ঢাকা, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
রোববার থেকে দেওয়া হবে হামের টিকা
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে হাম নিয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক তথ্য ও সচেতনতাই এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। অযথা আতঙ্ক না ছড়িয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
হাম কী?
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি, কাশি বা কথা বলার সময় বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ড্রপলেটের মাধ্যমে এটি সহজেই অন্যদের মধ্যে ছড়াতে পারে। এমনকি ভাইরাসটি বাতাস বা কোনো বস্তুর ওপর প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে সক্ষম। সাধারণত সংক্রমণের ১০-১৪ দিন পর লক্ষণ প্রকাশ পায়।
লক্ষণ ও ঝুঁকি
হামের প্রাথমিক লক্ষণকে 3C দিয়ে বোঝা যায় কফ, কোরাইজা (সর্দি) এবং কনজাংকটিভাইটিস (চোখ লাল হওয়া)। এর পাশাপাশি তীব্র জ্বর, মুখের ভেতরে কপ্লিক স্পট এবং কয়েকদিন পর শরীরে র্যাশ দেখা দেয়, যা মুখ থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
৫ বছরের কম বয়সি শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে। অপুষ্ট শিশুদের ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক রূপ নিতে পারে। হাম থেকে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ এবং মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।
কারা পাবে হামের টিকা
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, আগামী রোববার থেকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন শুরু করা হবে। স্বল্পতম সময়ের মধ্যে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
এর আগে ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সি শিশুদেরই হামের টিকা দেওয়া হতো। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে টিকাদানের বয়সসীমায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়স পর্যন্ত শিশু-কিশোররা টিকা নিতে পারবে। যেসব এলাকায় সংক্রমণ বেশি, সেসব এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদান শুরু হবে।
প্রতিরোধ ও প্রতিকার
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা গ্রহণ। এমআর (মিসেলস-রুবেলা) বা এমএমআর (মিসেলস-মাম্পস-রুবেলা) টিকা নিরাপদ ও কার্যকর। সাধারণত ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ দেওয়া হয়, যা দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা প্রদান করে।
আক্রান্ত শিশুর ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং অন্যদের থেকে আলাদা রাখা জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
হাম প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সমাজে অন্তত ৯৫% মানুষ টিকা গ্রহণ করলে রোগটির বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই নিজের শিশুর পাশাপাশি আশপাশের সব শিশুর টিকাদান নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আকিজ গ্রুপে চাকরি, আবেদন ৯ অক্টোবর পর্যন্ত
- ঢাবির শহীদুল্লাহ্ হলের শিক্ষার্থী মুরাদের আকস্মিক মৃ/ত্যু
- একসঙ্গে ৬৮ এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার করল সরকার, দেখুন তালিকা
- প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র
- ৩৯ পদে ১০০ জনকে নিয়োগ দেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ সেপ্টেম্বর)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৯ সেপ্টেম্বর)
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ সালমান মুক্তাদিরের
- ৪৩ পদে নিয়োগ দেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, আবেদন অনলাইনে
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত
- তিন পদে ৩৫ জনকে নিয়োগ দেবে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়
- মাসে ৩৫শ রিঙ্গিত বৃত্তিতে মালায়ায় পিএইচডির সুযোগ
- এইচএসসি উত্তীর্ণদের বৃত্তি দেবে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক, জানুন বিস্তারিত
- ওয়ালটনে টেরিটরি সেলস ম্যানেজার পদে নিয়োগ
- একাদশে দ্বিতীয় ধাপে আবেদনের সুযোগ, আবেদন করবেন যেভাবে