ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩

৫১% থেকে এক লাফে ৮%: কানাডায় ভারতীয় শিক্ষার্থীদের হার এখন তলানিতে

২০২৬ এপ্রিল ২৩ ১৮:৫৫:০২

৫১% থেকে এক লাফে ৮%: কানাডায় ভারতীয় শিক্ষার্থীদের হার এখন তলানিতে

ইনজামামুল হক পার্থ: কিছুদিন আগেও বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ভারতীয় শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে পছন্দের গন্তব্য ছিল কানাডা। তবে কঠোর ভিসানীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সংকট এবং দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে দেশটির প্রতি সেই আকর্ষণ এখন দ্রুত কমে আসছে।

ভারতের একটি শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শোভিত আনন্দ জানান, ২০২৩ সাল পর্যন্ত তাদের অধিকাংশ আবেদনই ছিল কানাডা কেন্দ্রিক। কিন্তু বর্তমানে আবেদন প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে।

কানাডার অডিটর জেনারেলের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভারতীয়দের অংশ ছিল মাত্র ৮ দশমিক ১ শতাংশ। অথচ ২০২৩ সালে এই হার ছিল ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক কারণেই কানাডার প্রতি ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমছে। ২০২৪ সালের শুরুতে কানাডা সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তির সংখ্যা দুই বছরের জন্য সীমিত করে দেয়। স্নাতক ও ডিপ্লোমা পর্যায়ে বছরে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার স্টাডি পারমিট নির্ধারণ করা হয়, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ওপর।

এর পাশাপাশি দেশটিতে বাড়িভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক গ্যারান্টিড ইনভেস্টমেন্ট সার্টিফিকেট (GIC) ১০ হাজার কানাডিয়ান ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলারের বেশি করা হয়েছে, যা মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আইসিইএফ মনিটরের (ICEF Monitor) তথ্য অনুযায়ী, কানাডায় স্টাডি পারমিট প্রত্যাখ্যানের হারও বেড়েছে। ২০২৩ সালে যেখানে এটি ছিল ৩৮ শতাংশ, ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৫২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

শিক্ষা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারতীয় শিক্ষার্থীদের মতো মূল্যসংবেদনশীল বাজারে ভিসা প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি বড় প্রভাব ফেলছে। অনেক শিক্ষার্থী ও পরিবার এখন বিদেশে পড়াশোনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও সতর্ক হচ্ছে।

এছাড়া কানাডার কিছু বেসরকারি কলেজ দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও সেখানে শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি স্নাতকদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

দিল্লির শিক্ষা পরামর্শক শোভিত আনন্দের এক সাবেক শিক্ষার্থী দুই বছর আগে কানাডায় গিয়ে পড়াশোনা শেষ করলেও স্থায়ী চাকরি না পেয়ে খণ্ডকালীন কাজ করে জীবিকা চালাতে বাধ্য হন এবং পরে দেশে ফিরে আসেন।

একসময় কানাডায় পড়াশোনাকে স্থায়ী বসবাস ও উন্নত ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু এখন সেই ধারণায় পরিবর্তন এসেছে। অনেকের কাছেই কানাডা এখন আর নিশ্চিত পরিকল্পনা নয়, বরং ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

বিশ্লেষকদের মতে, কানাডার স্টাডি পারমিট একসময় যেভাবে স্বপ্নের দরজা খুলে দিত, বর্তমানে তা অনেক শিক্ষার্থীর কাছে অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির প্রতীক হয়ে উঠেছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

দেশে সোনার দামে বড় পতন

দেশে সোনার দামে বড় পতন

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বর্ণবাজারে আবারও দামের সমন্বয় আনলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ—ভরিতে কয়েক হাজার টাকা কমে নতুন দর কার্যকর হয়েছে।বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন(বাজুস) এ... বিস্তারিত