির পুরো লবণই বৃষ্টির পানিতে মিশে গেছে।
কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের তথ্যমতে, এবারের এই দুর্যোগে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে উৎপাদনে। বৃষ্টির কারণে টানা ১২ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকায়, দৈনিক গড়ে ২৫ হাজার মেট্রিক টন হিসেবে মোট ৩ লাখ মেট্রিক টন লবণের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। যদিও হালকা বৃষ্টিতে লবণের খুব বেশি ক্ষতি হয় না, কিন্তু এবারের আকস্মিক ভারী বর্ষণ হারভেস্টের জন্য তৈরি লবণের ব্যাপক ক্ষতি করেছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমান এই বৈরী পরিস্থিতি আরও দুই-তিন দিন স্থায়ী হতে পারে। আগামী ৫ মে থেকে বৃষ্টিপাত কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ৬ মে থেকে চাষিরা পুনরায় লবণ উৎপাদন শুরু করতে পারবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।১৪ মে থেকে পুনরায় তীব্র দাবদাহ শুরু হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। সেই সময় আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, তবে দ্রুত উৎপাদন বাড়িয়ে বর্তমান ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে উপকূলীয় লবণ শিল্পকে এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের ১ম টি-টোয়েন্টি-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা: দেখুন সবগুলো প্রশ্নের সঠিক সমাধান
- স্কুলছাত্রী থেকে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধার সাথে অন্তরঙ্গের পর ভিডিও কুয়েট ছাত্রের
- বিকালে আসছে ১৯ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস
- বুলগেরিয়ার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হলো ঢাবি শিক্ষার্থীর প্রামাণ্যচিত্র
- ঢাবি ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সিনেট সদস্য হলেন ৫ সংসদ সদস্য
- বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১০০ ধাপ এগিয়েছে ঢাবি, যৌথভাবে দেশসেরা
- স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন
- এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে যা জানাল শিক্ষাবোর্ড
- বদলে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম
- ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ বাসা থেকে উদ্ধার
- ১২৩তম প্রাইজবন্ড ড্র: দেখে নিন কোন নম্বরগুলো জিতল
- বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রে
- মিমোর মৃ'ত্যু ঘিরে সর্বশেষ যা জানা গেল