ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
জুলাই হ’ত্যাকাণ্ডে ন্যায়বিচার চায় জাতিসংঘের বিশেষ দূত
নিজস্ব প্রতিবেদক: একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার ও মানবাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি যখন গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছে, তখন ঢাকায় সফরে এসেছেন জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী বিশেষ দূত ড. অ্যালিস জিল এডওয়ার্ডস। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাঠামোগত সংস্কার এবং দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূরীকরণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি মতামত দেন।
সফরকালে তিনি গণমাধ্যম ‘-এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব বিষয়ে কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে র্যাবের ভবিষ্যৎ, জুলাই গণহত্যার বিচার, নির্যাতিতদের ক্ষতিপূরণ এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নের বিভিন্ন দিক উঠে আসে। তিনি বলেন, এসব ইস্যু আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সমাধান করা জরুরি।
অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত ড. অ্যালিস জিল এডওয়ার্ডস একজন প্রখ্যাত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ। তিনি বর্তমানে জাতিসংঘের ‘নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ’ বিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং এ পদে নিযুক্ত প্রথম নারী। দীর্ঘ ২৫ বছরের কর্মজীবনে তিনি পুলিশিং, ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা এবং কারাগার সংস্কার নিয়ে কাজ করেছেন।
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, দেশটি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক পর্যায়ে রয়েছে। তার মতে, এখানে জনগণের প্রত্যাশা যেমন বেশি, তেমনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরও গভীরভাবে রয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, সহিংসতার শিকড় অনেক গভীরে এবং এটি দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যার ফল।
মানবাধিকার কমিশন গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, মানবাধিকারকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয়। বরং সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন, যাতে মানবাধিকার ইস্যু রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে রাখা যায়।
পুলিশি সংস্কার নিয়ে তিনি কঠোর অবস্থান তুলে ধরে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় বলপ্রয়োগ বা নির্যাতন ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। এতে সত্য উদঘাটনের পরিবর্তে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। তিনি আন্তর্জাতিক ‘মেন্ডেস প্রিন্সিপালস’ অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়ায় অডিও-ভিডিও রেকর্ডিং চালুর সুপারিশ করেন, যাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।
তিনি আরও বলেন, পুলিশকে জনগণের সেবক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। মৌলিক তদন্ত কৌশল ও আইনের শাসন অনুসরণ করলেই কার্যকর সংস্কার সম্ভব।
বাংলাদেশের বিশেষ বাহিনী র্যাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধুমাত্র নাম পরিবর্তন বা রিব্র্যান্ডিং যথেষ্ট নয়। বরং এর কাঠামো, কার্যপদ্ধতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি আমূল পরিবর্তন করতে হবে। তার মতে, বাহিনীগুলোকে জনগণের প্রতিপক্ষ নয়, বরং অংশ হিসেবে কাজ করতে হবে।
জুলাই-আগস্টের সহিংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি রাজনৈতিক মন্তব্য না করলেও একটি স্বচ্ছ ও নিরাপদ বিচার প্রক্রিয়ার ওপর জোর দেন। তার মতে, ভুক্তভোগীদের জন্য নিরাপদভাবে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা থাকা উচিত এবং সত্য উদঘাটনের পাশাপাশি পুনর্মিলন প্রক্রিয়াও প্রয়োজন।
তিনি নির্যাতিতদের ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে বলেন, জাতিসংঘ নির্যাতনবিরোধী সনদের আলোকে বাংলাদেশকে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া তৈরি করতে হবে। রাষ্ট্রীয় তহবিলের মাধ্যমে পুলিশ হেফাজত, কারাগার ও অন্যান্য জায়গায় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা উচিত।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, মানবাধিকার রক্ষার মূল দায়িত্ব জাতীয় সরকারের। কার্যকর বিচারব্যবস্থা ছাড়া জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। মানবাধিকার কোনো বিলাসিতা নয়, বরং একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার মৌলিক ভিত্তি।
সাক্ষাৎকারের শেষে ড. অ্যালিস জিল এডওয়ার্ডস বাংলাদেশের ইতিহাস ও বৈচিত্র্যের প্রশংসা করেন এবং বলেন, জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে মানবাধিকারভিত্তিক শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা অপরিহার্য।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- চলছে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ম্যাচ: সরাসরি দেখুন এখানে
- পে স্কেল নিয়ে ৭ দাবি সরকারি কর্মচারীদের
- প্রথমবারের মতো নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য পেলো কুবি
- পে স্কেলের প্রস্তাবিত গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো প্রকাশ
- আজ সন্ধ্যায় সাদিক কায়েমের বিয়ে
- অনার্সে পড়া শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিচ্ছে সরকার
- ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণে বসছে চাঁদ দেখা কমিটি
- ডিগ্রি ৩য় বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
- সমকামিতার অভিযোগে দুই ছাত্রদল নেতাসহ ৪ শিক্ষার্থীর সিট বাতিল
- নতুন করপোরেট গভর্নেন্স রুলসের খসড়া প্রকাশ, মতামত আহ্বান বিএসইসির
- শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুখবর, শুরু হচ্ছে লম্বা ছুটি
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানবাধিকার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
- না ফেরার দেশে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার
- নতুন উপাচার্য পেল দেশের ১০ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়
- বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সৌদি আরবে ফুল ফ্রি স্কলারশিপের সুযোগ