ঢাকা, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩

উন্নয়ন কাজে ধীরগতি; ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন এডিপি বাস্তবায়ন

২০২৬ এপ্রিল ২৭ ১৫:৫৫:০৮

উন্নয়ন কাজে ধীরগতি; ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন এডিপি বাস্তবায়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের তিন-চতুর্থাংশ সময় পেরিয়ে গেলেও মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো বরাদ্দকৃত অর্থের মাত্র ৩৬.১৯ শতাংশ ব্যয় করতে সক্ষম হয়েছে।

আইএমইডি গতকাল রোববার জানিয়েছে, জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে এডিপি বাস্তবায়নের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা। গত বছর এই সময়ে বাস্তবায়নের হার প্রায় কাছাকাছি থাকলেও পাঁচ বছরের গড় হারের তুলনায় এটি অনেক কম। উদাহরণস্বরূপ, ২০২২ অর্থবছরে একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৪৫ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতি দেখা গেছে স্বাস্থ্য খাতে। স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে দেশজুড়ে নানা উদ্বেগ থাকলেও এই খাতে ৯ মাসে লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ২১.৬ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। এছাড়া অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক বড় প্রকল্পের গতি থমকে গেছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এ বছর মোট এডিপি বাস্তবায়ন ৬০ শতাংশের আশেপাশে নেমে আসতে পারে। তিনি বলেন, একই অর্থবছরে দুটি আলাদা সরকার ক্ষমতায় থাকায় প্রকল্প কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের প্রশাসনিক জড়তা ও দ্বিধা কাজ করেছে। নির্বাচিত সরকার না থাকায় জবাবদিহিতাও ছিল কম। ফলে শেষ সময়ে এসে সবার মনোযোগ নির্বাচনের দিকে থাকায় উন্নয়ন প্রকল্পে নজর দেওয়া সম্ভব হয়নি।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) প্রিন্সিপাল ইকোনমিস্ট আশিকুর রহমান বলেন, নির্বাচন, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবে এ বছরও এডিপি বাস্তবায়ন গত বছরের মতো হতাশাজনক হতে পারে। এর ফলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আহরণও ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কারণ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো থেকে এনবিআর অগ্রিম আয়কর ও ভ্যাট সংগ্রহ করে থাকে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এডিপি প্রকল্পের অধিকাংশই অবকাঠামো-ভিত্তিক। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হওয়ায় সাধারণ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের দিনমজুরদের কর্মসংস্থান কমে যাওয়ায় অর্থনীতির ওপর এর নেতিবাচক ‘মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্ট’ তৈরি হচ্ছে। তবে উন্নয়ন ব্যয় কম হওয়ায় সরকারের বাজেট ঘাটতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে এবং ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা কমতে পারে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

৩ কোটি ডলার ঋণ পাচ্ছে প্রাইম ব্যাংক; চাঙ্গা হবে এসএমই ও কৃষি খাত

৩ কোটি ডলার ঋণ পাচ্ছে প্রাইম ব্যাংক; চাঙ্গা হবে এসএমই ও কৃষি খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বেসরকারি খাতের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান প্রাইম ব্যাংক পিএলসি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থা ‘ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট’... বিস্তারিত