ঢাকা, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২

কিশোরগঞ্জে শোলাকিয়ায় ৬ লাখ মুসল্লি নিয়ে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত

২০২৬ মার্চ ২১ ১৪:১৮:৩২

কিশোরগঞ্জে শোলাকিয়ায় ৬ লাখ মুসল্লি নিয়ে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদুল ফিতরের দিন কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান আবারও পরিণত হলো এক বিশাল ধর্মীয় মিলনমেলায়। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের উপস্থিতিতে ১৯৯তম ঈদের এই জামাত সৃষ্টি করে এক অনন্য আবহ।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১০টায় চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে অনুষ্ঠিত এই জামাতে অংশ নেন প্রায় ছয় লাখ মুসল্লি। দেশের সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন ঈদ জামাতগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম, যা সাম্প্রতিক সময়ের বৃহত্তম সমাগম হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

সকাল থেকেই মুসল্লিরা দলে দলে ঈদগাহমুখী হতে থাকেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো ময়দান ভরে যায় এবং সকাল ৯টার মধ্যেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে শোলাকিয়া মাঠ। জায়গা না থাকায় অনেকেই আশপাশের সড়ক, খোলা জায়গা ও দূরবর্তী স্থানে কাতারবদ্ধ হয়ে নামাজ আদায় করেন।

ঐতিহ্য অনুযায়ী, জামাত শুরুর আগে তিন ধাপে শটগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে সংকেত দেওয়া হয় ১০ মিনিট আগে ৫টি, ৫ মিনিট আগে ৩টি এবং ১ মিনিট আগে ২টি। এরপর নির্ধারিত সময়ে জামাত শুরু হয়। ইমামতি করেন বড়বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও অগ্রগতির জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পাশাপাশি ফিলিস্তিনের মুসলমানদের জন্যও দোয়া করা হয়।

দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে রেল কর্তৃপক্ষ ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চালু করে একটি ময়মনসিংহ থেকে এবং অন্যটি ভৈরব থেকে। ঈদের আগের দিন থেকেই কিশোরগঞ্জে মানুষের ঢল নামে। দেশের ৬৪ জেলা ছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত মুসল্লিরা আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, মসজিদ কিংবা খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করেন।

জামাতকে ঘিরে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠে মোতায়েন ছিল ৫ প্লাটুন বিজিবি, ৪ প্লাটুন সেনাবাহিনী, ১১০০ পুলিশ সদস্য, র‍্যাবের ৬টি টিম ও আনসার সদস্যরা। দায়িত্ব পালন করেন ১১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা, ৬টি ওয়াচ টাওয়ার এবং ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হয়। মুসল্লিদের সহায়তায় স্বেচ্ছাসেবক ও চিকিৎসক দল কাজ করে এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থাও রাখা হয়।

জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, দেশ-বিদেশ থেকে আগত বিপুলসংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতিতে এবারের জামাত ছিল স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ। প্রশাসনের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ সম্পন্ন হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে জামাতে অংশ নেন পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. শরীফুল আলম। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি দেশবাসীর শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া কামনা করেন। এছাড়াও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

শতবর্ষের ঐতিহ্য বহন করা এই ঈদগাহের নামকরণের পেছনেও রয়েছে ইতিহাস প্রথম জামাতে সোয়া লাখ মুসল্লির অংশগ্রহণের কারণে এর নাম ছিল ‘সোয়া লাখিয়া’, যা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়ে ‘শোলাকিয়া’ নামে পরিচিতি পায়।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত