ঢাকা, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পেছাতে চায় বাংলাদেশ; শুনানি সোমবার
নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হওয়ার সময়সীমা আরও তিন বছর পিছিয়ে ২০২৯ সাল পর্যন্ত করার আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকটকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে এই প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়ে আগামী ২৯ এপ্রিল জাতিসংঘের ‘কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি’র (ইউএনসিডিপি) ভার্চুয়াল শুনানিতে নিজেদের জোরালো অবস্থান ব্যাখ্যা করবে সরকার।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান জানিয়েছেন, সরকার মূলত তিনটি বড় চ্যালেঞ্জকে এই দাবির ভিত্তি হিসেবে সামনে আনছে। এর মধ্যে প্রস্তুতির বড় ঘাটতি ও মৌলিক সংস্কারগুলো অপূর্ণ থাকার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অভিঘাতকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার আরেক এলডিসিভুক্ত দেশ নেপাল এবং লাও পিডিআর-এর চলতি বছরের ২৪ নভেম্বর এই তালিকা থেকে উত্তরণের কথা ছিল। তবে নেপালও ইতিমধ্যে তিন বছরের সময় বৃদ্ধির আবেদন করায় বাংলাদেশের দাবিটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও শক্তিশালী হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জাতিসংঘকে জানানো হয়েছে যে, দেশের আর্থিক খাতের নাজুক অবস্থা, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার ফলে রপ্তানি মন্দার কারণে এই মুহূর্তে উত্তরণ ঘটলে অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে। এছাড়া উচ্চ সুদের হার এবং বিনিয়োগ পরিবেশে অনিশ্চয়তাও এই উত্তরণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।
জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনেও বাংলাদেশের অর্থনীতির বেশ কিছু উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.১ শতাংশ থাকলেও ২০২৫ অর্থবছরে তা ৩.৫ শতাংশে নেমে এসেছে। শিল্প খাতের মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি ৫.১ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ২.৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা সরাসরি বিনিয়োগ মন্দার ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া মজুরির চেয়ে মূল্যস্ফীতি বেশি হওয়ায় এবং গত দুই বছরে প্রায় ১৯ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হারানোর ফলে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার ৩০.৮ শতাংশে পৌঁছানো এবং রাজস্ব আয়ের ৩৬ শতাংশই ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হওয়াকেও বড় সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগামী ২৯ এপ্রিল শুনানির পর ইউএনসিডিপি তাদের সুপারিশ আগামী জুনে জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিল এর কাছে জমা দেবে। এরপর সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভোটের মাধ্যমে এই আবেদনটির চূড়ান্ত ভাগ্য নির্ধারিত হবে। এলডিসি উত্তরণ ঘটলে বাংলাদেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ রপ্তানি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা হারাবে, যার ফলে বছরে প্রায় ১৭.৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় কমার শঙ্কা রয়েছে। এই বিশাল ক্ষতি সামাল দিতে এবং একটি টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আরও সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের ২য় ম্যাচ: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা: দেখুন সবগুলো প্রশ্নের সঠিক সমাধান
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ, আবেদন শুরু
- সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট
- ফের ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ
- সকালে না রাতে, কখন গোসল করা স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ভালো?
- ৪৭তম বিসিএস ভাইভার সময়সূচি প্রকাশ
- দর্শন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার রায়ের মৃ’ত্যু
- স্কুল-কলেজের প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ পরীক্ষার ফল আজই
- স্কলারশিপ দিচ্ছে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়, জেনে নিন আবেদন পদ্ধতি
- বিনিয়োগকারীদের অর্থ সুরক্ষায় কড়াকড়ি, সিএমএসএফে নতুন সিদ্ধান্ত
- দেশে সোনার দামে বড় পতন
- শিরীন সুলতানা ও নিলোফার মনিকে ঢাবি অ্যালামনাই’র অভিনন্দন
- বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১০০ ধাপ এগিয়েছে ঢাবি, যৌথভাবে দেশসেরা
- লন্ডনে বৈশাখী উৎসব ঘিরে ঢাবি অ্যালামনাই ইউকে’র নতুন যাত্রা