ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বিশ্বের অন্যতম নিম্নমানের ইন্টারনেট সেবা বাংলাদেশে, ট্যাক্সও বেশি
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশাল গ্রাহক সংখ্যা থাকা সত্ত্বেও মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গুণগত মানে বিশ্বের অন্যতম নিকৃষ্ট অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এই সংকট নিরসনে একটি সংযোগ-কেন্দ্রিক সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করছে সরকার। গতকাল শনিবার টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ‘টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ’ (টিআরএনবি) আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এই তথ্য জানান।
সেমিনারে রেহান আসাদ বলেন, মোবাইল গ্রাহক সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের একটি হলেও সেবার মান অত্যন্ত হতাশাজনক। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নেপাল ও ভুটানও এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। জিএসএমএ এবং আইটিইউ-এর বৈশ্বিক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ব্রডব্যান্ড সেবার মানে ১৫৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪১তম। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সরকারের কাছে মোবাইল এবং ব্রডব্যান্ড—উভয় সংযোগই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সরকার দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে এই চিত্র পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে। উপদেষ্টা জানান, দেশের ৯০ শতাংশ মানুষকে ৫জি নেটওয়ার্কের আওতায় আনা এবং ৯০ শতাংশ ব্যবহারকারীর জন্য ১০০ এমবিপিএস গতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শহর ও গ্রাম—উভয় অঞ্চলেই যেন সমান ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা পাওয়া যায়, তা নিশ্চিত করা হবে।
সংস্কারের দ্বিতীয় ধাপে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ‘ডিজিটাল আইডি’ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই আইডি একটি ডিজিটাল ওয়ালেটের সাথে যুক্ত থাকবে, যা ব্যাংকিং ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের সাথে সমন্বিত হবে। সিঙ্গাপুরের ‘সিংপাস’ বা এস্তোনিয়ার মডেল অনুসরণ করে আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে এটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া শিক্ষা ও শিল্প খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে দেশটিকে একটি ‘এআই-চালিত অর্থনীতি’ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
টেলিযোগাযোগ খাতে করের উচ্চ হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রেহান আসাদ বলেন, বর্তমানে ১০০ টাকা রিচার্জ করলে গ্রাহক মাত্র ৬২ টাকার সেবা পান, বাকি ৩৮ টাকা সরকার কর হিসেবে কেটে নেয়। বাংলাদেশ এই খাতে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ কর সংগ্রহকারী দেশ। সরকার এই পুরো ভ্যালু চেইন পর্যালোচনা করে গ্রাহক যেন ৮০ থেকে ৯০ টাকার সেবা পেতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করতে চায়। এতে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা বাড়বে।
সেমিনারে ফাইবার অ্যাট হোম-এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুমন আহমেদ সাবির অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কিছু নীতিমালার কারণে বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন স্তরে লাইসেন্স পেয়ে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ পাচ্ছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হতে পারে। তবে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো. এমদাদ উল বারী এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, সব অংশীজনের সাথে আলোচনার মাধ্যমেই নীতিমালা করা হয়েছে এবং বর্তমানে নির্বাচিত সরকারের অধীনে সেগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা
- চলতি মাসে টানা চার দিনের ছুটির সুযোগ
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ভাষা বিষয়ক `NAT-Test`সেবা চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ জন নিয়োগ, আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
- ছবিতে সাফল্য আর বাস্তবে সংগ্রাম, প্রবাস জীবনের অদেখা গল্প
- মব হেনস্তার প্রতিবাদে ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান তাহসিনের
- নটর ডেম কলেজের একাদশের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
- যে কারণে বিলম্ব হচ্ছে পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ
- একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন
- পে-স্কেলের গেজেট কেন প্রকাশ হচ্ছে না, জানা গেল রহস্যময় তথ্য
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১২ সেপ্টেম্বর)
- একাদশে ভর্তি আবেদনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে কখন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৫ সেপ্টেম্বর)
- পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে যা বলছেন কর্মকর্তারা
- আরও ৯০ দিন মেয়াদ বাড়ল ডাকসুর