ঢাকা, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২

রোববার থেকে দেওয়া হবে হামের টিকা

২০২৬ এপ্রিল ০৩ ১৭:৩৬:২৯

রোববার থেকে দেওয়া হবে হামের টিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে হাম নিয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক তথ্য ও সচেতনতাই এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। অযথা আতঙ্ক না ছড়িয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

হাম কী?

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি, কাশি বা কথা বলার সময় বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ড্রপলেটের মাধ্যমে এটি সহজেই অন্যদের মধ্যে ছড়াতে পারে। এমনকি ভাইরাসটি বাতাস বা কোনো বস্তুর ওপর প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে সক্ষম। সাধারণত সংক্রমণের ১০-১৪ দিন পর লক্ষণ প্রকাশ পায়।

লক্ষণ ও ঝুঁকি

হামের প্রাথমিক লক্ষণকে 3C দিয়ে বোঝা যায় কফ, কোরাইজা (সর্দি) এবং কনজাংকটিভাইটিস (চোখ লাল হওয়া)। এর পাশাপাশি তীব্র জ্বর, মুখের ভেতরে কপ্লিক স্পট এবং কয়েকদিন পর শরীরে র‌্যাশ দেখা দেয়, যা মুখ থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

৫ বছরের কম বয়সি শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে। অপুষ্ট শিশুদের ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক রূপ নিতে পারে। হাম থেকে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ এবং মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।

কারা পাবে হামের টিকা

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, আগামী রোববার থেকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন শুরু করা হবে। স্বল্পতম সময়ের মধ্যে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

এর আগে ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সি শিশুদেরই হামের টিকা দেওয়া হতো। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে টিকাদানের বয়সসীমায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়স পর্যন্ত শিশু-কিশোররা টিকা নিতে পারবে। যেসব এলাকায় সংক্রমণ বেশি, সেসব এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদান শুরু হবে।

প্রতিরোধ ও প্রতিকার

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা গ্রহণ। এমআর (মিসেলস-রুবেলা) বা এমএমআর (মিসেলস-মাম্পস-রুবেলা) টিকা নিরাপদ ও কার্যকর। সাধারণত ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ দেওয়া হয়, যা দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা প্রদান করে।

আক্রান্ত শিশুর ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং অন্যদের থেকে আলাদা রাখা জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

হাম প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সমাজে অন্তত ৯৫% মানুষ টিকা গ্রহণ করলে রোগটির বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই নিজের শিশুর পাশাপাশি আশপাশের সব শিশুর টিকাদান নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত