ঢাকা, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
বিশ্বের অন্যতম নিম্নমানের ইন্টারনেট সেবা বাংলাদেশে, ট্যাক্সও বেশি
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশাল গ্রাহক সংখ্যা থাকা সত্ত্বেও মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গুণগত মানে বিশ্বের অন্যতম নিকৃষ্ট অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এই সংকট নিরসনে একটি সংযোগ-কেন্দ্রিক সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করছে সরকার। গতকাল শনিবার টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ‘টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ’ (টিআরএনবি) আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এই তথ্য জানান।
সেমিনারে রেহান আসাদ বলেন, মোবাইল গ্রাহক সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের একটি হলেও সেবার মান অত্যন্ত হতাশাজনক। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নেপাল ও ভুটানও এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। জিএসএমএ এবং আইটিইউ-এর বৈশ্বিক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ব্রডব্যান্ড সেবার মানে ১৫৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪১তম। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সরকারের কাছে মোবাইল এবং ব্রডব্যান্ড—উভয় সংযোগই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সরকার দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে এই চিত্র পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে। উপদেষ্টা জানান, দেশের ৯০ শতাংশ মানুষকে ৫জি নেটওয়ার্কের আওতায় আনা এবং ৯০ শতাংশ ব্যবহারকারীর জন্য ১০০ এমবিপিএস গতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শহর ও গ্রাম—উভয় অঞ্চলেই যেন সমান ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা পাওয়া যায়, তা নিশ্চিত করা হবে।
সংস্কারের দ্বিতীয় ধাপে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ‘ডিজিটাল আইডি’ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই আইডি একটি ডিজিটাল ওয়ালেটের সাথে যুক্ত থাকবে, যা ব্যাংকিং ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের সাথে সমন্বিত হবে। সিঙ্গাপুরের ‘সিংপাস’ বা এস্তোনিয়ার মডেল অনুসরণ করে আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে এটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া শিক্ষা ও শিল্প খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে দেশটিকে একটি ‘এআই-চালিত অর্থনীতি’ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
টেলিযোগাযোগ খাতে করের উচ্চ হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রেহান আসাদ বলেন, বর্তমানে ১০০ টাকা রিচার্জ করলে গ্রাহক মাত্র ৬২ টাকার সেবা পান, বাকি ৩৮ টাকা সরকার কর হিসেবে কেটে নেয়। বাংলাদেশ এই খাতে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ কর সংগ্রহকারী দেশ। সরকার এই পুরো ভ্যালু চেইন পর্যালোচনা করে গ্রাহক যেন ৮০ থেকে ৯০ টাকার সেবা পেতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করতে চায়। এতে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা বাড়বে।
সেমিনারে ফাইবার অ্যাট হোম-এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুমন আহমেদ সাবির অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কিছু নীতিমালার কারণে বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন স্তরে লাইসেন্স পেয়ে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ পাচ্ছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হতে পারে। তবে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো. এমদাদ উল বারী এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, সব অংশীজনের সাথে আলোচনার মাধ্যমেই নীতিমালা করা হয়েছে এবং বর্তমানে নির্বাচিত সরকারের অধীনে সেগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের ২য় ম্যাচ: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা: দেখুন সবগুলো প্রশ্নের সঠিক সমাধান
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ, আবেদন শুরু
- সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট
- ফের ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ
- সকালে না রাতে, কখন গোসল করা স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ভালো?
- ৪৭তম বিসিএস ভাইভার সময়সূচি প্রকাশ
- দর্শন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার রায়ের মৃ’ত্যু
- বিনিয়োগকারীদের অর্থ সুরক্ষায় কড়াকড়ি, সিএমএসএফে নতুন সিদ্ধান্ত
- স্কুল-কলেজের প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ পরীক্ষার ফল আজই
- স্কলারশিপ দিচ্ছে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়, জেনে নিন আবেদন পদ্ধতি
- দেশে সোনার দামে বড় পতন
- শিরীন সুলতানা ও নিলোফার মনিকে ঢাবি অ্যালামনাই’র অভিনন্দন
- বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১০০ ধাপ এগিয়েছে ঢাবি, যৌথভাবে দেশসেরা
- বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঢাবি অ্যালামনাই ইউকের বর্ষবরণ ও বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত